আমেরিকায় ঢুকতে পারছেন না তসলিমা নাসরিন : গ্রীনকার্ড বাতিল হওয়ার আশংকা
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন আমেরিকায় প্রবেশ করতে পারছেন না। তার গ্রীন কার্ডটি হারিয়ে যাওয়ায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট ও ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন এন্ড নেচারালাইজেশন সার্ভিসেস তাকে নতুন করে পারমানেন্ট রেসিডেন্স বা গ্রীন কার্ড ইস্যু করছে না। এর ফলে তার আমেরিকায় প্রবেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তসলিমা নাসরিন গ্রীন কার্ড বাতিলের আশংকাও করছেন।
জানা গেছে, গত বছরের মাঝামাঝি নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন তসলিমা নাসরিন। এর আগে কয়েক মাস তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। নিউইয়র্ক থেকে চলে যাওয়ার পরপরই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বসবাসের গ্রীন কার্ড হারিয়ে ফেলেন। নিয়ম অনুযায়ী গ্রীন কার্ড হারিয়ে যাওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টকে কিংবা দেশের বাইরে অবস্থান করলে মার্কিন দূতাবাসকে অবহিত করতে হয়। কিন্তু তসলিমা নাসরিন সময় মতো গ্রীন কার্ড হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবহিত করেননি। এখন মার্কিন সরকার নতুন কওে তার গ্রীন কার্ড ইস্যু করছে না বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে তসলিমা নাসরিন বলেন, ‘আমার আমেরিকার গ্রীন কার্ডটি মনে হচ্ছে বাতিল হতে যাচ্ছে। কারণ কী? আমি কি মুসলিম মৌলবাদী? সন্ত্রাসী? আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত? না। আমি বরং মুসলিম মৌলবাদ আর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, মানবাধিকার আর নারীর অধিকারের পক্ষে দীর্ঘকাল সংগ্রাম করা মানুষ। আমাকে গ্রীনকার্ড দেওয়া হয়েছিল ‘এক্সট্রা অর্ডিনারি অ্যাবিলিটি’ বা অসাধারণ দক্ষতার জন্য। আমার পরিবারের লোকেরা আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়েছে, কারণ তারা আমার পরিবার। আর এখন কিনা, আর যারাই ঢুকতে পারুক আমেরিকায়, আমি পারবো না। সুইডিশ পাসপোর্ট হাতে নিয়েও পারবো না। আমি ট্রাম্পের সমালোচক, তাই বলে? কিন্তু আমার সমালোচনা আর ক’জন শুনেছে? আমি নিতান্তই ক্ষুদ্র একটি মানুষ। পৃথিবীর সাধারণ মানুষ কারা ট্রাম্পের নিন্দে করে, হোয়াইট হাউস তার হিসাব রাখে বলে আমার মনে হয় না। আমার মনে হয় না, সব সমালোচকের আমেরিকায় প্রবেশ করা অথবা বাস করা নিষিদ্ধ। তাহলে কেন আজ আমেরিকায় ঢোকার অনুমতি জুটছে না আমার! আমি তো কোনও অপরাধ করিনি, আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনও ষড়যন্ত্র করিনি। কাউকে মারিনি ধরিনি। কারও পাকা ধানে মই দিইনি। নিরীহ সাদাসিধে ভালো মানুষটিকে কেন জীবনভর ভুগতে হবে একা! আমার মনে হয়, আমেরিকার সীমান্ত রক্ষীরা আমার নামটিকে পছন্দ করছে না, এই নামে, অনেকে বিশ্বাস করে, মুসলিম মুসলিম গন্ধ আছে। আমার আরও মনে হয়, ওরা পছন্দ করছে না যে দেশে আমি জন্মেছি সে দেশের নামটিকেও! পছন্দ করছে না আমার গায়ের রঙ। সে কারণে আমার গ্রীন কার্ডটিকে বাতিল করার ছুতো খুঁজছে, অবান্তর প্রশ্ন করছে, কেন তুমি তোমার গ্রীন কার্ড হারিয়ে যাওয়ার পর দূতাবাসকে সঙ্গে সঙ্গে জানাওনি! দূতাবাসকে জানাতে আমার দু’মাস দেরি হলো বলে আমি নিষিদ্ধ হয়ে যাবো!’
তসলিমা নাসরিন আরো বলেন, ট্রাম্প সাতটি মুসলিম দেশের মানুষের আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। আসলে তিনি মুসলমান নামের মানুষগুলোকেই বাধা দিতে চাইছেন। যখন আমার আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ হচ্ছে, ট্রাম্প তখন মুসলিম মৌলবাদীদের সঙ্গে দুলে দুলে তলোয়ার-নাচ নাচছেন। তিনি মুসলিমদের নিষিদ্ধ করেন, কিন্তু মুসলিম-মৌলবাদীদের নিষিদ্ধ করেন না।’
গ্রীন কার্ড বাতিলের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নিউইয়র্কের ছেত্রী এন্ড এসোসিয়েটস-এর সিনিয়র লিগ্যাল কনসালটেন্ট নাসরীন আহমেদ আজকাল’কে বলেন, শুধুমাত্র সময়মতো না জানানোর জন্য হারিয়ে যাওয়া গ্রীন কার্ড নতুন করে ইস্যু হচ্ছে না বলে আমার মনে হয় না। নিয়ম অনুযায়ী গ্রীন কার্ড ইস্যুধারী ব্যক্তি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে তাকে রিঅ্যান্ট্রি পারমিট নিতে হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তসলিমা নাসরিন কতদিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ছিলেন? তার কি রিঅ্যান্ট্রি পারমিট ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি। তাছাড়া রিঅ্যান্ট্রি পারমিট থাকলে গ্রীন কার্ড হারিয়ে গেলেও ওই পারমিট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা সম্ভব। রিঅ্যান্ট্রি পারমিট হারিয়ে গেলেও তা নতুন করে ইস্যুর ব্যবস্থা রয়েছে। তসলিমা নাসরিনের ক্ষেত্রে আসলে কী হয়েছে তা বিস্তারিত জানা দরকার।
এ বিষয়ে তসলিমা নাসরিন কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন কি-না জানতে চাইলে নাসরীন আহমেদ বলেন, আইনি পদক্ষেপ অবশ্যই নেয়া যায়।
এ ব্যাপারে তসলিমা নাসরিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে কোনো সাড়া মেলেনি।আজকাল
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