USA

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে আন নূর মসজিদের প্রাক্তন ইমামের বিরুদ্ধে প্রতারনার অভিযোগ, মুসল্লীদের প্রতিবাদ, মসজিদের বাইরে নামাজ আদায়


ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : ব্রুকলীনে মসজিদ “নুর আল ইসলাম” এর সাবেক ইমাম গহর আহমেদ (Ghauhar Ahmed) মসজিদের নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে লিখিয়ে নিয়ে গত ২৪ নভেম্বর থেকে মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে মুসল্লীসরা, গত পহেলা ডিসেম্বর, শুক্রবার, বাদ-জুম্মা, এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। প্রায় তিন শতাধিক মুসল্লীদের উপস্থিতিতে ইমামের এই অনৈতিক কাজের প্রতি নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, ২০০১ সাল থেকে অদ্যাবধি নানান কৌশলে এই মসজিদকে কুক্ষিগত করে রেখেছে এই ইমাম। স্থানীয় মুসল্লীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায় য়ে, মসজিদ সংলগ্ন পূর্ব পাশের (২৩ চার্চ এভিনিউ) বাড়ী কেনার নাম করে মুসল্লীদের কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ আদায় করে, কিন্তু পাশের বাড়ী ক্রয় করে নাই। ফলে, স্থানীয় মুসল্লীরা তার নামে ২০১৫ সালে মসজিদের অর্থ কেলেংকারী ও কবর কেনা বেচার জালিয়াতির দায়ে মামলা দায়ের করে। ঐ মামলার Index no. ১৩০২২/২০১৫, Suprem Court, Kings County. নিশ্চিৎ মামলায় হেরে যাওয়ার ভয়ে সে (ইমাম গহর) বর্তমান কমিটির কাছে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার শর্তে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেয়। আসলে এটা ছিল তার সাজানো নাটক, যা পরবর্তীতে ধরা পড়ে। (মসজিদটা নিজের নামে করা/ মামলা থাকলে তা করা যাবে না)। গত ৮ আগস্ট, ২০১৭তে মসজিদ কমিটির কয়কজনকে মিশিগানে ডেকে নেয়। সেখানে বর্তমান কমিটির কামাল নাসেরের নিকট নোটারীর মাধ্যমে মসজিদ পরিচলনা কমিটির প্রসিডেন্ট ও ইমামতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন সর্বাঙ্গিনভাবে।
গত ১২ আগস্ট ২০১৭, সে (গহর) মিশিগান শরীয়া বোর্ডের ডঃ আবু সালাহ ও খন্দকার হক্ক সহ নিউ ইয়র্কে আসে। এবং আবু সালাহ, হক্ক ও স্থানীয় কিছু মুসল্লীদের উপস্থতিতে মসজিদ নুর আল ইসলামে মিলনায়তনে বসে আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্তমান কমিটির নিকট মসজিদের দায়িত্ব ও চাবি হস্তান্তর করে। কিন্তু অত্যন্ত ধূর্ত এই ইমাম গহর এই ৫ আগস্ট ‘১৭ তে মসজিদকে নিজের নামে করার জন্য বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টে মসজিদের ট্রাস্টি বোর্ড পরিবর্তনের দরখাস্ত দেয়, যা কমিটি পরে জানতে পারে। সর্বশেষে, মসজিদ নুর আল ইসলামকে সেলার দেখিয়ে, Islam Communiyu Trust কে buyer দেখিয়ে নিজের নামে ১০ ডলার দিয়ে ক্রয় করে নেয়। উল্লেখ্য “ISLAM COMMUNITY TRUST” এর মালিক ইমাম গহর নিজে। মসজিদের নিজেই ত্রেুতা নিজেই বিত্রেুতা। এতে প্রমাণিত হয় যে, ৮ আগস্টের আনুষ্ঠানিকতা ছিল ইমাম গহরের সাজানো নাটক। এরই মধ্যে সে (ইমাম গহর) গত ২৩ নভেম্বর ১৭ তে সাথে চারজন প্রাইভেট সিকিউরিটি ও তার কুইন্সের কিছু সহযোগি, যারা তাকে এসব অপকর্মে সহায়তা করে আসছিল, তাদের নিয়ে জোরপূর্বক মসজিদে প্রবেশ করে এবং মসজিদে অবস্থানরত মসজিদ কমিটির কিছু সদস্যকে অপমান করে বের করে দেয়। পরদিন, ২৪ নভেম্বর, শুক্রবার নির্ধারিত সময়ের আগে, সোয়া বারটায় মুসল্লীরা আসার আগেই কয়েকজনকে নিয়ে তারাহুড়া করে জুম্মার নামাজ আদায় করে মসজিদের দরজা করে দেয়, এবং মসজিদের দরজার একটা 
নোটিশ লাগিয়ে দেয়, যাতে লেখা ছিল, “পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত মসজিদ বন্ধ থাকবে”। এই নোটিশ দেখে উপস্থিত মুসল্লীরা প্রতিবাদ করায় ইমাম তাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে আবারো তাদের অপমান করে এবং প্রাইভেট সিকিউরিটি লেলিয়ে দেন মুসল্লিদের বিরুদ্ধে। সাথে সাথে সে মসজিদের সকল তালা পরিবর্তন করে ফেলে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বাতিল ঘোষণা করেন। এই নোটিশের পরে স্থানীয় মুসল্লীরা মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় করেছেন। আল্লাহর ঘর নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ রাখার আহব্বান জানিয়ে স্থানীয় সকল মুসল্লী ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বলেন,” আল্লাহর ঘর কোন ব্যক্তি বিশেষের হতে পারেনা, এবং অসৎ ইমাম দ্বারা মসজিদ পরিচালিত হতে পারে না। আল্লাহর ঘর রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব”। নেতৃবর্গর ইমাম গহরের এহেন পাপ-কর্মের বিরুদ্ধ সকল মুসিলম ভাই বোনদের আরো সোচ্চার হওয়ার জন্য আহব্বান জানিয়েছেন। প্রতিবাদ সভায় মুসল্লীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামাল নাসের, বায়তুল জান্নাহ মসজিদ কমিটির সহ সভাপতি হেলাল উদ্দিন, বিআইসি মসজিদের সভাপতি সাইফুল আলম আজম, বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারের সভাপতি আবুল হাশেম, সমাজকর্মী স্বপন কাদরীসহ আরো অনেকে। সভা পরিচালনা করেন মারূফ। Kensingtio Muslim Community ফোন – ৯১৭ ৯৭১ ৬৩৩১। প্রেস বিজ্ঞপ্তি 


Leave a Comment