USA

জিয়াউর রহমান দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বীজ বপণ করেছিলেন : নিউইয়র্কে জাতীয় শোক দিবস সমাবেশে ড. গোলাপ


ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বীজ বপণ করেছিলেন। জেনারেল এরশাদের হাত ধরে পরবর্তিতে বেগম জিয়ার আমলে সেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মাথাছাড়া দিয়ে ওঠে। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে য়ায়। বঙ্গবন্ধু কন্যার বলিষ্ঠ নের্তৃত্বে দেশ আবার সুস্থ ধারায় ফিরে এসে এখন উন্নয়নের মহা সড়কে।নিউইয়র্কে ব্রুকলীনের রাঁধুনী রেষ্টুরেন্টে স্থানীয় সময় ৯ আগস্ট বুধবার রাতে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর ৪৩ তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারি ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ। নিউইয়র্ক ব্রুকলীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ও শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ সম্মিলিত উদ্যোগে মিলাদ দোয়া-মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। নিউইয়র্ক ব্রুকলীন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নজরুলের সভাপতিত্বে এবং উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব যুবলীগ নেতা আবু তাহেরের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুদ্দিন আজাদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, সহ সভাপতি লুৎফুল করীম, যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন, উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাসুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব মফিজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা ছাড়াও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি একেএম আলমগীর, মুক্তিযোদ্ধা হেদায়েত উল্লাহ মিন্টু, ব্রুকলীন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মঈন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রউফ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদুল হাসান প্রমুখ। আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, ১৫ আগস্টের কাল রাতে বঙ্গবন্ধুসহ শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের জীবিত সদস্যগণের দীর্ঘ্যায়ু কামনা করে দোওয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা সুলতান মাহমুদ। এসময় বঙ্গবন্ধুসহ দেশের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারের সফলতা ও উন্নয়ন কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরে ড. গোলাপ উল্লেখ করেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে ইতিহাসের ঘৃণ্যতম গ্রেনেড হামলাসহ দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তারা আবারও ক্ষমতায় গেলে দেশে ফের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশকে ধ্বংস করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। গণতন্ত্রের ধারবাহিকতা ছাড়া কোন দেশ সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। এজন্য ভোটের মাধ্যমে পুনরায় আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সকল দ্বিধা-বিভক্তি ভুলে প্রবাসীদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।ড. গোলাপ বলেন, বিএনপি, জামায়াত চক্র এখনও নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এই প্রবাসেও ওরা সক্রীয়। বঙ্গবন্ধুর খুনী এবং যুদ্ধাপরাধী অবস্থান করছে এখানে। তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাতিসংঘে আসছেন। এজন্য প্রবাসীদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে। সজাগ থাকতে হবে।ড. গোলাপ আরো বলেন করেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট। জিয়াউর রহমান যে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন, তার প্রমাণ তিনি নিজেই রেখে গেছেন। তিনি আরো বলেন, জিয়াই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের নেপথ্য নায়ক। তার কর্মকান্ডই তার সাক্ষী। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে এবং যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো তাকে ভুলুন্ঠিত করার জন্যই ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটনো হয়। এ হত্যাকান্ডের মাধ্যমে দেশের মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্ন, সম্ভাবনা, সব আশা-ভরসা ধূলিস্মাৎ করে দেয়া হয়।ড. গোলাপ আরো বলেন, শেখ হাসিনার সরকার সকল বাধা-বিঘœ অতিক্রম করে যেভাবে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করেছে, দেশের অর্থনীতির ভিতকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করিয়েছেন। তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নের্তৃত্বের কারণেই সম্ভব হচ্ছে। স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখা একমাত্র শেখ হাসিনার দ্বারাই সম্ভব। তিনি বাংলার কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, দেশকে দারিদ্র মুক্ত, উন্নত সমৃদ্ধ করতে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
’৭৫ পরবর্তী সময়ের পর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এখন সবচেয়ে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেন ড. গোলাপ।


Leave a Comment