USA

বাংলাদেশের বোলাররা পারলেন না, ৯ উইকেটে জিতে ফাইনালে ভারত


ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের বোলাররা তেমন কিছুই করতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হাতে রেখেই ভারত বাংলাদেশের ২৬৪ রান টপকে গেল। দ্বিতীয় উইকেটে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির অবিচ্ছিন্ন থেকে শেষ করেন খেলা। ১৭৮ রান তোলেন তারা। রোহিত অপরাজিত থাকেন ১২৭ রানে। ১২৯ বলের ইনিংসে তিনি ১৫ চার ও এক ছক্কা হাঁকান। ২০১৫ বিশ্বকাপেও তিনি বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। আর কোহলি সেঞ্চুরি মিস করেন মাত্র চার রানের জন্য। ৭৮ বলে ৯৬ রান করেন ১৩ চারে। ম্যাচসেরাও হন রোহিত শর্মা। রোববার ফাইনালে ভারত মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
ভারতের ৮৭ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙলেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ১৪.৪তম ওভারে বাংলাদেশের পেসার মাশরাফির ডেলিভারিতে পয়েন্টে মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন শিখর ধাওয়ান। মারকুটে ইনিংসে ৩৪ বলে ৪৬ রান করেন এ ভারতীয় ওপেনার। এতে ধাওয়ান হাঁকান ৭টি চার ও একটি ছক্কা। এতে আসরে সর্বাধিক রান সংগ্রহে বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে যান তিনি। আসরে চার ইনিংসে ধাওয়ানের সংগ্রহ ৩১৭ রান। চার ম্যাচে তামিম ইকবালের সংগ্রহ ২৯৩।
১০ ওভারে ভারত ৬৩/০
ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান দারুণ শুরু করেছেন। তারা বাংলাদেশের বোলারদের কোন পাত্তাই দিচ্ছেন না। ১০ ওভারে তারা তুলে নিয়েছে ৬৩ রান। ধাওয়ান ৩২ আর রোহিত করেছেন ৩১ রান।
ভারতের টার্গেট ২৬৫
নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬৪ রান করতে পেরেছে বাংলাদেশ। জিততে হলে ভারতকে ২৬৫ রান করতে হবে। ২২৯ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর অষ্টম উইকেটে মাশরাফি ও তাসকিন অপরাজিত থেকে ৩৬ রান যোগ করেন। অধিনায়ক মাশরাফি ২৫ বলে ৩০ রান করেন ্টার তাসকিন ১৪ বলে করেন ১০ রান। এর আগে মাহমুদুুল্লাহ ও মোসাদ্দেক সুবিধা করতে পারেন নি। মাহমুদুল্লাহ ২৫ বলে ২১ আর মোসাদ্দেক ২৬ বলে ১৫ রান করেন। ভারতের বুমরাহ, ভুবনেশ্বর ও কেদার যাদব ২টি করে উইকেট নেন।
অল্প ব্যবধানে বিদায় তামিম-সাকিব-মুশফিকের
২৫ রানের ব্যবধানে উইকেট দিয়ে সাজঘরে ফিরলেন তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহীম। দলীয় ২৮তম ওভারের শেষ বলে দলীয়  ১৫৪ রানে উইকেট দেন ওপেনার তামিম ইকবাল। তৃতীয় উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়েন তামিম ও মুশফিক।
৩৪.২তম ওভারে ভারতীয় বাঁ-হাতি স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজার ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাকিব। ব্যক্তিগত ৬১ রানে বিরাট কোহলির হাতে ক্যাচ দেন মুশফিক। তামিম ও মুশফিকের উইকেট নেন ভারতের অকেশনাল স্পিনার কেদার যাদব।  
এর আগে চার হাঁকিয়ে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করেন তামিম ইকবাল। ৬২ বলের ইনিংসে তামিম হাঁকান চারটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা। আর ২৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ পৌঁছে ১৪২/২-এ। বল হাতে দাপুটে চেহারা দেখাচ্ছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। তবে ভারতের এই সুইং বোলারের টানা তিন ডেলভারিতে চার হাঁকালেন মুশফিকুর রহীম। ১০ ওভারের শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ পৌঁছে মেঘলা আকাশের নিচে ব্যাট হাতে ইনিংসের শুরুতে ধৈর্য্য দেখানোর দরকার ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু তেমনটি পারলেন না টাইগাররা। প্রথম ওভারের শেষ বলে শট খেলতে গিয়ে প্লেডঅন হয়ে যান বাংলাদেশ ওপেনার সৌম্য সরকার। আর শট হাঁকাতে গিয়েই পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ওয়ানডাউন ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান। দু’জনকেই সাজঘরের পথ দেখান ভারতের সুইং বোলার ভুবনেশ্বর কুমার। ২১ বলে ১৯ রান করেন সাব্বির। এতে সাব্বির হাঁকান ৪টি চার। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার এজবাস্টনে মেঘলা আকাশের নিচে টস হয় একটু দেরিতে। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। বাংলদেশ দলে খেলোয়াড়ের পরিবর্তন নেই। ২০১৫‘র সিরিজে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে ওয়ানডে অভিষেকে আলোড়ন তোলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ওই সিরিজের তিন ম্যাচে মোস্তাফিজ নেন যথাক্রমে ৫, ৬ ও ২ উইকেট। ওই ওয়ানডে সিরিজের পর ভারতের বিপক্ষে প্রথমবার খেলতে নামছেন মোস্তাফিজ। ওয়ানডেতে পরস্পর সাক্ষাতে ২৬ হারের বিপরীতি বাংলাদেশ জয় দেখেছে পাঁচবার। তবে শেষ চার সাক্ষাতে বাংলাদেশ-ভারতের হারজিত ২-২।
বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। মানবজমিন


Leave a Comment