USA

বাংলাদেশী সেন্টুর ঘাতক গ্রেফতার দাবিতে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কে বিক্ষোভ


ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক রিপোর্ট : বাড়ির ড্রাইভওয়েতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশী মোস্তাফিজুর রহমান সেন্টু নিহত হবার ৫ দিন পরও ঘাতক গ্রেফতার না হওয়ায় ১৬ জুন শুক্রবার প্রবাসীরা বিক্ষোভ করলেন ক্যালিফোর্নিয়া এবং নিউইয়র্কে। নিউইয়র্কের বিক্ষোভ থেকে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কঠোর সমালোচনা করা হয়। এদিকে, ১৬ জুন শুক্রবার বাদ জুমআর আততায়ীর গুলিতে নিহত জামালপুর জেলা সদরের পিয়ারপুরের সন্তান মোস্তাফিজুর রহমান সেন্টু (৫০) এর জানাযা অনুষ্ঠিত হয় ক্যালিফোর্নিয়ার বেকার্সফিল্ড সিটির ডাউন টাউন মসজিদে। বিপুলসংখ্যক রোজাদার মুসল্লী এত অংশ নেন এবং ঘন্টাখানেক পরই তাকে স্থানীয় হিলক্রেস্ট গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় প্রবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, ‘এটি নিছক কোন হত্যাকান্ড নয়; এটি ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক হত্যাকান্ড। কারণ, তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে ৮বার গুলি করা হয়। এরমধ্যে ৫টি বুলেট বাম বুকেই বিদ্ধ ছিল।’ ময়না তদন্তের রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গুলি চালানো হয়েছে।

এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে ঘাতক গ্রেফতার দাবিতে নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভানেত্রী ও জামালপুর জেলা সমিতির সভাপতি মোর্শেদা জামান বলেন, ‘প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও বাংলাদেশীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে সেন্টুর মত অসহায় মৃত্যু আর কারো হয়নি। রাতের শিফটে কাজ শেষে ভোরে বাসায় ফিরে এমন করুণ মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না।’

আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি লাবলু আনসার বলেন, ‘নৃশংসভাবে হত্যার পর ৫দিন অতিবাহিত হলো, এখন পর্যন্ত ঘাতককে শনাক্ত করাই সম্ভব হয়নি, গ্রেফতার দূরের কথা। এভাবেই বাংলাদেশী-আমেরিকানরা বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার হচ্ছেন।’ ‘গত তিন বছরে নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, আলাবামা, ওকলাহোমা, নিউজার্সি প্রভৃতি অঙ্গরাজ্যে ১৫ বাংলাদেশীর প্রাণ গেছে দুর্বৃত্তের হাতে। এছাড়া, অর্ধ শতাধিক বাংলাদেশী আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর মধ্যে একমাত্র সেন্টুর ঘাতকই এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি। অর্থাৎ ক্যালিফোর্নিয়ার পুলিশ এ নিয়ে আন্তরিক অর্থে সোচ্চার হয়নি বলে মনে করার যথেষ্ঠ কারণ রয়েছে’-অভিযোগ করেন লাবলু আনসার। 

একাত্তরের সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সদস্য-সচিব রেজাউল বারী বলেন, ‘এখন সময় খারাপ। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে হবে যে, বাঙালিরাও ভোটে বড় একটি শক্তি।’ পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতা আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘ছোট ছোট ৩টি সন্তান এবং স্ত্রী রয়েছে সেন্টুর। তিনি নিরাপদ জীবন-যাপনের মধ্য দিয়ে সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে ৭ বছর আগে এসেছিলেন আমেরিকায়। কিন্তু ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হয়ে তাকে চলে যেতে হলো। আমরা এমন পরিস্থিতি দেখতে চাই না।’

যুক্তরাষ্ট্র ল’ সোসাইটির নেতা এডভোকেট মোহাম্মদ আলী বাবুল বলেন, ‘যেখানেই আক্রমণ হবে, সেখানেই সকলকে সোচ্চার হতে হবে। অন্যথায় এহেন পরিস্থিতি চলতেই থাকবে।’যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা সমিতির সাবেক সভাপতি ফরিদ আলম বলেন, ‘সেন্টুর ঘাতক গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের রাজপথে সোচ্চার থাকতে হবে।’যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারেকুল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং কন্সাল জেনারেলকে মার্কিন প্রশাসনের সাথে দেন-দরবারের প্রয়োজন রয়েছে এমন হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘাতকদের বিচার নিশ্চিতকল্পে।’

সমাবেশে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের যুক্তরাষ্ট্র শাখার আহবায়ক রাশেদ আহমেদ, কম্যুনিটি লিডার ফিরোজ মাহমুদ, কুইন্স যুবলীগের সভাপতি নান্টু মিয়া প্রমুখ। সকলের হাতই ছিল হত্যাকান্ড এবং হেইট ক্রাইম বিরোধী পোস্টার, প্লেকার্ড। এ সময় আশপাশের ভিনদেশীরাও সেন্টুর ঘাতককে অবিলম্বে গ্রেফতার দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ১২ জুন সোমবার ভোর ৫টায় লসএঞ্জেলেস সিটি থেকে ১৮০ মাইল দূর বেকার্সফিল্ড সিটির নিজ বাসার ড্রাইভওয়েতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সেন্টু। এই সিটিতে সকলেই বিত্তশালী এবং শিখ সম্প্রদায়ের আধিপত্য প্রবল। সবকিছু তারাই ডমিনেট করেন। বাংলাদেশী মাত্র ২০/২৫ পরিবার রয়েছেন। সেন্টু টাক্সি ড্রাইভিংয়ের মধ্য দিয়ে ‘আমেরিকান এক্সপ্রেস ট্যাক্সি’ নামক কোম্পানী খুলেছিলেন। যা খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এটিই তার জন্যে কাল হয়েছিল কিনা, সে সন্দেহও রয়েছে প্রবাসীদের মধ্যে। এনআরবি নিউজ