উত্তর আমেরিকায় প্রথম আলো
প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকা যাত্রা শুরু ঘোষণা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর নিউইয়র্কের কুইন্সের ওয়ার্ল্ডস ফেয়ার মেরিনায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান উত্তর আমেরিকা প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে দেয়া তার বক্তব্যে এ ঘোষণা প্রদান করেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রথম আলো সামনে এগুচ্ছে পাঠকের ভালোবাসায়। এরই অংশ হিসেবে উত্তর আমেরিকায় আগামী মার্চে সাপ্তাহিক হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে প্রথম আলো। প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকার এ যাত্রায় তিনি সবাইকে সঙ্গে চান। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার বিপণন এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা নর্দাণ লাইটস মিডিয়ার কর্ণধার সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক তার বক্তব্যে বলেন, দূর প্রবাসে বাংলাদেশের প্রধান দৈনিক প্রথম আলো বাংলা ভাষাভাসীদের হাতে তুলে দেয়ার মত দায়িত্ব পেয়ে নর্দাণ লাইটস গর্বিত। প্রবাসীরা যাতে মুক্তভাবে প্রথম আলোতে যুক্ত থাকতে পারেন সে লক্ষে নর্দাণ লাইটস কাজ করবেন বলে জানান সাইফুল সিদ্দিক।
প্রথম আলোর উত্তর অামেরিকার উপদেষ্টা হাসান ফেরদৌস বলেন, যা কিছু ভালো তার সঙ্গে প্রথম আলো। প্রথম আলো ভালোর সঙ্গে আছে বলেই প্র্রবাসের মানুষের মাঝেও এত জনপ্রিয়। তিনি প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকার যাত্রাকালে পেশাদার অভিজ্ঞ সংবাদকর্মীদের নিয়ে নতুন অভিযাত্রারকথা প্রবাসীদের জানান। এ নিবিড় অভিযাত্র্র্রায় তিনি সবাইকে সঙ্গে থাকার আহবান করেন।
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার ব্যুরো চীফ ইব্রাহীম চৌধুরী বলেন, আজকে আলোকিত সুধিজনদের উপস্থিত আমাদের ঋদ্ধ করেছে। প্রথম আলো কথা বলবে প্রবাসের বাংলা ভাষাভাষীদের, ভবিষ্যতেও কথা বলবে সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের। অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর ডিজিটাল কার্যক্রমের বিষদ তুলে ধরেন সিওও এহতেরাম উদ্দিন। তিনি প্রযুক্তির উৎকর্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজের এবং নিজেদের বানিজ্যের বার্তা বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলা ভাষীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রথম আলোর ব্যপ্তি তুলে ধরেন।
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার মিডিয়া কনসালটেন্ট নিম্মি নাহারের উপস্থাপনায় প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকার প্রাক আগমনী এ সন্ধ্যা বক্তৃতা, গান, নাচ, কবিতা, বাঁশির সুরের মুর্চ্ছনায় মুহিত হয়েছেন উপস্থিতি।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা টায় অনুষ্ঠান শুরু হয় বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। এর পর প্রথম আলোর ভাবনা নিয়ে ধারণ করা বক্তব্য রাখেন সম্পাদক মতিউর রহমান। বক্তব্য রাখেন সাইফুল সিদ্দিক। এসময় তিনি তার বক্তব্যের মাঝে প্রবাসীদের কাছে নর্দাণ লাইটস মিডিয়ার সহ কর্ণধার ইকবাল আনোয়ার, প্রথম অালোর উত্তর আমেরিকার উপদেষ্টা হাসান ফেরদৌস, ব্যুরো চীফ ইব্রাহীম চৌধুরী, ডেপুটি ব্যুরো চীফ শাহাব সাগর, মিডিয়া কনসালটেন্ট