Thursday, 29 October 2026 |
শিরোনাম
নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan
সব ক্যাটাগরি

অজ্ঞতার শরিকানা বিলি করছেন জাফর ইকবাল?

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 192 বার

প্রকাশিত: May 10, 2018 | 11:37 PM

আহমেদ মূসা : 
মুহম্মদ জাফর ইকবাল আমার প্রিয় লেখক। দেশ-জগৎ ও মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা আমাকে আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত করে। এমন কি তার বিরুদ্ধে ফেসবুক-এ মন্তব্য করায় কয়েকজনকে আমি আনফ্রেন্ড করেছি, কারো-কারো সঙ্গে নিরাপদ দুরত্ব রচনা করেছি। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে তার দুটি লেখা পড়ে মর্মাহত হলাম। লেখাতে তিনি কয়েকটি ভুল মন্তব্য করেছেন শুধু নয়, তার এ-সব মন্তব্যে কোটা সংস্কারের নির্দলীয় আন্দোলনরত লাখ-লাখ শিক্ষার্থীর প্রতি ঘোরতর অন্যায়, তাদেরকে বিপথগামী ও বিপদগ্রস্ত করার প্ররোচনা, সর্বোপরি আইডিয়ার সুখ-কল্পিত দম্ভ পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে আমার মনে হয়, সামাজিক মাধ্যমে সময় নষ্ট করেন না বা পাঠকের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আগ্রহ তার নেই বলে তিনি যে সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, সেই বাস্তবতাই দায়ী। তার ঊচিত ছিল চূড়ান্ত মন্তব্যের আগে অন্তত আন্দোলনকারী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলা।
যাহোক, পরিসর সংক্ষিপ্ত রাখার জন্য তার কয়েকটি মন্তব্যের প্রতিবাদ করে বলতে চাই, ক. এই আন্দোলন কিছু শিক্ষার্থীর চাকরি পাওয়ার আন্দোলন নয়, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এটি ঘরে-ঘরের আন্দোলন। অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানেরাও কোটার বর্তমান হারের বিরুদ্ধে। অতীতে আমরা দেখেছি, বিপ্লব যাদের প্রয়োজন ছিলো না তেমন বহু কোটিপতির সন্তান, অসাধারণ মেধাবীরাও বিপ্লব করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন। খ. কোটা সংস্কার হলেই মুক্তিযোদ্ধারা অপমানিত হবেন না, বরং পরিস্থিতি যে জায়গায় এসেছে, কোটা বর্তমান হারে বহাল থাকলেই মুক্তিযোদ্ধারা ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হতে থাকবেন, তাদের বংশধরগণ করুণা ও বিদ্রুপের পাত্রে পরিণত হয়ে কোটারি-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হবেন। অনেক মুক্তিযোদ্ধা এখনই বিব্রত বোধ করছেন। গ. কোটার মতোই যে কাজটি করা হয়েছিল, সেনাবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এক বছরের সিনিয়রিটি প্রদান; সেটির পরিণতিও কিন্তু ভালো হয়নি। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা বনাম রিপেট্রিয়টদের দ্বন্দ্বের জের ধরে জিয়াউর রহমান ও জেনারেল মঞ্জুরসহ বহু মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে ২২ জনকে যার ২১ জনই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। সেসব ঘটনার জের ধরেই এরশাদের নেতৃত্বে সামরিক শাসন জারি করে মুক্তিযোদ্ধাদের হটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল রিপেট্রিয়টরা। ঘ. মুক্তিযোদ্ধারা কোটা-সিনিয়রিটির জন্য যুদ্ধ করেননি, যুদ্ধ করেছেন দেশ-মাতৃকার মুক্তির জন্য। কিছু চিহ্নিত বেঈমান ছাড়া গোটা জাতি মুক্তিযুদ্ধ করেছে। তারপরও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য জাতি যথাসাধ্য করে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে তাদের পরবর্তী বংশদরদের কোটা নিয়ে। ঙ. যে আলোকচিত্রটির কথা তিনিসহ অনেকেই বারবার উল্লেখ করেন সেটি রাজাকারিত্বকে গৌরব দেওয়ার জন্য নয়, মতিয়া চৌধুরীসহ অনেকেই আন্দলোনরত লাখ-লাখ শিক্ষার্থীকে নির্বিচারে রাজাকার বলে গালি দেওয়ার প্রতিবাদ বা কৌতুক হিসাবে। তবুও, এ ধরনেই ঘৃণ্য শব্দকে কোনোভাবেই টানা উচিত নয়। বয়স কম বলে শিক্ষার্থীটি বুঝতে পারেনি। বাংলাদেশে প্রকাশ্য রাস্তায় হাজার-হাজার শিক্ষার্থীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে রাজাকারিত্বকে এভাবে সত্যি-সত্যি গৌরবান্বিত করার দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি কখনোই আসবে না, আজকের এই তারুণ্যই সে প্রয়াস প্রথম রুখবে। মুহম্মদ জাফর ইকবাল অজ্ঞতা থেকেই ভুল সিদ্ধান্ত তুলে ধরেছেন লেখাতে । একজন মানুষের পক্ষে সবকিছু জানা সম্ভব নয়। অনেক বিষয়েই অজ্ঞতা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু একজনের অজ্ঞতার শরিকানা যখন লাখ-লাখ মানুষের মধ্যে বন্টনের কারণে বিপর্যয় ডেকে আনে তখন বড় দুর্ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২০১৩ সালে শাহবাগের আন্দোলন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কেচ্ছা রচনা করায় হাসনাত আব্দুল হাইয়ের মতো লেখক ডাস্টবিনে চলে গেছেন। মুহম্মদ জাফর ইকবালের সেই পরিণতি হোক অন্তত আমি সেটা চাই না।
মুহম্মদ জাফর ইকবালের কাছে অনুরোধ, গোটা বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে লিখুন। ছেলেমেয়েগুলোর সংগে কথা বলুন। দু’টি অনলাইন পত্রিকা ও আমার ওয়েবসাইট বা ফেসবুক ওয়ালে ‘কোটা সংস্কার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক?’ শিরোনামের লেখাটিও কিছুটা ধারণা দিতে পারে।
আহমেদ মূসা : যুক্তরাষ্ট্র, ১০ এপ্রিল ২০১৮।

Email-   [email protected]

Web-  https://sites.google.com/view/sreejonkal

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