Wednesday, 24 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

একুশ শতকে এসেও হিন্দু সমাজ বর্ণবিদ্বেষমুক্ত হতে পারেনি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 91 বার

প্রকাশিত: August 5, 2016 | 9:10 PM

সুব্রত বিশ্বাস  : ভারতের তামিলনাড় রাজ্যের দু’টি গ্রামে মন্দিরে প্রবেশ করার অনুমতি না মেলায় ক্ষুব্ধ ২৫০টি দলিত পরিবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকা খবর দিয়েছে। খবরে বলা হয় নাগাপট্টিনাম জেলার পজহনঙ্গকল্লিমেড্ডু ও নাগপল্লী গ্রামের পরিবারগুলো প্রতি বছর মন্দিরে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে একদিন তারা পূজা করতে চায়। কিন্তু স্থানীয় হিন্দুরা তাদের সেই পূজার অনুমতি দেয় না তাই তারা ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দলিত আর নি¤œবর্ণের হিন্দুদের ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। অস্বীকার করার উপায় নেই ভারতবর্ষে মুসলিম বিজেতা কিংবা ব্রিটিশ আগন্তুকরা আসার আগে বিশেষত ইসলাম বা খ্রিস্টান ধর্মের অস্তিত্ব ছিলনা বলা যায়। ব্রাাম্মণ্যবাদের চরম বর্ণবিদ্বেষই ভারতবর্ষে এই দুই ধর্মের বিস্তৃতির প্রধান ও অন্যতম কারণ। হিন্দু ধর্ম সৃষ্টির পর ব্রাম্মণ, ক্ষত্রীয়, বৈষ্য ও শূদ্র এই চার বর্ণ বা গোত্রে বিভাজিত করা হয়। মূলত ব্রাম্মণ্যবাদের আদিপত্য প্রতিষ্ঠাই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য। এবং সে লক্ষ্যেই হিন্দু ধর্মের পত্তন। নিজেদের সামাজিক আদিপত্যের আলোকে অলৌকিকতার আশ্রয় নিয়ে নানাবিধ দেবদেবীর সৃষ্টি করা হয়। মিথ্যা কুৎসিত অযৌক্তিক গাজাকুরী কল্পকাহিনী দ্বারা আবিস্কার করা হয় অলৌকিক দেবদেবীর। এসব দেবদেবীকে অলঙ্কৃত করা হয় অলৌকিকতার ছাপ লাগিয়ে। প্রচলন করা হয় দেবদেবীদের পূজো এবং সামাজিক আচার আচরণ প্রথার। উপার্জনের পেশা হিসেবে পূজাপার্বন এবং সামাজিক আচারের বিধিবিধান ও দায়ভার অর্পিত হয় ব্রাম্মণদের ওপর। গাজাকুরি কল্পকাহিনীর আলোকে তৈরি করা হয় কথিত ধর্মগ্রন্থ নামক আরব্য উপন্যাস। অশিক্ষিত অনগ্রসর সম্প্রদায়কে পেশাভিত্তিক বর্ণপ্রথায় ভাগ করে অলৌকিকতা ও দেবদেবীর আদেশ-নির্দেশের ছাপ লাগিয়ে ধর্মীয় বিধান বা রীতিনীতিরূপে চাপিয়ে দেওয়া হয় নি¤œবর্ণের ওপর। মনু সংহিতা তার অন্যতম।

সেই চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় আদিকাল থেকে আজও বহমান। একই ধর্মের অনুসারী হওয়া সত্বে উচুঁ নিচু বর্ণবৈষম্যের স্তরভেদের কারণে নি¤œবর্ণের পূজোয় উচ্চবর্ণের অংশগ্রহন ধর্মত নিষিদ্ধ। তেমনি উচুবর্ণের একই পুজোয় নিচুবর্ণের সম্প্রদায় অস্পৃস্য। নি¤œবর্ণদের শোষণের উদ্দেশ্যে ঘৃনা ও বিদ্বেষের আলোকে তৈরি কথিত ধর্মগ্রন্থ (গীতা বা অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ) ছুঁয়া, দেখা বা পড়ার অধিকারও নিমন্বর্ণের ছিলনা। সেই অস্পৃস্যতার বিদ্বেষ ও ঘৃনা থেকে পরিত্রান পেতে কিংবা সামাজিক মর্যাদা পেতে আদিকাল থেকে তথা ধর্ম সৃষ্টির পর থেকে নি¤œবর্ণের মানুষ অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে। সেই থেকে বস্তুত হিন্দু ধর্মের সংখ্যাধিক্য হ্রাস পেতে শুরু করেছে। সমগ্র ভারত উপমহাদেশে আজ হিন্দুদের অধঃপতনের এটাই প্রধান কারণ। যা একুশ শতকের সভ্যতার যুগে এসেও বলবৎ আছে।

