USA

মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে পাশে দাঁড়ানোয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ : নিউইয়র্কে নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে নাগরিক সংবর্ধনায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে পাশে দাঁড়ানোয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে। স্থানীয় সময় গত ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কোয়ার সংলগ্ন ম্যারিয়ট মারকুইস হোটেলের গ্রান্ড বলরুমে ‘প্রবাসী নাগরিক সংবর্ধনা’ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। সংবর্ধনা সমাবেশে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখানো পথে বাংলাদেশ পরিচালিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও খ্যাতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।’ ‘বালাদেশ এখন উন্নয়ন আর শান্তির রোল মডেল।’ মানবিকতার প্রশ্নেও সারাবিশ্ব প্রশংসার সাথে বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ করছে। এসব অর্জনে প্রবাসীদের অকুন্ঠ সমর্থনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা কতে চাই।জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে যোগদানে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে এই সমাবেশের আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। সহযোগিতায় ছিলো যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।
সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তনয় ও আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় কীনোট স্পীকারের বক্তব্য দেন।ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়ার যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল হাসিব মামুন, আব্দুর রহিম বাদশা ও চন্দন দত্ত, প্রচার সম্পাদক হাজি এনাম (দুলাল মিয়া), জনসংযোগ সম্পাদক কাজী কয়েস, আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ বখতিয়ার, উপ দপ্তর সম্পাদক আবদুল মালেক, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য হিন্দাল কাদির বাপ্পা, মুজিবুল মাওলা, আলী হোসেন গজনবী ও রেজাউল করিম, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুন ভুইয়া, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, মেট্র ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী বাকি, ভার্জিনিয়া স্টেট আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিক পারভেজ, ম্যারিলেন্ড স্টেট আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ সেলিম, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা লীগের সভাপতি শাহনাজ মমতাজ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকন, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নূরজ্জামান সরদার, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হাসান প্রমুখ।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারি ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ, তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী পুলক, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আকতার হোসেন, মাহাবুবুর রহমান, সৈয়দ বসারত আলী. আবুল কাশেম, সামসুদ্দিন আজাদ ও লুৎফুল করিম, দপ্তর সম্পাদক প্রকৌ: মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খান, মুক্তিযোদ্ধা বিষযক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, ত্রাণ ও পূনর্বাসন সম্পাদক জাহাঙ্গির হোসেন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এম এ করিম জাহাঙ্গির, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুল বাতেন এমডি, আন্তর্জজাতিক বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান বজলু, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মিসবাহ আহমেদ, যুব বিষয়ক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান টুকু, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ফরিদ আলম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিরিন আক্তার দীবা, উপ দপ্তর সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, তৈয়বুর রহমান টনি, কার্যকরী সদস্য শাহানারা রহমান, আশরাফ মাসুক, সামছুল আবেদীন, খেরশেদ খন্দকার, শরীফ কামরুল আলম হীরা, ডেনী চৌধুরী, কামাল আহমেদ, আতাউল গনি আসাদ, আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীসহ আমেরিকার বিভিন্ন স্টেট কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট, বস্টন, ওয়াশিংটন মেট্র, ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, লসএঞ্জেলেস, শিকাগোসহ বিভিন্ন স্টেট থেকে নেতা-কর্মীরা আসেন সমাবেশে। