Pictures

বাংলাদেশে সংখ্যলঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় নিউইয়র্কে প্রতিবাদ সভা


ইউএসএ নিউজ অনলাইন.কম : বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধের দাবিতে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় অবিলম্বে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্যে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রবাস থেকে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলা হবে বলে সভায় হুশিয়ার উচ্চারন করা হয়।

স্থানীয় সময় ২৬ জানুয়ারি রোববার ব্রঙ্কসের মামুন’স টিউটোরিয়াল মিলনায়তনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা শক্তি পদ রায়ের সভাপতিত্বে এবং কমিউনিটি এক্টিভিস্ট তপন সেন ও অঞ্জন দেব নাথের যৌথ পরিচালনায় এ প্রতিবাদ সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক লেখক প্রদীপ মালাকার।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. বশির আহমদ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ডাইরেক্টর ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ নেতা আবদুর রহিম বাদশা, যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নবেন্দু বিকাশ দত্ত, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ নেতা মো: সোলায়মান আলী, মূলধারার রাজনীতিক মামুন’স টিউটরিয়ালের প্রিন্সিপাল শেখ আল মামুন, ডা: টমাস দুলু রায়, মূলধারার রাজনীতিক আবদুস শহীদ, চলচ্চিত্রকার কবীর আনোয়ার, অরবিন্দ বিশ্বাস, দেব ব্রত পোদ্দার, কেশব লোধ, জবিন মন্ডল, ম্যাম দাস বৈদ্য, রতেœশ্বর সাহা, অমৃতা রায়, রতন চক্রবর্তী, কানু দত্ত প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই একই ঘটনা বার বার ঘটছে। সভায় দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের মাধ্যমে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচারের জোর দাবী জানানো হয়।
সভায় দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণ ও অত্যাচার-নির্যাতনের জন্য জামায়াত-শিবির মৌলবাদী চক্র এবং তাদের রাজনৈতিক সহযোগী বিএনপিকে দায়ি করে বলা হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির মৌলবাদী শক্তিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
সভায় বক্তারা ২০০১ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নির্যাতনে দোষী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে আইনের আওতায় এনে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার আইন অথবা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বক্তারা জরুরী ভিত্তিতে সমগ্র দেশে নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘুদের পুনর্বাসনের জোর দাবি জানান।
বক্তারা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি নিরাপত্তা আইন প্রণয়নেরও দাবি জানান।
সভায় বক্তারা ’৭২-এর সংবিধান পুনর্বহাল ও সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সভায় দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও তাদের শাস্তি কার্যকর করারও দাবি জানান বক্তারা।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর ওপর অত্যাচার বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হলে প্রবাস থেকে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সভায় বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধের দাবিতে এবং অবিলম্বে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে স্মারকলিপি প্রদান সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়।
সভায় বিপুল সংখ্যক লোকের সমাগম হয়।