Thursday, 25 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

আটলান্টায় জাঁকজমকপূর্ণ মাল্টি কালচারাল উৎসব

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 170 বার

প্রকাশিত: September 8, 2016 | 3:30 PM

বিউরো নিউজঃ জর্জিয়া সোশ্যাল এন্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের উদযোগে গত ৪ সেপ্টেম্বর রোববার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হল জাঁকজমকপূর্ণ বহুল প্রত্যাশিত মাল্টি কালচারাল ফেস্টিভ্যাল। উক্ত অনুষ্ঠানে এক ঝাঁক বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের অসাধারণ ফ্যাশন শো’ ও নৃত্যানুষ্ঠান, ভারতীয় বলিউড ফিউশন নৃত্য, আমেরিকান মিষ্টি কিশোরী জ্যামেরা পরিবেশিত সংগীতসহ বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পী মুক্তা সারওয়ারের গানের মূর্ছনায় দর্শক-শ্রোতাগণ মন্ত্রমুগ্ধ হয়েছে প্রাণোচ্ছল উচ্ছ্বাসে। ঠিক তেমনিভাবে আবার একই মঞ্চে মাল্টি কালচারের নামে অর্ধ-নগ্ন রমণীকুলের মিশরীয় নৃত্যের পরিবেশনায় অপ্রত্যাশিত বিব্রতকর ও অসহনীয় বেশ কিছু মুহূর্ত কাটানোর ঘটনাও ঘটেছে ঐ অনুষ্ঠানে। প্রথম পর্যায়ে বেলী নৃত্যের ঐ পরিবেশনায় ঊর্ধ্বাঙ্গে শুধু  ব্রা’ পরিহিত পোষাকে তিন রমণীর আরব্য-রজনীর স্টাইলের নৃত্যানুষ্ঠান শুরু হলে আকস্মিকভাবে মিলনায়তনে উপবিষ্ট অগনিত নারী-পুরুষদেরকে এক অস্বস্তিকর কঠিন মুহূর্ত অতিক্রম করতে হয়। অধিকাংশ দর্শককেই ঐ সময়টাতে লজ্জাবনত অবস্থায় ঘন ঘন মাথা নিচু করে বসে থাকতে দেখা যায়। এরপর দ্বিতীয়বারের মত আবারও একই নারীকুলের পারফর্মেন্স শুরু হলে অনেক মহিলাকে দর্শকসারি থেকে বাইরে চলে যেতে দেখা যায়। এসময় অবশ্য পারফর্মারদের বক্ষে কিছুটা পর্দা অনুসরণ করতে দেখা যায়। ব্রা’র জায়গায় তারা ব্লাউজ পরিধান করেন তখন। কোন কোন দর্শককে আবার এই নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলী উৎসাহের সাথে নিতান্ত মামুলী ব্যাপার মনে করে উপভোগ করতেও দেখা গেছে। অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসা বাংলাদেশি মহিলাগণ হলের বাইরে গিয়েই দুই মিডিয়ার দুইজন প্রতিনিধিকে সামনে দেখতে পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। তাঁরা বাংলাদেশি কোমলমতি শিশু-কিশোর ও মুররুব্বীদের উপস্থিতিতে এধরনের মাল্টি কালচারের নামে আপত্তিকর অর্ধ-নগ্ন নৃত্যানুষ্ঠানের সমালোচনা করেন। ডজনখানেক পুরুষ-মহিলা তখন দুই সাংবাদিককে ঘিরে ফেলেন এবং এধরনের অর্ধ-নগ্ন নৃত্যের কথা আগে জানলে ছেলে-মেয়ে ও মুরুব্বিদের নিয়ে আসতেন না বলে অভিযোগ করেন। জনৈক ভদ্রলোক এগিয়ে এসে জানালেন, আমেরিকায় তো বিভিন দেশের সংগঠনগুলির নানা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পারফর্মেন্স রয়েছে, রয়েছে জার্মান, আইরিশ, ল্যাটিন, ওরিয়েন্টাল বা ব্রিটিশ সংস্কৃতির নানা সংগঠন, সেগুলো থেকে দুই একটা মানসম্মত আইটেম না এনে বেছে বেছে আরব্য-রজনীর আপত্তিকর পোশাকের গার্লদের কেন মঞ্চে নামাতে হবে ? মাল্টি কালচারে ভালো মন্দ তো দুটোই আছে, কিন্তু আমরা বাংলাদেশিরা তো সব সময়ই এমন কিছু পিক করি, যেটা আমাদের সাথে যায় ! কিন্তু আজ এধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি কেন হল? গুইনেট কাউন্টির এক মহিলা বললেন, এদেশে ভালো মন্দ সবই আছে, আমরা ঘরে টিভিতেও ভালো- মন্দ নানা কিছু দেখি, কিন্তু কোনটা পি জি, কোনটা পি জি-১৩ আবার কোনটা “আর’ রেটেড, সেসব বুঝে শুনেই আমরা ছেলেমেয়েদেরকে সেসব এনজয় করতে দেই। আজকের এই অনুষ্ঠানের মিশরীয় বেলি ড্যান্সটি বাংলাদেশিদের কাছে ছিল রীতিমত এডাল্ট গ্রুপের ‘আর’রেটেডের সমতুল্য। ব্যাপারটি আগে জানালেই বরং খুশি হতাম, বাচ্চাদের নিয়ে আর আসতাম না। নিন্দাজ্ঞাপনকারীগণ জানান, আমেরিকার পথে ঘাটে, মার্কেটে অনেক অশ্লীলতা, নগ্নতা চোখে পড়ে, কিন্তু আজকের অনুষ্ঠানে সপরিবারে বসে এই আপত্তিকর দৃশ্য দেখার ঘটনা সত্যি দুঃখজনক। এদিকে নিন্দাপ্রদানকারী অভিভাবকগণ কমিউনিটির স্বার্থে আগামীতে যাতে এধরনের অশ্লীল পর্ব না থাকে, সেই ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি প্রদানের জন্যে আয়োজকদের কাছে দাবী জানান। উল্লেখ্য, জর্জিয়ার ইতিহাসে বাংলাদেশি আয়োজকদের উদযোগে এধরনের অর্ধ-নগ্ন রমণী নৃত্যর ঘটনা এই প্রথম ঘটলো।atlanta_2

