আশ্রয়কেন্দ্রে ঘুমন্ত শিশুদের ওপর হামলা :জাতিসংঘের ধিক্কার, যুদ্ধে অটল হামাস
গাজায় আজ বুধবার সকালে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘের স্কুলে ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলার আঘাতে ২০ জন মারা গেছে।
এই হামলাকে জাতিসংঘ ‘ধিক্কারজনক’ বলে চিহ্নিত করেছে। জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা আনরোর মুখপাত্র ক্রিস গানেস বিবিসিকে বলেন, ‘শিশুরা মা-বাবার সঙ্গে জাতিসংঘ-নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রের ক্লাসরুমের মেঝেতে ঘুমাচ্ছিল। শিশুরা ঘুমের মধ্যে নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা নিশ্চয়ই আমাদের সবার জন্য অপমানজনক, সর্বজনীন লজ্জার বিষয়, আজ গোটা বিশ্ব ধিক্কারের মুখে।’
জাতিসংঘ নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্র জাবালিয়ার ওই স্কুলে হামলায় আহত শিশুদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গাজায় জাতিসংঘের কার্যক্রমের পরিচালক বব টার্নার বিবিসিকে বলেছেন, এই স্কুল যে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটা ইসরায়েলিদের জানানোর পরও কয়েকবার সেখানে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হামলায় ব্যবহূত গোলার অবশিষ্ট টুকরোগুলো বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছে যে ইসরায়েলিরাই হামলা চালিয়েছিল। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে তারা ঘটনাটা তদন্ত করে দেখবে।
এদিকে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অটল থাকার কথা জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তারা রাজি নয় বলে স্পষ্ট করেছে। এর আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার কথা ঘোষণা করেন।
আজ বুধবার এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বর্বর এ হামলা আজ ২৩তম দিনে গড়িয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ৫৩ জন ইসরায়ের্িল সেনা ও তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়।
যুদ্ধ চালিয়ে যাবে হামাস
গাজায় চলমান সহিংসতার অবসানে ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনি সেনারা যুদ্ধবিরতিতে যেতে প্রস্তুত বলে যে গুঞ্জন ছিল, তা নাকচ করেছেন হামাসের একজন কমান্ডার।
এক অডিও বার্তায় হামাসের সেনা উইংয়ের কমান্ডার মোহাম্মদ দিফ বলেন, তাঁর সেনারা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত।
আজ দিনের শুরুতে পশ্চিম তীরে ইয়াসির আবিদ রাব্বু নিজেকে হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তা দাবি করে বলেন, যুদ্ধবিরতি আসন্ন। কিন্তু হামাসের একজন মুখপাত্র তাঁর এ কথার সত্যতা নাকচ করেন।
যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই নিজেদের অবস্থানে অনড়।
সাংবাদিকদের দিফ বলেন, ‘আমরা যুদ্ধবিরতির কোনো শর্ত মেনে নেব না। আগ্রাসন বন্ধ ও অবরোধের অবসান না ঘটা পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি নয়।’
২০০৭ সাল থেকে গাজায় পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রটি সীমিত করে দিতে ইসরায়েল ও মিসর অবরোধ আরোপ করেছে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩২
ফিলিস্তিনের জরুরি সেবাদান কর্মকাণ্ডের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা বলেন, গাজার উত্তরাঞ্চলে আজ ট্যাংকের একটি গোলার আঘাতে ১১ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী মেয়েশিশু ও গাজার মধ্যভাগে ১৬ বছরের এক মেয়েশিশু নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে খান ইউনুস শহরে একই পরিবারের নয়জন নিহত হয়েছেন। আর রাফা শহরে মারা গেছেন মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি।
আর জাতিসংঘের কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে শরণার্থী শিবির হিসেবে ব্যবহূত জাতিসংঘের স্কুলে জাবালিয়া ক্যাম্পে গোলার আঘাতে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই সাধারণ নাগরিক। আহত হয়েছে ছয় হাজার ৭০০ জন।
গতকাল গাজায় হামাস পরিচালিত টেলিভিশন ও রেডিও স্টেশন, একমাত্র বিদ্যুত্ কেন্দ্র, তিনটি মসজিদ, চারটি কারখানা ও সরকারি ভবনসহ অন্তত ৬০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইসরায়েল।প্রথম আলো
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!