ইউএস আর্মি ওয়ার কলেজ প্রতিনিধিদলের জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন পরিদর্শন
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : “বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিবেদিত থাকার জাতীয় প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণ বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে” স্থানীয় সময় ৭ এপ্রিল প্রফেসর জেফ উইলসন এর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আর্মি ওয়ার কলেজের ২৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন পরিদর্শনকালে স্বাগত ভাষণে একথা বলেছেন মিশনের চ্যার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো: আরিফুল ইসলাম।
উলে¬খ্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত সুনামের প্রেক্ষিতে এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অংশ হিসেবে প্রতিবছরই ইউএস আর্মি ওয়ার কলেজের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ মিশন পরিদর্শনে আসেন। ২৫ সদস্যের এই ডেলিগেশনে ঐ কলেজে অধ্যয়নরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও রয়েছেন।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে প্রদত্ত ভাষণের “সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়” অংশ উদ্বৃত করে চ্যার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বলেন, “জাতির পিতার এই ঘোষণাই আমাদের বৈদেশিক সম্পর্কের মূলনীতি”। উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, “জাতির পিতার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালি জাতি অর্জন করেছে মহান স্বাধীনতা। তাঁর প্রদর্শিত পথ ধরে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীরভাবে সম্পৃক্ত থেকে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করেছে। প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে আমাদের রয়েছে উষ্ণ দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর সাথে আমরা আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সমঝোতা অটুট রেখেছি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ আজ একটি বিশ্বস্ত নাম”।
চ্যার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থা দমনে বাংলাদেশ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে ধরেন। এছাড়া বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বহুমূখী সহযোগিতা দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে মর্মে তিনি তাঁর স্বাগত ভাষণে জানান।
ডিফেন্স এ্যাডভাইজর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম আখতারুজ্জামান প্রতিনিধিদলকে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা ও বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ সামনের সারির একটি দেশ। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৮ জন শান্তিরক্ষী জাতিসংঘের ৫৪টি পিস কিপিং মিশনে অংশ নিয়েছেন যাঁর মধ্যে রয়েছেন ১২৪২ জন নারী সদস্য। আর বর্তমানে ১১টি মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন ৬ হাজার ৯২৭ জন বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এ পর্যন্ত শহীদ হয়েছেন ১৩২ জন আর আহত হয়েছেন ২১১ জন।
ডিফেন্স এ্যাডভাইজর আরও বলেন, “দক্ষতা, দায়িত্ববোধ ও প্রতিশ্রুতিশীল পেশাদারিত্বের কারণে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীগণ বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে “রোল মডেল”- এর গৌরব অর্জন করেছে। বাংলাদেশে শান্তিরক্ষীদের জন্য একটি বিশ্বমানের প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে”।
চমৎকার আয়োজন ও আতিথেয়তার জন্য ইউএস আর্মি ওয়ার কলেজের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ মিশনকে ধন্যবাদ জানান। পরিদর্শনের জন্য বাংলাদেশ মিশনকে নির্বাচিত করায় উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ইউএস আর্মি ওয়ার কলেজের প্রতিনিধিদলকেও ধন্যবাদ জানান।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