নিম্মি নাহারকে পরিচয় করিয়ে দেন। এর পর বক্তব্য রাখেন হাসান ফরদৌস, ইব্রাহীম চৌধুরী। ডিজিটাল প্রথম আলো নিয়ে কথা বলেন এহতেরাম উদ্দিন। এর পর ‘ সামনে চলো, পাল তুলো, প্রথম আলো আছে আশে পাশে এই সূরে, দূর প্রবাসে সব বাঙালীর প্রাণের উচ্ছাসে’ প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকার ভাবসঙ্গীত সকলকে মুগ্ধ করে। নৃত্য পরিচালনায় ছিল হৃীলা ড্যান্স গ্রুপ। এতে পরিবেশনায় ছিল স্বর্নালী রহমান, জেনিফা রহমান, আলিয়া হাজরা, ফারদিনা ইউসুফ, সোমিয়া, সুইটি এবং হৃীলা। পরে একক নৃত্য নিয়ে মঞ্চে আসে আমেরিকান বাংলাদেশি প্রজন্ম সাদিয়া মোহাইমিন। এর পর দুটি গান পরিবেশন করে দর্শক মাতান সারগাম ব্যান্ড।
তাদের পরিবেশনায় ‘আমায় ডেক না ফেরানো যাবে না, ফেরারী পাখিরা কোলায় ফিরে না’ গানটি ছিল উপভোগ করার মত। আমেরিকান বাংলাদেেশি প্রজন্মের লিডীং লাইট তানজিম আলম ও মোসনাদ আলম বাংলা গান নিয়ে বাঁশি বাজিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন।
নাচ গান বাঁশির পরে সুকান্তের আটারো বছরের কবিতা নিয়ে মঞ্চে আসেন তৈমুর ও নবনী দম্পতি। এরই মধ্যে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতের আভায় মঞ্চে আসেন বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদির আমেরিকার প্রবাসী তনয়া তনিমা হাদি। ‘এই দুনিয়া এখনতো অার সে দুনিয়া নয়/, অাছেন আমার মোক্তার আছেন ব্যরিস্টারসহ চারটি গান পরিবশেন করেন তিনি। এসময় উপস্থিত প্রবাসীরা এক খন্ড বাংলাদেশের আমেজে আপ্লত হয়ে পড়েন। তনিমা হাদীর গানের পরে মঞ্চে আসে হৃীলা ড্যান্স গ্রুপ তাদের পরিবেশনা নিয়ে। বাংলা গানের সঙ্গে মন মাতানো নৃত্য উপভোগ করেন আলোকিত সুধিজনরা। সর্বশেষ মঞ্চে আসেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্র নাথ রায়। ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে। আমরা ক’জন নবীন মাঝি হাল ধরেছি, শক্ত করে রে।’ এ গানটি দিয়ে শুরু করেন পরিবেশনা। একে একে ৬ টি গান দিয়ে মুগ্ধ করেন প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকার আলো ঝলমলে অনুষ্ঠানে উপস্থিতিকে। রথীন্দ্র নাথ রায়ের গানের পরই মঞ্চে আসেন মুক্তিযোদ্ধা কামাল সাঈদ মোহন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফুফিয়ে কেঁদে ফেলন। এসময় হলজুড়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে প্র্রথম আলো উত্তর আমেরিকার ভাব সঙ্গীত দিয়ে ইতি ঘটে এ অনুষ্ঠানের।
দর্শকদের স্বাগত জানান, মমিনুর রহমান, গোপাল স্যানাল, শাহান চৌধুরী, ইশতেহাক চৌধুরী ও সালমান।
রেডিয়েন আইপিটিভি ও টাইম টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে। এছাড়া ছিল নিউইয়র্কের অধিকাংশ গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সরব উপস্থিতি। এ মাহেন্দ্রক্ষণে স্বাক্ষী হতে ছুঁটে এসেছিলেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশী ব্যবসায়ী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শিল্পী থেকে ইনভেস্টর, তরুণ প্রজন্ম থেকে অশিতিপর সাংবাদিক, আইনজীবি থেকে রাজনীতি, কমিউনিট এক্টিভিস্ট থেকে মূল ধারার রাজনীতিক। ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরনিয়ার হলে এলইডি প্যানেল প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকার এ অনুষ্ঠান প্রদর্শন প্রশংসিত হয়েছে সবখানে।muktibarta24
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