আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নির্মল আনন্দদায়ক নৌ-ভ্রমণ
নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে কম্যুনিটির বন্ধন আরো জোরদার করে আমেরিকার স্বপ্ন পূরণে মিডিয়ার ভ’মিকা আরো বলিষ্ঠ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হলো ২৯ আগস্ট শনিবার ‘আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’র নৌ-ভ্রমণ তথা রিভার ক্রুজে। জাতিসংঘের রাজধানী হিসেবে পরিচিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক রাজধানী ম্যানহাটানের চারপাশ পরিভ্রমণ করে এই নৌ-ভ্রমণে অংশগ্রহণকারীরা। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের প্রবাসী এক ছাদের নীচে জড়ো হয়ে নির্মল আনন্দ-দায়ক এ ভ্রমণে ভিন্ন এক আমেজে আবিষ্ট হয়ে পড়েছিলেন। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দলীয় লোকজনও বন্ধুত্ব ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে পুরো সময় অতিবাহিত করেন গান, আড্ডা আর আলোচনায়। আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি কীভাবে প্রিয় মাতৃভূমির কল্যাণে আরো বেশী অবদান রাখা যায়-তাও স্থান পায় এসব আলোচনায়। এ আলোচনায় ভিন্ন মাত্রা এনে দেয় মার্কিন কংগ্রেসে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির প্রভাবশালী সদস্য কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং এর প্রেস সেক্রেটারি জর্দান গল্ডেসের বক্তব্য। কংগ্রেসওম্যান এ অনুষ্ঠানে আসতে না পেরে তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশের কল্যাণে কাজ করে যাবার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। এনআরবি নিউজ
প্রেসক্লাবের এ রিভারক্রুজ অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় বক্তারা নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কম্যুনিটি ও বাংলা মিডিয়ার সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গি ও অবিচ্ছেদ্য বলে অভিহিত করেছেন। প্রবাসে বাংলাদেশি কম্যুনিটি বিনির্মাণে মিডিয়ার ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি মিডিয়ায় পেশাদারিত্ব সৃষ্টি ও বজায় রাখতে কম্যুনিটির নেতা-ব্যবসায়ী, সুধী ও বোদ্ধা পাঠকের দায়িত্বশীল ভূমিকাও অপরিহার্য বলে বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন। তারা বলেন-কম্যুনিটি বিনির্মাণে বাতিঘরের ভুমিকা পালন করে মিডিয়া। আবার অপ-সাংবাদিকতা কম্যুনিটিতে অস্বস্থির ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক সাংবাদিকতা কম্যুনিটিকে দিক-নির্দেশনা দেয়। বক্তারা বাংলাদেশি কম্যুনিটিকে মূলধারায় স্থান করে নিতে এবং নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যত রচনায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান। বিভিন্ন সংগঠনে বিরোধ কমিয়ে এনে একে-অন্যের মধ্যে কীভাবে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির সম্পর্ক জোরদার করা যায়-এ নিয়ে সকলকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহবান জানান তারা।
প্রধান অতিথি ছিলেন ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার। নিউইয়র্ক হতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রায় সবকটি সাপ্তাহিকের সম্পাদক ছাড়াও বাংলাদেশের স্যাটেলাইট টিভিগুলোর প্রতিনিধি এবং কম্যুনিটির বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। চমৎকার আবহাওয়ায় এ সমুদ্র ভ্রমণের শুরুতেই ‘মিডিয়া এবং কম্যুনিটি’ শীর্ষক এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক পরিচয়ের সম্পাদক নাজমুল আহসান সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালন করেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও সাপ্তাহিক প্রবাসের সম্পাদক মো. সাঈদ। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি এবং এনটিভির ইউএসএ নিউজের প্রধান দর্পণ কবীর। রোকেয়া হায়দার ছাড়াও বক্তব্য রাখেন ঠিকানা সম্পাদক লাবলু আনসার, বর্ণমালার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, কম্যুনিটি লিডার গিয়াস আহমেদ এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আজমল হোসেন কুনু। সকলেই নানা প্রতিক’লতা সত্বেও বাংলা ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলো টিকে রয়েছে সর্বস্তরের প্রবাসীদের আন্তরিক সহায়তায় বলে উল্লেখ করেন। একইসাথে কম্যুনিটির ইতিবাচক সংবাদ আরো গুরুত্ব সহকারে প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, মুক্ত বিশ্বের সদস্য হিসেবে নিউইয়র্কে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার যে বিশাল সুযোগ, তাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির ক্ষেত্রে অবদান রাখা যেতে পারে।
