USA

নিউইয়র্কের প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক দিগন্ত’র প্রদর্শনী ও আলোচনা


ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্ক থেকে নিয়মিত প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘দিগন্ত’। পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালের ১০ জানুয়ারি। পরবর্তীতে ঘোষনা দিয়ে তা বন্ধ করে দেয়া হয় ১৯৮৭’র ১৪ মে। আজ থেকে ৩২ বছর আগে বাংলা ভাষায় নিয়মিতভাবে পত্রিকা প্রকাশের সূচনা হয়েছিল এভাবেই। গত ৬ আগস্ট নিউইয়র্কের শিল্প সাহিত্যের সংগঠন বহুবচন ও দিগন্ত পরিবারের যৌাথ উদ্যোগে জ্যাামাইকার স্মার্ট একাডেমিয়া তে দিগন্ত পত্রিকার ‘প্রদর্শনী ও আলোচনা অনুষ্ঠান’ এর আয়োজন করা হয় । পত্রিকাটির সম্পাদক এবং ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন যথাক্রমে সানু মোজাম্মেল হোসেন ও শামস আল মমীন। আলোচনা সভায় বক্তারা পত্রিকাটির প্রকাশনা এবং এর ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন।আয়োজকরা দিগন্ত পত্রিকার প্রকাশিত সব সংখ্যাই (প্রায় ১২০ টি সংখ্যা) টেবিলের উপর সাজিয়ে রাখে যাতে করে দর্শনার্থীরা নিজ চোখে এবং নেড়ে চেড়ে তা দেখতে পারেন। এছাড়া অনুষ্ঠানস্থলে দেয়ালে টাঙানো ছিল এর ফটোকপিও। আর প্রথম সংখ্যাটির প্রথম পৃষ্টার ফটোকপি উপস্থিত সবাইকে দেয়া হয়।
দিগন্ত পত্রিকার পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক সানু মোজাম্মেল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কবি শামস আল মমীন, সহকারি সম্পাদক কামরুল আহসান, কর্মাধক্ষ শফিকুল ইসলাম, প্রতিবেদক সোহেল আহমদ জাকি, হাসান আহমদ সেলিম ওআনোয়ারুল আজম চৌধুরী। বহুবচনের অন্যতম কর্মকর্তা জনাব মুজিব বিন হক সবাইকে স্বাগত জানিয়ে শুরু করেন অনুষ্ঠান। সুচনা বক্তব্যে কবি ফকির ইলিয়াস বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ দিগন্তকে বরণ করে নিতে বরাবরই এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগেছেন। কিন্তু কেন আমি জানি না। সউদ চৌধুরী বলেন, আমি এর জন্মলগ্ন থেকে পত্রিকাটি দেখে আসছি, আমাদের উচিৎ ছিল একে রিকগনিশন দেয়া। বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহেরও প্রায় একই সুরে বলেন, আমাদের দরকার ছিল রিকগনিশন করা এবং সানু মোজাম্মেল হেসেনের সাথে বিভিন্ন সময়ে আলাপ আলোচনার কথাও স্মরণ করেন তিনি। পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, ‘ আমি দিগন্ত পত্রিকাটি মাঝে মাঝে কিনে পড়তাম এবং আমার বিল্ডিংয়ে কয়েকজন বাংলাদেশী আমার কাছ থেকে পত্রিকাটি নিয়ে যেতো এবং তারাও পড়ত।

দিগন্ত’র প্রতিবেদক আনোয়ারুল আজম চৌধুরী চাইনিজ প্রেস থেকে পত্রিকাটি পিক আপ করার সময় কতগুলো টিকিট খেয়েছেন এবং কিভাবে মাঝে মাঝে টিকিট খাওয়া থেকে বেঁচে গেছেন সেইসব অভিজ্ঞতার কথা বলে উপস্থিত দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শামস আল মমীন বলেন, আমরা এদেশে আসি রিগান, বুশ, ক্লিন্টন, ওবামার একেক সময়ে এবং আমরা কেউই জর্জ ওয়াশিংটনকে দেখি নাই কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তিনি আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন না। তিনি বলেন, প্রথম সন্তান চিরকালই প্রথম সে লেংড়া খোঁড়া যাই হোক।
অনুষ্ঠানে দিগন্ত’র প্রথম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে বর্ষপূর্তি সংখ্যা থেকে কবিতা আবৃত্তি করেন শুক্লা রায় ও আনোয়ার লাভলু। মুজিব বিন হক পড়েন উপসম্পাদকীয়টি। এর পর শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। পত্রিকাটি কেন বন্ধ করে দেয়া হয় জানতে চাওয়া হলে সম্পাদক সানু বলেন, আমরা সকলে তখন ছাত্র ছিলাম, পড়াশুনা শেষে তখন আমরা সকলেই প্রফেশনাল জব পেতে শুরু করি এবং চাকরীতে মনোযাগ দেওয়া আমাদের জন্য জরুরী হয়ে ওঠে। আর তাই আমরা ঘোষণা দিয়েই পত্রিকাটি বন্ধ করে দেই। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কবি শামস আল মমীন।