USA

আমেরিকাতে নিগৃহিত হচ্ছে অভিবাসীরা, বাংলাদেশে গরিব হিন্দুদের মত ভারতে গরিব মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে : নিউইয়র্কে সেক্যুলারিজম সেমিনারে মন্তব্য


ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : সেক্যুলার বাংলাদেশ মুভমেন্ট ইউএসএ’র উদ্যোগে “সেক্যুলারিজম ইন বাংলাদেশ: হোপ ফর ইউনিটি, পিস এন্ড জাস্টিস” শীর্ষক সেমিনারে প্রখ্যাত মানবাধিকার সংগঠক ও শ্রমিক-শিক্ষক ড. পার্থ ব্যানার্জি বলেছেন, ‘নিজেদের ব্যর্থতার দায় ধর্মীয় কিংবা জাতিগত অথবা বর্ণগত সংখ্যালঘুর ওপর চাপানোর প্রবণতা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মত উন্নত বিশ্বের রাজনীতিক থেকে ভারতের মোদি কিংবা অন্য দেশের রাজনীতিকদেরও। বাংলাদেশে যেমন গরিব হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, ঠিক তেমনি ভারতে হচ্ছে গরিব মুসলমানদের ওপর। এই আমেরিকাতেও নিগৃহিত হচ্ছে অভিবাসীরা।’ ড. পার্থ ব্যানার্জি উল্লেখ করেন, ‘১% এর স্বার্থে ৯৯% এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রবণতা বহু দেশের শীর্ষস্থানীয় মিডিয়ারও রয়েছে। বলা যেতে পারে, মিডিয়া হাউজগুলোর অধিকাংশই ১% এর তালিকায়।’ ৯ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টার মিলনায়তনে এ সেমিনারে কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার নেতৃবৃন্দসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাধারণ প্রবাসীরা এসেছিলেন সন্তানসহ।প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনেরা।

হোস্ট সংগঠনের প্রধান শুভ রায়ের স্বাগত বক্তব্যের পর সেমিনার সঞ্চালনায় ছিলেন লেখক-সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেক্যুলার বাংলাদেশ মুভমেন্ট, যুক্তরাজ্যের প্রেসিডেন্ট পুষ্পিতা গুপ্তা । তার বক্তব্যের সময় বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বর্বরোচিত হামলার ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরেও পুষ্পিতা গুপ্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং ভিকটিমদের সাথে কথা বলেছেন। ‘পাড়া-প্রতিবেশীরাও হামলা চালাচ্ছে হিন্তু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানদের ওপর। জামাত-শিবিরের মদদে এহেন অপকর্ম সংঘটিত হলেও রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না’-অভিযোগ পুষ্পিতার।আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা ও নিউজার্সি সিটির কাউন্সিলম্যান ড:নূরন নবী, মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক লাবলু আনসার, মুক্তিযোদ্ধা-বিজ্ঞানী ড. জিনাত নবী, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি রাশেদ আহমেদ, মানবাধিকার সংগঠক শিতাংশু গুহ, নারী সংগঠক রানু ফেরদৌস, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ফাহিম রেজা নূর প্রমুখ ।
ভারত, বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করেন ড. পার্থ ব্যানার্জি। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বন্ধু ড. ব্যানার্জি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া যায়না। তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা দিতে হয়’।

‘ধর্মান্ধতা মুসলমানদের যেমন আছে, তেমনি হিন্দু বা খৃষ্টানদেরও আছে’-মন্তব্য ব্যানার্জির। ।‘আমেরিকায় ট্রাম্প জাতীয় লোকেরা মুসলমানদের ও গরিব ল্যাটিনো অভিবাসীদের শত্রু বলে চিহ্নিত করেছে। তাদের নিজেদের ব্যর্থতার দায় এই চিহ্নিত শত্রুদের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে মিডিয়ার সাহায্যে।’বাঙালিদের এই বিশ্বজোড়া নতুন খেলাটা বুঝতে হবে, এবং অন্যদের বোঝাতে হবে-উল্লেখ করে ড. ব্যানার্জি বলেন, ‘বাঙালি জাতি হিসেবে কোনোকালেই ধর্মান্ধ ছিলোনা। এখানেই আমরা আলাদা। তাই আমরা রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, শামসুর রাহমানকে পেয়েছি।’ধর্মান্ধতা দূর করতে গেলে অর্থনৈতিক বঞ্চনা, দারিদ্র্য ও অশিক্ষা- এই তিন কারণকে বুঝতে হবে।

ইতিহাস জানতে হবে, কারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল, আর কারা পক্ষে ছিল। একাত্তরে কিসিঞ্জার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী ছিল-তাও জানাতে হবে নতুন প্রজন্মকে। ড. ব্যানার্জি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ‘শুধু রাজনৈতিক বিভাজন হয়েছে বলেই বাঙালি হিসেবে বাংলাদেশের বাঙালী ও ভারতের বাঙালি আলাদা দুটো জাতি হয়ে যায়নি। আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস একই আছে। আমাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ, সহমর্মিতা ঐক্য নির্মাণ করা প্রয়োজন’।

আলোচকরা আরো বলেন, ‘যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বিশ্বাসে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত রাখতে হবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। এবং তা কেবলমাত্র সম্ভব হবে প্রগতিশীল ও সৎ চিন্তার মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের ফলেই।’ স্থানীয় বহ্নিশিখা সঙ্গীতালয়ের প্রধান সবিতা দাসের নেতৃত্বে দেশের গান পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তির আগে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য রচনায় বিশেষ অবদানের জন্যে বাংলা একাডেমির ফেলোশিপ প্রাপ্ত প্রবাসের লেখক ড. নূরন্নবীকে বিশেষ সম্মানা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এনআরবি নিউজ


Leave a Comment