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাত সাড়ে ৯টায় সমাবেশস্থলে এসে উপস্থিত হলে উৎফুল্ল নেতা-কর্মীদের মুহুর্মুহ স্লোগানে তাকে বরণ কওে নেন। রাত ১০ টায় তিনি বক্তব্য দিতে উঠেন। তিনি তার দীর্ঘ্য বক্তব্যের শুরুতেই স্মরণ করেন ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকান্ডে শাহাদতবরণকারী বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেসা মুজিব ও অন্যান্য শহীদদের, জাতীয় ৪ নেতাকে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের এবং সন্ত্রাসী হামলায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুল ইসলাম ও নিহত ইমামকে। তিনি বলেন, জাতির জনক তার পুরো জীবন মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন। তিনি একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি যুদ্ধ শেষের পরও সহযোগিদের সাহায্য নেননি। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে বলেছিলেন তার সৈন্য নিয়ে যাবার জন্য। তিনি বাংলাদেশকে দাঁড় করিয়েছেন। জাতিসংঘের সনদ লাভ করেছিলেন এবং বাংলা ভাষায় ভাষণ দিয়েছিলেন। ওআইসিসহ বিশ্বের অন্যান্য সংস্থায় বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেই কাজ সমাপ্ত করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ দিয়ে গেছেন। তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। আমরা দুই বোন বাইরে ছিলাম বলে বেঁচে যাই। আর সবাইকে হারিয়েছিলাম। আমরা ৬ বছর দেশের বাইরে ছিলাম। ১৯৮১ সালে আমি বিদেশে থাকা আবস্থায় আমাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়। আমি মানুষের ভালবাসায় দেশে ফিরে আসি। এই বাংলাদেশেই ১৯টি ক্যু হয়েছিলো। স্বাধীনতা বিরোধিরা ক্ষমতায় এসেছিলো। মন্ত্রী হয়েছিলো।তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময়সহ সব সময় প্রবাসী বাংলাদেশীরা সহযোগিতা করে আসছে। আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রয়েছে প্রবাসীদের। ২০০৭ সালে আমাকে দেশে যেতে বাধা দেয় তৎকালীন তত্ত¦াবধায়ক সরকার। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপ ও বাংলাদেশের মানুষের আন্দোলনের কারণে আমাকে দেশে যেতে দেয়া হয়। তখন আপনারা প্রবাসীরা জীবনের ঝুকি নিয়ে আমার সফরসঙ্গী হয়েছিলেন। সে জন্য ধন্যবাদ।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি আজ সারা দিন টানা অনুষ্ঠান করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম কিন্তু এই হলে ঢুকেই আমার সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল আপনাদের দেখে। আমাদের শক্তি মানুষের শক্তি। আমাদের প্রেরণার উৎস। আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করি। এই কয়েক বছরে যে উন্নতি হয়েছে তা স্মরণীয়। আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। তিনি বঙ্গবন্ধুর নীতির কথা স্মরণ করে বলেন, আমাদের নীতি হচ্ছে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়। সন্ত্রাস দমনে জিরো টলারেন্স নীতি এবং বাংলাদেশের ভূখন্ডের এক ইঞ্চি জমিও কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ব্যবহার করতে না দেয়ার ঘোষনা আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদসহ অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস নির্মূলে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বিশ্বের সকল দেশের সাথে সফল কূটনৈতিক সম্পর্কসৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব সমাজকে এন্টারপ্রেনিউর হিসেবে আত্মপ্রকাশ আজ বাংলাদেশকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।তিনি সরকারের নানামুখি উন্নয়নের কর্মকান্ড তুলে ধরে বলেন, তার তিন টার্ম শাসন কালে গণতান্ত্রিক সুশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিস্ময়কর উন্নতি বাংলাদেশকে আজ একটি নি¤œমধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরীত করেছে। যা আগামী ২০২১ এ মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ এ উন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হবে বলে বিশ্বসূচকে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনার দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন বিশ্বে আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। আগে পরিচয় ছিলো বন্যার দেশ, দুর্ভিক্ষের দেশ। আমরা বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করবো।শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি ঘোষণা করায় অনেকে ব্যঙ্গ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশ ডিজিটাল হচ্ছে। আমরা কৃষকদের ভর্তুকি দিচ্ছি, ৮০ ভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ দিচ্ছি, মানুষের মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন রান্না চলে বিদ্যুতে, রিক্সা চলে ব্যাটারিতে। ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ যাবে। যারা বন্যায় বাড়ি হারিয়েছে তাদের বিনা পয়সা বাড়ি করে দেব। তিনি আরো বলেন, এ সব উন্নয়নের কথা বলে ভোট বাড়াতে হবে, ইমেজ বাড়াতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা এলে দেশের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি এলে দুর্নীতি হয়, স্বজনপ্রীতি হয়। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেকের দুর্নীতির কথা আমেরিকায় প্রমাণ হয়েছে। তার শাস্তি হয়েছে। খালেদা জিয়া এতিমদের অর্থ মেরেছেন। যে কারণে তিনি কোর্টে যেতে ভয় পান।তিনি বলেন, আমরা দেশের উন্নতি করি, আর বিএনপি আগুন সন্ত্রাস করে মানুষ পুড়িয়েছে, প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। বেগম জিয়া অফিসে বসে মানুষ পোড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি জনগণের চাপে নাকে খত দিয়ে ঘরে ফিরে গেলেন, কোর্টেও গেলেন, কিন্তু সরকার হটানোর স্বপ্ন তার পূরণ হলো না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে ব্যবহার করে কেউ সন্ত্রাস করতে পারবে না।
তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের ইতিহাসের নির্মম ও বর্বর হত্যাকান্ড, ধর্ষন, বাড়ী-ঘওে অগ্নিসংযোগসহ দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে নির্যাতনে শিকার হয়ে রোহিঙ্গা আসছে। আমরা মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। ১৬ কোটি মানুষকে যদি খাওয়াতে পারি, ৬/৭ লাখ মানুষকে খাওয়াতে পারবো না কেন? শরনার্থীকে আশ্রয় প্রদান, খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি, স্বেচ্ছাসেবক দিয়েছি। তিনি বলেন, মায়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে, নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। আজকে আমি ওআইসির নেতাদেরও বলেছি, আপনারা চুপ কেন? আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্যই আমি এখানে এসেছি।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ার লক্ষে জাতির পিতার জীবন ও আদর্শকে ধারণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী জাতীয় নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সকল দ্বিধা-বিভক্তি ভুলে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, স্লোগান না দিয়ে দলের উন্নয়ন কর্মকান্ড মানুষের কাছে তুলে ধরুন, দলের জন্য কাজ করুন যাতে দল আবার ক্ষমতায় আসতে পারে। তিনি বলেন, ভোটার বাড়াতে হবে, মানুষের আস্থা বাড়াতে হবে। এসময় টিউলিপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেখেন কীভাবে তিনি মানুষের মন জয় করেছিলেন। প্রথমবার তিনি ১১০০ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। পরবর্তিতে ১৬ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়তে চাই। আগামী ২০২১ এ মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ এ উন্নত দেশে পরিণত করতে চাই।সজিব ওয়াজেদ জয় তার বক্তব্যে বলেন, এই মুহূর্তে সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে। খাদ্যের অভাব নেই, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে, সবাই শান্তিতে আছেন। এখন আমাদের সমস্য হচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা। তবে খুশির বিষয় হচ্ছে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি এবং খাদ্য দিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের উন্নয়নে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামীলীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে।ড. সিদ্দিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নের্তৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো জন্য, মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়ার আহবান জানান। তিনি সমাবেশে উপস্থিত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত ও দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ইমাম মাওলানা মীর্জা আবু জাফর বেগ। ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকান্ডে শাহাদতবরণকারী বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেসা মুজিব ও অন্যান্য শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। এছাড়া পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করেন ডা. টমাস দুলু রায়, পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন পন্ডিত শুভঙ্কর গাঙ্গুলী, পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ করেন স্বীকৃতি বড়–য়া। সংবর্ধনা সভায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, ফকির আলমগীর ও শহীদ হাসান, সঙ্গীত শিল্পী শাহ মাহবুব, সবিতা দাস, বিণা মজুমদার প্রমুখ। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অবিস্মরণীয় গান পরিবেশন করা হয় অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।উল্লেখ্য, ৫৫ ফুট দীর্ঘ একটি নৌকার ওপর স্থাপিত হয় সমাবেশ মঞ্চ। পেছনে ছিল মুক্তিযুদ্ধের জন্যে শুরু হওয়া আন্দোলনের ৬ দফা এবং টানা তৃতীয় টার্মের জন্যে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার প্রত্যয়-প্রতীক। এ উপলক্ষে ২০ মিনিটের একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। গত কয়েক বছরে আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামাত-শিবিরের নাশকতামূলক তৎপরতার আলোকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের তৈরী করা এ ডক্যুমেন্টারিটিতে ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড প্রতিহত করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কীভাবে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে-তা চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি ৮ পৃষ্ঠার একটি বুকলেট প্রকাশ করা হয়েছে শেখ হাসিনার রূপকল্পের পরিপূরক হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রকাশনা বিতরণ করা হয় অনুষ্ঠানে।