তবে মিশরীয় অর্ধ-নগ্ন বেলী নৃত্যের পর্বটি ছাড়া মাল্টি কালচারাল ফেস্টিভ্যালের বাদবাকী পর্বগুলি ছিল প্রশংসনীয় এবং ভিন্নধারার বর্ণাঢ্য আমেজে পরিপূর্ণ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর স্বাগতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ভাস্কর চন্দের শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর বাঙালির আবাহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ঢোল বাজিয়ে সকলকে বরণ করে নেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতি মোহন জব্বার, সাধারণ সম্পাদক উত্তম দে, প্রধান উপদেষ্টা দিদারুল আলম গাজী শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অনুষ্ঠানটিকে সফল করে তুলতে সকল কলা কুশলী, শিল্পী, সংগঠক , মিডিয়া ও অতিথিদেরকে কৃতজ্ঞতা জানান। প্রধান উপদেষ্টা গাজী বলেন, এধরনের অনুষ্ঠান এই প্রথম নয়, আগামীতেও এই সংগঠন আরও ভালো ও বেশি বেশি বৈচিত্র্যময় আয়োজনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

মধ্য পর্বে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও মুখ্য স্পনসর এম এন্ড জে ফাউন্ডেশনের সভাপতি জামিল ইমরান সকলকে এধরনের মাল্টি কালচারাল ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণের জন্যে ধন্যবাদ জানান। এসময় জামিল সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি আমেরিকান ডেমোক্র্যাটসের নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদেরকে মঞ্চে ডেকে পরিচয় করিয়ে দেন।

বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণের ফ্যাশন শো’এবং নৃত্যানুষ্ঠানের অভাবনীয় চিত্তাকর্ষক পরিবেশনা দর্শক শ্রোতাদের মনে দীর্ঘদিন দাগ কেটে থাকবে। বিশেষ করে সমাপনী পর্বে নৃত্য ও গানের সাথে সাথে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে শিশু-কিশোরদের প্রাণচঞ্চল আবেগ উচ্ছ্বাসের ফল্গুধারা দর্শকদেরকে স্বদেশপ্রেমের নস্টালজিয়ায় অভিভুত করে তোলে। এই পর্বের সমাপ্তির পর পরিচালক রিজওয়ানা রুমু শিশু-কিশোরদের এই সুন্দর পারফর্মেন্সের জন্যে অভিভাবক ও আয়োজক সংগঠনের কর্মকর্তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানান।

আমেরিকার মূলধারার ব্যান্ড গ্রুপ পুসিফুটের সুরেলা কণ্ঠের প্রতিশ্রুতিশীল মিষ্টি কিশোরী শিল্পী জ্যামেরার গান দর্শকদের চিত্ত জয় করতে সক্ষম হয়। এর আগে বাংলাদেশি মাহি সুমনও জনপ্রিয় গান গেয়ে চমক সৃষ্টি করেন। সুমনের সাথে  জ্যামেরা একটি বাংলা গানেও কন্ঠ দেন, যা দর্শক-শ্রোতাদের আপ্লুত করে তোলে।

শেষ পর্বে বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় শিল্পী মুক্তা সারোয়ার মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তিসেনা’ গানটি গেয়ে তার পারফর্মেন্স শুরু করেন। এরপর বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে সকলকে মুগ্ধ করেন। পরে আয়োজক গোষ্ঠীর ধন্যবাদ প্রদানের মধ্য দিয়ে মধ্যরাতে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।

এম এন্ড জে ফাউন্ডেশনের আর্থিক অনুদানে অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, মোহন জাব্বার, উত্তম দে, ভাস্কর চন্দ, নেহাল মাহমুদ, শেখ জামাল, মিনহাজুল ইসলাম বাদল, নুরুল তলুকদার নাহিদ, ইলিয়াস হাসান রানা, কায়েদুজ্জামান, সুহেল হাসান, সৈয়দ কামরান, রাশেদ চৌধুরী, আবুল হাসান, শহিদুল ইসলাম ঠান্ডু প্রমুখ সংগঠকসহ উপদেষ্টা মণ্ডলী যথাক্রমে দিদারুল আলম গাজী, সলিমুল্লাহ সলি, মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ও রফিক হাসান। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন বাংলা ভাষায় সুভশ্রী নন্দী ও ইংরেজিতে এম এন্ড জে ফাউন্ডেশনের কারমে ইস্ট্রেডা।

মাল্টি কালচার অনুষ্ঠানের এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সন্তানদের কথা বিবেচনা করে আগামীতে সংগঠকগণ আরও ভালো কিছু উপহার দেবেন- এটাই প্রত্যাশা করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

 

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV