Monday, 15 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব‍্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন‍্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র‌্যালি’ নিউইয়র্কে সিএমবিএ’র ১৬তম ‘লিটল বাংলাদেশ ব্রুকলিন পথমেলা’ অনুষ্ঠিত Bangladesh Calls for Stronger UNDP Support on Climate Finance and Smooth LDC Graduation
সব ক্যাটাগরি

ইতিহাসই তা বলবে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 14 বার

প্রকাশিত: July 30, 2013 | 4:02 PM

মাহফুজ আনাম সম্পাদক, ডেইলি স্টার: পরিস্থিতি দেখে প্রতীয়মান হচ্ছে, দুই পুত্র এসেছেন। একজন দ্বিতীয়বার, অপরজন প্রথমবারের মতো। স্বাভাবিকভাবেই যখন নতুন প্রজন্ম তার পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে সামনে অগ্রসর হয়, তাকে অভ্যর্থনা জানানো উচিত। তবে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের খুশি হওয়ার সুযোগ কতটুকু? সেটা ইতিহাসই বলবে। লন্ডনে চিকিৎসার কারণে ৫ বছর নিষ্ক্রিয় থাকার পর তারেক রহমান একটি ইফতার পার্টিতে হঠাৎ করেই আবির্ভূত হলেন এবং আমাদের ভবিষ্যতের রোড ম্যাপ দিলেন। যে কোন অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার জন্য ৫ বছর দীর্ঘ সময়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একবার তারেক রহমান এলে, তার জনপ্রিয়তার স্রোতে আওয়ামী লীগ বন্যায় ‘খড়কুটা’র মতো ভেসে যাবে। আমরা জনপ্রিয়তার ‘স্রোত’ সম্পর্কে খুব একটা নিশ্চিত নই। তবে সুস্পষ্টভাবেই তার আসার সম্ভাবনায় আমাদের মেরুদণ্ডের মধ্য দিয়ে হিম কনকনে ঠাণ্ডা ও শিউরে ওঠা কাঁপন বয়ে যাবে। তার গড়া ‘হাওয়া ভবন’ ও সেখান থেকে তিনি যে ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী হয়েছেন, তা আজও স্পষ্টভাবে আমাদের স্মৃতিতে রয়েছে। খালেদা জিয়া নিজেও বিএনপি কার্যালয়ে যাওয়ার চেয়ে ‘হাওয়া ভবন’-এ যাওয়াটাকেই বেশি পছন্দ করতেন। প্রকৃত ক্ষমতা কোথায় নিহিত ছিল, সে বিষয়ে পরিষ্কার ইঙ্গিত বহন করে এ বিষয়টি। আমাদের দৃষ্টিতে অন্য যে কোন সুনির্দিষ্ট কারণের চেয়ে ‘হাওয়া ভবন’ ও এর কর্মকাণ্ডই খালেদা জিয়ার সরকারের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। বিএনপি নেত্রী যেখানে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ে একজন করে মন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছিলেন, সেখানে একজন উপমন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রী নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে নয় বরং অন্য কোন সূত্র থেকে ক্ষমতা পেতেন। আর তা থেকে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয় বেগম জিয়া নিযুক্ত ও তারেক রহমান নিযুক্ত মন্ত্রীদের মধ্যে, যা মন্ত্রণালয়গুলোকে অচল করে দেয়। আক্ষরিক অর্থে সরকারের কর্তৃত্বও অচলাবস্থার মধ্যে পড়ে। মন্ত্রীরা যখন তাদের স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়ের অব্যবস্থা সম্পর্কে খালেদা জিয়ার কাছে অভিযোগ করতেন, তার উত্তর ছিল: যদি তরুণদের দেশ পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেয়া না হয়, তবে কিভাবে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে? আমরা জানি কি ধরনের দায়িত্ব তিনি তরুণদের হাতে ন্যস্ত করেছিলেন। আজ তারেক রহমান যখন নতুন করে রাজনীতিতে আসার পরিকল্পনা করছেন, অতীতে তিনি যে অপকর্ম করেছেন তা নিয়ে কোন আক্ষেপ বা পরিতাপ তো নয়ই, ভবিষ্যতেও যে তিনি এ ধরনের অপকর্মে ফের লিপ্ত হবেন না, সে ব্যাপারে কোন অঙ্গীকার করেননি তিনি। তারেক রহমানের স্তুতিতে রচিত অর্কেস্ট্রার বেসুরো সুর শোনা যাচ্ছে এখন। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, দলের নেতৃত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যিনি তার মহাসচিব টাইটেলটি থেকে ‘ভারপ্রাপ্ত’ শব্দটা দীর্ঘদিন ধরে সরাতে চাইছেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খালেদাপুত্র তারেকের বন্দনা করা ছাড়া সামনে আর কোন পথ খোলা নেই। রাজনীতিতে আসা অপর ছেলে কম পরিচিত। বাংলাদেশে তার হঠাৎ উদয় হওয়া আবার হঠাৎ স্তিমিত হয়ে যাওয়া উপস্থিতি বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তিনি কতটা সিরিয়াস তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। শেখ হাসিনা তার সন্তানদের সুশিক্ষা দেয়ার সঠিক চেষ্টা করেছেন। তার মেয়ে অটিজম নিয়ে কিছু ভাল কাজ করেছেন ও অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের বিষয়টি সামনে এনেছেন। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় রাজনীতিতে এগিয়ে আসার কথা নিজ মুখেই বলেছেন। তিনি দেশে ফিরে বলেছেন, আমি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপি’র প্রোপাগান্ডা প্রতিহত করতে এসেছি। আর সে প্রোপাগান্ডাটি বিশেষত দুর্নীতি সম্পর্কিত। যুবলীগের সদস্যদের তিনি অনুরোধ করেছেন, কেউ আওয়ামী লীগের দুর্নীতি নিয়ে কথা তুললে, তারা যাতে বিএনপি আমলের দুর্নীতির কথা প্রত্যেককে মনে করিয়ে দেন। কেন আওয়ামী লীগের মতো একটি অভিজ্ঞ ও অত্যন্ত সুগঠিত দল বিএনপি’র প্রোপাগান্ডা রুখতে ছেলের সময়োপযোগিতা চাইছে, তা বোধগম্য নয়। আইটি বিষয়ে জয়ের প্রজ্ঞা সম্পর্কে আমাদের বলা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা তিনি কিভাবে সামাল দেবেন, তা এখনও রহস্যপূর্ণ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিশেষজ্ঞকে তার উপদেষ্টা হিসেবে নিয়ে আসবেন। ব্যাপারটা বেশ চিত্তাকর্ষক বলেই মনে হচ্ছে! বিএনপি’র বিপক্ষে তার প্রথম অভিযানটি এতটাই সফল যে তার মাকেই এগিয়ে আসতে হয়েছে তার কথার ব্যাখ্যা করার জন্য। অবশ্য বিএনপি’র পাল্টা হামলার জবাব দিতেই সেটা করতে হয়েছিল। এখন যদি কেউ বিপক্ষ দলের প্রোপাগান্ডার বিরোধিতা করতে গিয়ে আরেকজনকে তার পক্ষ নিয়ে ব্যাখ্যা করতে হয়, এটা যে কেউই অনুমান করতে পারেন ছেলে রাজনীতিতে ঠিক কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। জয়ের কাছে তথ্য রয়েছে যে, আওয়ামী লীগই আবার ক্ষমতায় আসবে বলে তিনি যে দাবি করেছেন, সেটা অনভিজ্ঞ, অযৌক্তিক, অবিবেচনাপ্রসূত ও বিপর্যয় ঘটানোর মতো মন্তব্য। এর ফলে কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসবে এমন কথা বলার সুযোগ পেয়েছে বিরোধী দল। জয়ের এ মন্তব্যকে তারা ক্ষমতা দখলের ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। বরং তার কি বলা উচিত ছিল তা শেখ হাসিনা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। জয় একটি জনমত জরিপ পরিচালনা করেছিলেন যা বিরোধী দলের চেয়ে আওয়ামী লীগ যে বেশি জনপ্রিয়, তার ইঙ্গিতবাহী। নির্বাচনের ব্যাপারে একজন শুধু ধারণা করতে পারেন, কিন্তু কখনই নিশ্চয়তার সঙ্গে কোন মন্তব্য করতে পারেন না। এতে কখনও কখনও ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক অনুভূতি কাজ করে। যারা অপরিপক্বভাবে এ ধরনের দাবি করেন, তাদের শিক্ষা দেয়ার বাসনা তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেরই চালানো একটি জরিপ কতটা নির্ভরযোগ্য হতে পারে? আমরা পছন্দ করি বা না করি, এটা এখন স্পষ্ট যে আগামী নির্বাচনে তারেক ও জয় প্রধান ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন।মানবজমিন

– ডেইলি স্টার থেকে অনূদিত

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV