ইন্টারনেটের সব ক্ষেত্রে ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগ হচ্ছে সাইবার ক্রাইম ডিসি
আল-আমিন : ইন্টারনেটের সব ক্ষেত্রে ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনে (বিটিআরসি) নিয়োগ দেয়া হচ্ছে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ডিসি। ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধের জন্য এখন থেকে ওই দুটি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করবে। পুলিশের ওই ডিসিকে সহযোগিতা করার জন্য একজন এডিসি এবং একজন এসি নিয়োগ দেয়া হবে। ওই তিন কর্মকর্তাকে ৬ মাসমেয়াদি সাইবার ক্রাইম বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। গত নভেম্বরে পুলিশের হেডকোয়ার্টারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক সভায় বাংলাদেশ পুলিশ এ বিষয়ে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুলিশের ধারণা, এতে বিটিআরসি এবং পুলিশের মধ্যে সমন্বয় হবে। ইন্টারনেটে নজরদারি বাড়বে। সাইবার ক্রাইমের মাত্রা কমার পাশাপাশি অপরাধীকে দ্রুত চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করা যাবে। পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) মো. নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, আধুনিক বিশ্বে অনেক রাষ্ট্রে সংশ্লিষ্ট টেলিকমিউনিকেশন বিভাগে পুলিশের পক্ষ থেকে একজন সাইবার ক্রাইমের কর্মকর্তা কাজ করে থাকেন; কিন্তু এটি বাংলাদেশে নেই। তিনি আরও জানান, ইন্টারনেটের জগৎ অনেক বিস্তৃত। এ জগতের অপরাধ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বিটিআরসিতে সাইবার ডিসি নিয়োগের বিষয়টি আলোচনাধীন।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার সূত্র জানায়, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ কোটি। ইন্টারনেটে ভুয়া পরিচয়ে ই-মেইল তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমগুলোতে দুর্বৃত্তরা নানারকম অপরাধ কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। দুর্বৃত্তরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ, ব্ল্যাকমেইল, প্রতারণা, ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি করে নাশকতার উসকানির কাজ করে যাচ্ছে। তারা কৌশলে নিজস্ব ফ্যান পেজ খুলে অথবা অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করে ওইসব কর্মকাণ্ড করছে। ভুক্তভোগীরা প্রথমে বিষয়টি পুলিশকে জানান। তখন ওই দুর্বৃত্তকে ধরার জন্য পুলিশ বিটিআরসির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। কিন্তু, ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই।
সূত্র আরও জানায়, দেশের তথ্যপ্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ মূলত বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ করে থাকে। বাংলাদেশ থেকে অথবা বিদেশ থেকে খোলা অনেক ভুয়া অ্যাকাউন্ট তারা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু, পরে দেখা যায়, ওই দুর্বৃত্তরা আবার প্রক্সি দিয়ে অন্য নামে আরও একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বসেছে। আগের মতো অপরাধ কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। পরে ভুক্তভোগী পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ওই ভুয়া অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের জন্য বিটিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তথ্য পেয়ে পুলিশ ওই অপরাধীকে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়। অনেক অপরাধী পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।
সূত্র জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সংশ্লিষ্টের কাজ এবং এর অপরাধ ঠেকাতে কাজ থাকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, স্বরাষ্ট্র, ডাকা ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। কিন্তু, সাইবার ক্রাইম ঠেকাতে এ মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। কোনো ঘটনা ঘটলে একে অপরকে কাদা ছোড়াছুড়ি করে থাকে। গা এড়িয়ে চলে। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়েন। কোনটা কার এবং কী দায়িত্ব তা বুঝতে পারে না। এসব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয়ের জন্য পুলিশের হেডকোয়ার্টারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সাইবার অপরাধ ঠেকানোর জন্য দেশের অভিজ্ঞ সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের সহযোগিতা নেয়ারও কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মানবজমিনকে জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে কবে নাগাদ ওই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে তা তিনি অবগত নন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোস্তফা জব্বার জানান, ডিজিটাল যুগে একটি প্রতিষ্ঠান (বিটিআরসি) এককভাবে সাইবার ক্রাইম বন্ধ করতে পারবে না। সরকার ইতিমধ্যে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে একটি আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। ওই আইনের ধারাগুলোকে অনেক বেশি শক্তিশালী করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয় করতে হবে। নইলে কোনোক্রমেই সাইবার অপরাধ ঠেকানো যাবে না। মানবজমিন
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!