USA

৫০ বছর পর বাংলাদেশে ৩ ভাগের ২ ভাগ এলাকাতে দেখা দেবে মিঠাপানির ভয়াবহ সংকট


ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : ৫০ বছর পর বাংলাদেশে ৩ ভাগের ২ ভাগ এলাকাতে দেখা দেবে মিঠাপানির ভয়াবহ সংকট। নদীর গতি-প্রকৃতি হারানোর ফলে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা ও খরা। এরই মধ্যে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে পানি ঝুঁকির অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৫০ বছর পর দেশের ৭৫ ভাগেই দেখা দেবে মিঠা পানির সংকট। ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করার ফলে মিঠাপানির অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিভিন্ন সংস্থা।
পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ না থাকা, পলি ভরাট আর সাগরের নোনা পানি প্রবেশ করা এই তিন কারণেই বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে অনেক নদী। ফল হিসেবে খরা, বন্যার পাশাপাশি অনেক জেলায় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তিনটি জেলার বেশিরভাগ এলাকায় দুই যুগ ধরে রয়েছে জলাবদ্ধতা ও নিরাপদ পানি ব্যবহারের ঝুঁকি।
নাও-নদী ও ঢেউ জলে নদীমাতৃক বাংলাদেশ। কিন্তু দিন দিন মরে যাচ্ছে বাংলার নদী আর বাংলাদেশও হারিয়ে ফেলছে তার পরিচয়। শুষ্ক মৌসুমে ভুগছে খরায়, তেমনি নাব্যতা হারিয়ে নদীর পানি উপচিয়ে হচ্ছে বন্যা। আবার কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলে বছরের ৮-৯ মাসই থাকে পানির নিচে। নাব্য হারানোয় নদীর পানি প্রবাহিত হতে না পারায় আশেপাশে এলাকায় প্লাবিত হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ওই অঞ্চলে ৩৫ লাখ মানুষ ভাগ্যও ২০ বছর ধরে পানি বন্দি।
সাগরের তীরবর্তী অঞ্চলে ঢুকছে নোনা পানি। হারাচ্ছে মিঠা পানির প্রাপ্যতা। নদী-খাল-বিলে যখন ব্যবহার উপযোগী পানি নেই তখন বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানি।
জাতিসংঘের পানি বিষয়ক সংস্থা হিসাব বলছে, বিশ্বে সর্বোচ্চ পানি ঝুঁকিতে থাকা দেশ গুলোর তালিকায় উপরের দিকে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। ভূগর্ভস্থ পানি মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারি মূল কারণ। দেশে মোট পানির ৯০ শতাংশই মেটানো হয় ভূগর্ভস্থ পানি থেকে। সরকারি সংস্থার আশঙ্কা, ৫০ বছর পর বাংলাদেশে ৩ ভাগের ২ ভাগ এলাকাতে দেখা দেবে মিঠাপানির ভয়াবহ সংকট।
আরডব্লিউএন এর নির্বাহী পরিচালক ড. এম. মনোয়ার হোসেন বলেন, জাতিসংঘের রিপোর্ট যদি সত্য হয় তাহলে আরও লবণাক্ত পানি আসতে পারে। বলা যায় না ভবিষ্যতে কি অবস্থা হবে। সূত্র : চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর টিভি