USA

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ১৭৩ জন ব্যবসায়ীর জাতিসংঘে কী কাজ?


ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তার সফরসঙ্গী হয়েছেন ১৭৩ জন ব্যবসায়ী।

প্রশ্ন উঠেছে, এত ব্যবসায়ী মিলে জাতিসংঘে করছেনটা কী? সেখানে তাদের কাজ কী?
এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের নেতৃত্বে ২০১৫ সালে ১১৯ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন। ‘বিপুলসংখ্যক’ ব্যবসায়ীর অংশ নেওয়ার সেই রেকর্ড এবার ভেঙে গেল। এবারে প্রধানমন্ত্রীর মূল সফরসঙ্গী ৫২ জন, যারা সরকারি খরচে জাতিসংঘে গেছেন। আর ১৭৩ সদস্যের যে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল রয়েছে তারা নিজ খরচে সফরসঙ্গী হয়েছেন। অনেকেই ভেবে পান না কোন যুক্তিকে এতসংখ্যক ব্যবসায়ীকে নিয়ে প্রতিনিধি দল গড়া হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যদিও ব্যবসায়ীরা নিজের খরচে যাচ্ছেন, এর পরও জাতিসংঘের অধিবেশনে এই ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের ভূমিকা কী হবে তার উত্তর আমার জানা নেই। ’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার মধ্যে নিশ্চয় কোনো প্রণোদনা রয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক লিঙ্ক একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেহেতু প্রতিবারই আলোচনা হয় এ ধরনের সফরসঙ্গী নিয়ে, সে ক্ষেত্রে সরকারের উচিত কী হিসেবে কে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন তার একটি নীতিমালা তৈরি করা। সে ক্ষেত্রে এ ধরনের বিতর্ক এড়ানো সম্ভব। ’ সূত্রগুলো জানায়, জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। ২১ সেপ্টেম্বর বিকালে জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ সভায় ভাষণ দেবেন তিনি। একই দিন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এরপর রাত ৮টায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন। এর আগে পানিবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের একটি প্যানেলের চতুর্থ বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে তার। এসব অনুষ্ঠানের কোনোটাতেই ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা নেই।

জানা গেছে, সাধারণ পরিষদের কর্মসূচি, বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠানে নির্ধারিত কিছু কর্মকর্তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকে। কিছু অনুষ্ঠানে সফরসঙ্গীদের মধ্যে নিমন্ত্রিত ব্যক্তিদেরই কেবল প্রবেশাধিকার থাকে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ অধিবেশনে এসব ব্যবসায়ীর অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন। এ ধরনের বক্তৃতার সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সর্বোচ্চ ১০ জন উপস্থিত থাকতে পারেন। এর বেশি লোকের জন্য পাস জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব এবং অনেক সময় তা অসম্মানজনক হয়ে পড়ে। ফলে চাইলেও ব্যবসায়ীরা এই অধিবেশনে অংশ নিতে পারবেন না। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা পিকনিক মুডে ঘোরাফেরা ও কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকেন। অনেক ব্যবসায়ী আবার একমুখো সফরসঙ্গী। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যান বটে, কিন্তু তার সঙ্গে ফেরেন না।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘জাতিসংঘ অধিবেশনে আসলে ব্যবসায়ীদের করার কিছু থাকে না। প্রধানমন্ত্রী গেছেন, সেখানে নানা ধরনের এজেন্ডা আছে। এর সব কটিতে হয়তো ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ থাকবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রপ্তানি খাতের সবচেয়ে বড় বাজার। তাই সফরসঙ্গী হিসেবে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বেড়েছে। অনেকে আবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়াটাকে “বিশেষ মর্যাদা”র মনে করেন। ’ বাংলাদেশ প্রতিদিন