Wednesday, 24 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

উগ্রপন্থিদের ‘ভয়ঙ্কর’ হামলা ঠেকানোকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ঢাকা-ওয়াশিংটন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 54 বার

প্রকাশিত: May 17, 2016 | 8:11 PM

মিজানুর রহমান : উগ্রপন্থিদের ‘ভয়ঙ্কর’ হামলাগুলোর বিষয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহে পারস্পরিক সহযোগিতার কৌশল নির্ধারণে কাজ করছে ঢাকা-ওয়াশিংটন। একের পর এক উগ্রবাদী হামলার প্রেক্ষিতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপ ও উগ্রপন্থিদের গতিবিধির ওপর নজরদারি আরো বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। যে কোনো মূল্যে পরিকল্পিত ওই হামলাগুলো ঠেকানোর বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। চলতি মাসের শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত মার্কিন প্রতিনিধিদের ঢাকা সফরে সরকারি পর্যায়ে যেসব আলোচনা হয়েছে সেখানে হামলাগুলো ঠেকানোর বিষয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় ওই আলোচনায় পরপর দু’জন বিদেশি হত্যা, লেখক ও ব্লগারের ওপর আক্রমণ এবং বিভিন্ন ধর্ম, বিশ্বাস ও সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর সিরিজ হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। অতি সম্প্রতি খুন হওয়া মার্কিন মিশন কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নানসহ চাঞ্চল্যকর সব হত্যার পূর্ণাঙ্গ এবং বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের তাগিদ দেয়া হয়েছে। সরকারি বৈঠকগুলোতে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকের সঙ্গে আলাপে এই তথ্য মিলেছে। সূত্রমতে, মে মাসের শুরুতে বাংলাদেশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সরকারের সঙ্গে আলাপে জরুরি সফরে ঢাকায় আসা মার্কিন সহকারী মন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল ওই আলোচনা শুরু করে দিয়ে গেছেন। সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ যেসব উদ্যোগ নিচ্ছে বা নেবে তাতে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত, সেই বার্তাই দিয়ে গেছেন তিনি। ওবামা প্রশাসনের প্রভাবশালী ওই কর্মকর্তার বিদায়ের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একাধিক প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করেছে। বর্তমানে দেশটির কূটনৈতিক নিরাপত্তা দেখভালে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী গ্রেগরি বি স্টারের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় রয়েছে। আগামী দুদিন তারা ঢাকায় সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করবেন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসসহ এখানে থাকা কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে ঢাকায় দীর্ঘ সময় কাটিয়ে গেছেন। কাছাকাছি সময়ে নিশা দেশাইর সেকেন্ডম্যান খ্যাত একই বিভাগের মুখ্য উপ-সহকারী (পিডাস) উইলিয়াম ই টডের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রতিনিধি দল এখানে চারদিন কাটিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সচিব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিরিজ আলোচনা করেছেন টড ও তার সঙ্গে থাকা বিশেষজ্ঞ দল। বিরোধী নেতৃত্ব, নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বেসরকারি উন্নয়ন কর্মীদের সঙ্গেও তারা মতবিনিময় করেছেন। সব ধরনের সহিংস আক্রমণ মোকাবিলা করে কিভাবে বাংলাদেশকে নিরাপদ করা যায়, দেশি-বিদেশিরা শঙ্কামুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারেন, সেই কর্মপন্থা নির্ধারণেই তাদের তাগিদ ছিল। সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, রাজনৈতিক কারণে অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপড়েন থাকলেও নিরাপত্তা ইস্যুতে বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রপন্থার উত্থানকে এখনই ঠেকানোর বিষয়ে উভয়ের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। এ লড়াইয়ে বাংলাদেশকে গোয়েন্দা তথ্য, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি কিংবা কারিগরি সহযোগিতা যেখানে যা প্রয়োজন এমন কার্যকর সহযোগিতা দেয়ার আন্তরিকতা দেখিয়েছেন দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের নেতৃত্বও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক এ মনোভাবকে সাদরে গ্রহণ করেছে। উগ্রবাদীদের অপতৎপরতা ঠেকানোই যে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সেটি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তাদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কূটনীতিক গতকাল মানবজমিনকে বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। টড একটি বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে এসেছিলেন। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। কোনো রকম প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার এডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলমসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে সরকারের চেষ্টার যে কোনো ত্রুটি নেই সেটি তুলে ধরেছেন রাজনৈতিক নেতৃত্ব। পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বিদেশে যাওয়ার আগে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় গিয়ে টড ও তার টিমের সঙ্গে আলোচনা করে গেছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, দুটি বৈঠকে সামপ্রতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে উগ্রবাদীদের আক্রমণের ঘটনাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কূটনৈতিকপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পেয়েছে। পিডাস টডের সফরের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অসাধারণ বৈঠক হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থা মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব রয়েছে। এখানে পারস্পরিক সহযোগিতা কিভাবে আরো বাড়ানো যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি একা কারও পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সরকার, নাগরিক সমাজ সবার সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। সবাইকে নিয়ে এদের মোকাবিলা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধির বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে বার্নিকাট বলেন, আমরা সহযোগিতার বার্তা নিয়ে আসছি। সরকার ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি। এখানে কোন্‌ কোন্‌ ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রয়োজন সেটি চিহ্নিত করতে আমরা কাজ করছি। কার্যকর সহযোগিতা নিশ্চিত করতে আমরা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করছি। মার্কিন প্রতিনিধি দলের বিদায়ের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, জঙ্গি-সন্ত্রাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। উগ্রবাদীদের হামলা আগে থেকে কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় তা নিয়ে কথা হয়েছে। কূটনৈতিকপাড়ার নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশিদের উদ্বেগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কূটনীতিকদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পোশাকি পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকের পুলিশ, গোয়েন্দা  নজরদারি ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন মুখ্য উপ-সহকারী মন্ত্রী উইলিয়াম টড এক্সপার্ট দল নিয়ে এসেছিলেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা তাদের সহযোগিতার ইচ্ছার কথা বলেছেন। আমরা বলেছি, টেরোরিস্টদের মাধ্যমে আমরা আর আক্রান্ত হতে চাই না। আক্রান্ত হওয়ার আগেই এদের প্রতিরোধ করতে চাই।
নিরাপত্তায় উদ্বেগ বাড়ছে, টহল পুলিশের জন্য ২০টি মোটরবাইক দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দুনিয়া ঢাকার কূটনৈতিক জোন খ্যাত গুলশান, বনানী ও বারিধারার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে অত্যন্ত ১৫টি মিশন সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে বলে সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইইউসহ উদ্বিগ্ন পশ্চিমা বিশ্বের কূটনীতিকদের চিঠির প্রেক্ষিতে সরকার তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। এ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে গত রোববার। সেখানে পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা হয়েছে জানিয়ে সরকারি এক কর্মকর্তা বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা নজরদারি ও পেট্রোল টিমের টহল বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রগুলোকে সরকারের সেই উদ্যোগের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বাংলাদেশ পুলিশের পেট্রোল টিমের জন্য ২০টি মোটরবাইক সরবরাহ করা হয়েছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে পশ্চিমা কূটনীতিকরা সরকারের ব্রিফিং চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা এই মুহূর্তে দেশের বাইরে রয়েছেন। তারা দেশে ফেরার পর সব বিদেশি মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের ডেকে একটি কূটনৈতিক ব্রিফিং হবে। আগামী সপ্তাহে ব্রিফিংটি হতে পারে বলে আভাস মিলেছে।মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV