ব্যারিস্টার সৈয়দ আফতাব আহমেদ : যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ডেমোক্রেটরা যদি তার গৃহীত কঠোর ইমিগ্রেশন নীতিতে সমর্থন না জানায় তবে তিনি গোটা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়ার পক্ষে। ক্যাপিটল হিলে চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাঝে মঙ্গলবার তার এই ঘোষণা সব মহলে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। এদিকে, ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর বারবারা কমস্টক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কোনরকম শাটডাউন বা অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় এমন কোন পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
ক্যাপিটল হিলের আলোচনায় যদি কোন সুরাহা না হয় তাহলে সরকার অভিবাসন বিষয়ক যে তহবিল ঘাটতির মধ্যে পড়বে সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি ডেমোক্র্যাট নেতারা দেশের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করেন, তাহলে এই অচলাবস্থাই বরং মঙ্গলজনক।’ তার ভাষায় ‘পৃথিবীর বুকে আর দ্বিতীয় কোন রাষ্ট্র নেই যেখানে এত সহজে অভিবাসন পাওয়া যায়।’ ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘এটা একটা স্টুপিডিটি এবং এটা বন্ধের এখনই উপযুক্ত সময়।’
এদিকে ক্যাপিটল হিলে যখন এই আলোচনা চলছে তখন মাত্র গত সপ্তাহেই অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের ওয়ার্ক পারমিট দেয়ার ব্যাপারে নতুন নিয়মের কথা জানানোর পর এবার খড়গ নেমে এসেছে অ্যাসাইলাম আবেদন মঞ্জুর হয়েছে এমন ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের উপর। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউএসসিআইএস এবং ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট যৌথভাবে ‘অ্যাসাইলি’ ও ‘রিফিউজি’দের পরিবারের সদস্যদের আমেরিকায় প্রবেশের ওপর নতুন করে কঠোর প্রক্রিয়া অবলম্বনের কথা ঘোষণা করেছে।
মূলত ফর্ম আই-৭৩০, রিফিউজি/অ্যাসাইলি রিলেটিভ পিটিশন পূরণের মাধ্যমে যেসকল অ্যাসাইলাম আবেদন মঞ্জুর হওয়া ব্যক্তিরা তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আবেদন করতেন তাদের আবেদন মঞ্জুরের আগে অধিকতর যাচাই বাছাই করার কথা বলা হয়েছে। এজন্য বাড়তি ভেটিং ক্যাপাবিলিটি ১৩৭৮০ নম্বর এক্সিকিটিভ অর্ডার এর ৬ (ক) ধারা সংশোধন করে একটি মেমোরেন্ডাম প্রকাশ করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা সংস্কারে আগ্রহী আইন প্রণেতারা ইতিমধ্যে সিনেটের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন। এ বিষয়ে ‘থম টিলিস’ অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে। নর্থ ক্যারোলাইনার এই রিপাবলিকান ২০১৪ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা সংস্কার বা রিফর্মের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি এ মাসের শুরুর দিকে একটি বাইপার্টিসান পলিসি সেন্টারে বলেন, ‘আমরা এই অবস্থা থেকে উত্তরনের পথ জানি, আমাদের শুধু বিষয়গুলোকে সঠিকভাবে এক জায়গায় আনতে হবে যাতে করে উভয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আশ্বস্ত হয়। আর শুধু এটা না পারার কারণেই আমরা বিগত সময়ে এই বিষয়ে সফল উদ্যোগ নিতে পারিনি।’ থম টিলিস পরামর্শ দেন যে বর্ডার সিকিউরিটি, ওবামা প্রশাসনের ঘোষিত ডাকা (ডিএসিএ) প্রোগ্রাম, ভিসা রিফর্ম, ই-ভেরিফাই এবং অবৈধ ইমিগ্রেশনের সুবিধা নেয়া এমপ্লয়্যারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমে এই ইমিগ্রেশন সংস্কার নিয়ে কাজ করা শুরু করা যেতে পারে। অনেকের ধারণা, হোয়াইট হাউজ যখন কংগ্রেসে বাজেট রিকোয়েস্ট পেশ করবে তখনই এই সংস্কার কাজ শুরু হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে সেই বাজেট রিকোয়েস্টে অবধারিতভাবেই ট্রাম্পের বহুল ঘোষিত বর্ডার ওয়াল এবং তার এক্সিকিউটিভ অর্ডার বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হবে।
লেখক: ব্যারিস্টার; আজকাল আইন পাতার বিভাগীয় সম্পাদক, নিউইয়র্ক।
ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হবে : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
সর্বশেষ সংবাদ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!