সেই বর্ণ প্রথার অনুসারী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আজ ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়ের মিলিত অসাম্প্রদায়িক ভারতবর্ষের সংবিধানে হিন্দুধর্মগ্রন্থ গীতাকে অন্তভুক্ত করে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিগণিত করার চেষ্টা চলছে। চারবর্ণের ওপর ঘৃণা ও বিদ্বেষের আলোকে তৈরি কথিত ধর্মীয় সামাজিক বিধিবিধানের গ্রন্থ মনু সংহিতাকে চাপিয়ে দেওয়ার অপচ্ষ্টো চলছে।একদিকে চলছে বর্ণবিদ্বেষের চরম সহিংসতা অন্যদিকে জোর করে হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরিত করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা। দলিত সম্প্রদায়ের মানুষরা একই ধর্মের অনুসারী হওয়া সত্বে তাদেরকে সামাজিক মর্যদা দিতে রাজী নয় উচুবর্ণের হিন্দুরা। তাই তাদের ওপর প্রায়ই চলছে দাবিয়ে রাখার নানাবিধ অত্যাচার অবিচার। দলিতদের মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ। বছর কয়েক আগে বৃষ্টির কারণে এক দলিত মন্দিরের বারান্দায় আশ্রয় নেওয়ার কারণে উচুবর্ণের লোকেরা তার মাথা দেওয়ালের গায়ে টুকরে টুকরে তাকে হত্যা করে ফেলা হয়। কোন চায়ের দোকানে কিংবা চুল কাটার সেলুনে তাদের যাওয়ার অধিকার নেই। উত্তর প্রদেশের উথারামপুরে উচুবর্ণের গ্রামে দলিতরা ঢুকতে না পারে সেজন্য ৬০০ফুট পাচিল তৈরি করে তাদের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্ণাটকে দলিতরা লুঙ্গি ভাঁজ করে পরলে চরম শাস্তি পেতে হয়। সরকারী কল থেকে জল নেবার অধিকার পর্যন্ত তাদের নেই। বছর কয়েক আগে কলকাতার এক হাইস্কুলে এক দলিত মেয়ে ভর্তি হলে ঘৃণা আর তাচ্ছিল্যের কারণে দুঃখে মেয়েটি এক পর্যায় আত্মহত্যা করে কথিত হিন্দু সমাজকে কলঙ্কমুক্ত করে গেছে। মাহারাষ্ট্রে যুক্তিবাদী আন্দোলনের নেতা ড. নরেন্দ্র দাবোলকর আজীবন ধর্মীয় কু-সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় ২০১৩ সালে উচুঁবর্ণের হিন্দুরা তাকে খুন করে ফেলে।

হিন্দু ধর্মের কথিত ধ্বজাধারী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আজ সমগ্র ভারতব্যাপী সহিংসতার অবকাশ তৈরিতে ব্যস্ত। বর্ণবিদ্বেষের অনুসারী সেই ঘৃণ্য শক্তি ভারতের অসাম্প্রদায়িক ভিত্তির ওপর সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদ কায়েমের অপচেষ্টায় লিপ্ত। অন্ধ-কুসংস্কার আর বর্ণবৈষম্যের ঘৃণ্য শৃঙ্খল চাপিয়ে রাখতে আবারও নতুন করে এ চক্রান্ত। অন্ধত্ব ও কু-সংস্কার মুক্ত হয়ে এর বিরুদ্ধে সকল হিন্দু সম্প্রদায় প্রতিবাদে সোচ্চার না হলে হিন্দু ধর্মের অধগতি অনিবার্য এতে সন্দেহের অবকাশ দেখিনা।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV