USA

বাংলাদেশি জামালের ফেরত পাঠানোর আদেশ স্থগিত


ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন পুলিশের হাতে আটক রসায়নের অধ্যাপক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সৈয়দ জামালকে দেশে ফেরত পাঠানোর আদেশ স্থগিত করেছে আদালত। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওই স্থগিতাদেশ বাতিল চেয়ে এ বিষয়ে শুনানির আবেদন করা হয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী জামালের স্থগিতাদেশের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন।
সৈয়দ জামালের আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শর্মা-ক্রফোর্ড এক বিবৃতিতে জানায়, সিকিউরিটি মন্ত্রণালয় অধ্যাপক জামালকে দেশে ফেরত যাওয়ার আদেশের পক্ষে আবেদন করেছে। তারা মনে করে আদেশটি যথার্থ এবং বাংলাদেশে ফিরে গেলে জামালের কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে না। তবে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দুই সপ্তাহ আগে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় অধ্যাপক জামালকে তার বাসার সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় স্ত্রী-সন্তানরা বেরিয়ে এলে তাদেরকে শান্তভাবে গুডবাই বলার পর অভিবাসন কর্মকর্তারা হাতকড়া পরিয়ে ধরে নিয়ে যায় জামালকে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা অধ্যাপক জামালের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন গড়ে তোলে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর আদেশ বাতিলের দাবিতে এরই মধ্যে চেঞ্জ ডট অর্গ ওয়েবসাইটে এক অনলাইন পিটিশনে ৬৭ হাজার ব্যক্তির স্বার গ্রহণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো একজন ব্যক্তির বহিষ্কার ঠেকাতে আমেরিকার গণমাধ্যমে এত আলোচনা খুব কমই হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, রসায়নের একজন শিক্ষক তাঁর সন্তানদের স্কুলে নিতে ঘর থেকে বেরিয়েছেন, আর অভিবাসন পুলিশ তখনই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। সিবিএস নিউজের শিরোনাম, ‘৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা একজন রসায়নের শিক্ষককে আটক করেছে আইস পুলিশ।’ আর এনবিসি লিখেছে, ‘কানসাসের একজন রসায়নবিদ যিনি ৩০ বছর ধরে আমেরিকায়, তাঁকেও দেশে পাঠাতে চায় ইমিগ্রেশন পুলিশ। সিএনএন শিরোনাম করেছে, ‘একজন শিক্ষককে দেশে ফেরত পাঠানো ঠেকাতে কানসাসের লরেন্স কমিউনিটির অভূতপূর্ব ঐক্য।’ এসব ছাপা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সব গণমাধ্যমে। টেলিভিশনে চলছে টক শো আর অভিবাসন আইন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা।


Leave a Comment