Friday, 23 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

আজরাইল আমার খাটের নিচে হাঁটু গেড়ে থাকে।আমি রাতভর তার সাথে কথা বলি, গল্প করি, দাবা খেলি-হুমায়ূন আহমেদ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 162 বার

প্রকাশিত: August 1, 2012 | 11:13 PM

হুমায়ূন আহমেদগাজী কাশেম, নিউইয়র্ক : ৫ জানুয়ারি, ২০১২। রাত ৮টা। কনকনে শীত, হাড্ডিতে গিয়ে লাগছে। হুমায়ূন আহমেদ বেলভ্যু হাসপাতালে। দেহে কেমোথেরাপি চলছে। চলবে প্রায় তিন-দিবস দুই-রজনী। ফোন পেলাম তিনি বেদানা খাবেন। তখন বেদানার আকাল। বেশ কয়টা দোকানে গেলাম। পরে একটা দোকানে চিড় ধরা শুকনো এবং নিংড়ানো দুটো পেলাম। ঘর থেকে তাঁর নৈশভোজ নিয়ে শিগগিরই হাসপাতালে পৌঁছতে হবে, তাঁর বেশ ক্ষিধে পেয়েছে।

স্বর্ণা, মাজহারের স্ত্রী, খাবারগুলো প্রস্তুত করে রেখেছে। বাসা থেকে হাসপাতাল ২৪ মাইল দূরে। আজ আর কৃপণতা করলাম না, ইস্ট রিভার নদীর তলদেশ ভেদ করে যে টানেল ম্যানহাটনকে ছুঁয়েছে সেই টানেলপতিদের ৬ ডলার দিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে পৌঁছে গেলাম হাসপাতালে।

মাজহার আমার পাস নিয়ে নিচে নেমে এলেন, আমি আমার বুকে পাস ধারণ করে একটু শংকিত অবস্থায় পুলিশের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। পাসে লেখা ‘শাওন’ পুলিশ বলল, ওকে, গুড, গো।

১৬ তলার ৩৯ ডব্লিউ-তে কেমো চলছে। কয়েকটি স্যালাইন দেহে ধারণ করে তিনি শুয়ে আছেন। মেশিনে টুকটাক আওয়াজ চলছে। দেহটা খুব কাতর হয়ে পড়েছে।

হাতে আমার কয়েকটি স্থানীয় বাংলা পত্রিকা। প্রথমে হাত বাড়িয়ে তা নিয়ে নিলেন। পত্রিকা বা বই দেখলেই সব কিছুর আগে তা তিনি হস্তগত করবেনই। সারা দিনভর তিনি শাওন এবং মাজহার মিলে দাবা খেলেছেন।

রাত অনেক হয়ে গেছে মাজহারের ৮ বছরের ছোট ছেলে, অমিয়ও সারাদিন হাসপাতালে। ঘরে নিনিতের ১০১ ডিগ্রি জ্বর। নিষাদকে খাওয়ানো যাচ্ছে না। নিষাদ খেলনা না পাওয়া পর্যন্ত খাবে না।

যা-ই হোক আমরা সবাই মিলে রুম গোছগাছ করছি। শাওন প্লেটে খাবার দিলেন। হুমায়ূন আহমেদ হাত তুলে চুপচাপ বসে আছেন। আমি বললাম, স্যার খেয়ে নিন। ভাতে হাত না দিয়ে আমাকে বললেন, একটা জোক শোনো। তিনি বলার শুরু করলেন, এক পাগলকে খাবার দেয়া হয়েছে, সে খাবার খাচ্ছে না, মালিক জিজ্ঞেস করল, কী রে খাবার খাচ্ছস না কেন? পাগল বলল, খাব না। মালিক বলল, কেন? পাগল বলল, খাব না, খেলে হাত ধুবো কোথায়? এ-নিয়ে বেশ হাসলেন। বুঝে ফেললাম, কেন এই জোক।

বাটিতে করে জলদি পানি এনে দিলাম, তিনি নৈশভোজ সেরে নিলেন। এবার বিদায়ের পালা। রাত প্রায় ১১টা। হুমায়ূন আহমেদ স্ট্যান্ডে ঝোলানো তিনটি স্যালাইন এবং মেশিনপত্র ঠেলে বাথরুমে গেলেন, আবার তা ঠেলে ফিরে এলেন। দৃশ্যটি খুবই বেদনাদায়ক ছিল আমার কাছে। নার্স এসে তাগিদ দিতে লাগল রোগী ঘুমাবে।

এবার বিদায়ের পালা। আমি বললাম, স্যার রাতে এখানে কেউ থাকে না?

: থাকে।

: কে থাকে স্যার?

উত্তরে বললেন, আজরাইল। আজরাইল আমার খাটের নিচে হাঁটু গেড়ে থাকে। আমি রাতভর তার সাথে কথা বলি, গল্প করি। তার সাথে দাবা খেলি।

আমরা গুডনাইট বলে ফিরে আসি।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