USA

রংপুরে হিন্দুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে স্বারকলিপি প্রদান


প্রদিপ মালাকার : নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে ফিফথ এভিনিউ এবং ৫৬ ষ্ট্রীট এ ট্রাম্প টাওয়ারের সম্মুখে গত ২রা  ডিসেম্বর শনিবার এক বিশাল মানব্বন্দন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালিত হয়। রংপুরের গঙ্গাচড়া থানার হিন্দু অধ্যুষিত হরকলি ঠাকুর পাড়া গ্রামে কথিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অজুহাত তূলে হিন্দুদের ওপর হামলা, বাড়ি ঘর, উপাসনালয়ে লুটতরাজ ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রবাসের সকল হিন্দু ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এই মানব্বন্দন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দুপর ১২টা থেকে ২টা৩০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী এই সমাবেশে প্রচণ্ড ঠাণ্ডাকে উপেখ্যা করে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতা কর্মী ও সমাজের বিশিষ্ট জনেরা উক্ত সভায় উপস্থিত হন। মহামায়া মন্দির এবং যুক্তরাষ্ট্র এউক্য পরিষদের সাধারণ সনপাদক প্রাদিপ দাসের পরিচালনায় ও উপস্থাপনায় উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উদ্যোগক্তা বিশিষ্ট সমাজ সেবক নির্মল পাল, নিউইয়র্কস্থ মহামায়া মন্দিরের সভাপতি ও ঢাকা জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঃ সনপাদক শ্যামল চক্রবর্তী, লেখক প্রদিপ মালাকার, এউক্য পরিষদ নেতা ও বিশিষ্ট কলামিস্ট শীতাংশু গুহ, যুক্তরাষ্ট্র এউক্য পরিষদ সভাপতি নবেন্দু বিকাশ দত্ত, পুজা উযাপন পরিষদের সভাপতি প্রবীর রায়, আওয়ামী লীগ নেতা-রমেশ নাথ, ডঃ জিতেন রায়, কমিউনিটি একটবিস্ট ধ্রুব চক্রবর্তী ও  দিলিপ নাথ প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ আরও অনেকে।উপস্থিত বক্তাগন রংপুরের ঠাকুর পাড়া, শালেয়াশা, বালিয়াপাড়াসহ ৩০ টি বাড়ীতে হামলা, লুটতরাজ ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ায় প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্যের জন্য আবেদন জানায়। তারা সাতক্ষীরা, চত্রগ্রামের নন্দীরহাট, চিলির হাট, রামু, গতবারের ব্রান্মনবাড়িয়া জিলার নাসিরনগর এবং রংপুরের ঠাকুর পাড়ার ঘটনা একই সূত্রে গাথা। ভুয়া ফেসবুক একাউনট বানিয়ে পরিকল্পিতভাবে কিছু সংখ্যালঘু যুবকের ওপর মিথ্যা ধর্মীয় অনুভুতির আঘাতের উছিলা তুলে ধর্মান্ধ গুষ্টি হিন্দুদের ওপর একের পর এক হামলা চালিয়ে তাদের বাড়ি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া , উপাসনালয় ধ্বংস, লুটতরাজ ও নারীর ওপর নির্যাতনে সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের রক্ষ্যা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার আগে ভিকটিমরা যথা সময়ে আইনশ্রখলা বাহিনী ও প্রশাসনকে জানানো সত্বেও এগিয়ে  আসেনি। যদি সময়  মতো এগিয়ে আসতো জানমাল রক্ষ্যা পেত। বক্তারা আরও বলেন,  ১৯৭২ সালে রমনা কালী মন্দির ভাঙ্গা ও মন্দিরের জায়গা দখলের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয়ভাবে সানপ্রদায়িকতাকে স্থান দেওয়া হয়। তারা আর বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি বিচারহীনতার সস্ক্রিতিই তাদের উপর পুনরায় হামলার কারন। এক বৎসর পার হয়ে গেলে ও এখনও পুলিশ নাসির নগরের হামলার মুল আসামিদের ধরতে পারেনি। অনেক বক্তা প্রধান বিচার প্রতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) কে সরকার জোর করে দেশ ত্যাগ ও  দুর্নীতির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করান। প্রধান বিচারপ্রতি সরকারের কথামত কাজ করলে তার চাকুরী ও থাকতো এবং দুর্নীতির অপবাদও হতো না। উক্ত সভায় বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনালড ট্রাম্পের হস্থখেপ  কামনা করা  হয়। সভায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে একটি স্বারক লিপি প্রদান এবং আগামি জানুয়ারিতে  হোয়াইট হাউজের সামনে সমাবেশে যোগদানের আহবান জানিয়ে সভার উদক্তা নির্মল পাল ও প্রদীপ দাস সভার সমাপ্তি ঘোষণা দেন।     


Leave a Comment