এ আলোচনা শেষ হতে না হতেই জাহাজটি ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ অতিক্রম করছিল। সে সময় সকলে ভিন্ন এক আমেজে আবিষ্ট হয়ে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীকের সান্নিধ্যে ছবি উঠাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই জাহাজটি এলিস আইল্যান্ড অতিক্রম করে। এই আইল্যান্ড দিয়েই সর্বপ্রথম ইমিগ্র্যান্টরা যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণ করেছিলেন। সেই স্মৃতি নিজেদের মাঝে ধরে রাখতে আবারো অনেকে ফটো সেশনে মিলিত হন। এভাবেই জাহাজটি এগুচ্ছিল ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে সন্ত্রাসী হামলায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া ট্যুইন টাওয়ারের স্থলে সদ্য নির্মিত ‘ফ্রিডম টাওয়ার’এর দিকে। ১৭৭৬ ফুট উঁচু এ টাওয়ার সমবেত সকলকে মানবতার শত্রু সন্ত্রাসীদের প্রতি ধিক্কার জানানোর এক সংকল্পে উদ্বুদ্ধ করে। ঐ সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের মধ্যে ৬ বাংলাদেশীও ছিলেন। তাদের পরিচিতজনেরা কিচ’ক্ষণের জন্যে হলেও শোকে আচ্ছন্ন হন।
দুপুর গড়িয়ে যাবার সাথে সাথে সকলে মধ্যাহ্ন ভোজ শেষ করে পার্শ্ববর্তী মনোরম দৃশ্য অবলোকনের পাশাপাশি ভেতরের মঞ্চে তখন একাত্তরের স্মৃতি জাগানিয়া সঙ্গীতে বিভোর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদ হাসান। তাদের গানে আপ্লুত সকলে। গানে গানে জাহাজটি এগুচ্ছে এবং উপস্থিত সকলে সংবাদ কর্মীদের এমন একটি ব্যতিক্রমী আয়োজনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করছেন। সবশেষে প্রবাসে এ সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব নিজেকে উজাড় করে ভ্রমণের আনন্দকে আরো বর্ণময় করেন জনপ্রিয় সব গান গেয়ে। গানই শেষ নয়, গানের মাঝে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী আনোয়ার হোসেন, কম্যুনিটি লিডার নার্গিস আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার, জেবিবিএ’র আহবায়ক কমিটির সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাঈদ রহমান মান্নান, সমাজকর্মী বদরুন্নাহার খান মিতা, আইনজীবী নাসরিন আহমেদ প্রমুখ। শুভেচ্ছার সময়েও সকলে মিডিয়ার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে সাধারণ প্রবাসীদের উৎসাহ জুগানোর আহবান জানান। এ জন্যে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসীরা সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাবেন বলেও উল্লেখ করেন।
এ উপলক্ষে ‘কন্ঠস্বর’ নামক একটি স্মরণিকা প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের হাল-হকিকত আলোকে। বিনোদনের জন্যে এ নৌ-ভ্রমণের আয়োজন করা হলেও তা মিডিয়ার সাথে প্রবাসীদের সম্প্রীতির বন্ধনকে সুদৃঢ় করার অন্যতম একটি অবলম্বনে পরিণত হয়। সকলেই সামনের বছর আরো ব্যাপক আয়োজনে এমন নির্মল আনন্দদায়ক নৌ-ভ্রমণের আয়োজন করার জন্যে প্রেসক্লাবকে অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রবাসের নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেছেন যে, এই একটিমাত্র প্ল্যাটফরমে বিভিন্ন দল ও মতের মানুষেরা স্বাচ্ছন্দে মিলিত হয়ে প্রাণ খুলে কথা বলতে পারেন। অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন মূলধারার রাজনীতিক খোরশেদ খন্দকার, বিশিষ্ট সমাজকর্মী কাজী নয়ন, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভানেত্রী মুর্শেদা জামান, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সেক্রেটারি আশরাফুজ্জামান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিসবাহ আহমেদ এবং সেক্রেটারি ফরিদ আলম, চট্টগ্রাম সমিতির সেক্রেটারি আবু তাহের, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি পারভেজ সাজ্জাদ, কোম্পানীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি সেলিম চৌধুরী (ভিপি বাবুল), চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা কাজী আজম, গিয়াসউদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকন এবং সেক্রেটারি জেড এ জুয়েল, এডভোকেট মতিউর রহমান প্রমুখ।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!