একেকজন প্রবাসীকে রাষ্ট্রদূতের ভমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে : ভার্জিনিয়ায় প্রবাসীদের সমাবেশে শেখ হাসিনা
এনআরবি নিউজ, ভার্জিনিয়া : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১/১১ তে গঠিত কেয়ারটেকার সরকার আমলের সংকটের সময় প্রবাসীদের সাহসী ভূমিকার কথা আমি কখনো ভুলবো না। সে সব দিনের দু:সহ স্মৃতি আমাকে গভীর কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করে প্রবাসীদের কাছে। সে সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ’খানেক প্রবাসী আমার সহযাত্রী হয়েছিলেন।’ ‘বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশের মানুষের জীবন-মানের উন্নয়ন ঘটেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ ধ্যান-ধারণার বিস্তার ঘটায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সরকারের সেবার আওতায় এসেছে। প্রশাসনে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতিসাধিত হয়েছে। আইনের শাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন এখন আন্তর্জাতিক মহলেও উচ্চারিত হচ্ছে। এসব তথ্য মার্কিন কংগ্রেস, স্টেট ডিপার্টমেন্টসহ আন্তর্জাতিক মহলকে সবিস্তারে অবহিত করতে একেকজন প্রবাসীকে রাষ্ট্রদূতের ভমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে’-আহবান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘চিহ্নিত একটি মহল বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি সহ্য করতে পারছে না। তারাই নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। ওদের অপপ্রচারে যাতে আন্তর্জাতিক মহল বিভ্রান্ত না হয় সে জন্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত সকল প্রবাসীকে সোচ্চার থাকতে হবে।’
২৮ সেপ্টেম্বর বুধবার অপরাহ্নে ভার্জিনিয়ায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাসার নিকটে টাইসন কর্ণারে অবস্থিত রিটজ কার্লটন হোটেলের মিলনায়তনে জড়ো হন ওয়াশিংটন মেট্র এলাকার আওয়ামী পরিবারের কয়েক শত নেতা-কর্মী। তারা সকলে বিভিন্ন স্থান থেকে ঐ হোটেলে গমন করেন শেখ হাসিনাকে ৭০তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে। কিন্তু সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যুর জন্যে শেখ হাসিনা জন্মদিনের সকল আড়ম্বরতা পরিহার করেন। অধিকন্তু তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে উল্লেখ করেন, ‘বাঙালি সংস্কৃতি লালন ও বিকাশে আজীবন সোচ্চার থাকা এই মানুষটির চলে যাওয়ায় গোটা জাতির সাথে আমিও ব্যথিত। আমার বড় ইচ্ছা ছিল, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীর অনুষ্ঠান তাঁর (সৈয়দ শামসুল হক) নেতৃত্বে করার। কিন্তু তা আর হলো না। আমি তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’ সৈয়দ হকের মৃত্যুর কারণে জন্মদিনের কেক কাটার সকল আয়োজনও বাতিল করা হয় শেখ হাসিনার নির্দেশে।
কোন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সমবেত নেতা-কর্মীদের কাছে এসে সরাসরি মঞ্চে গিয়ে বক্তব্য শুরু করেন শেখ হাসিনা। প্রায় পঞ্চাশ মিনিট বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় শেখ হাসিনা আবারো বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর খুনি হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, ‘হত্যা ক্যু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছিলো এবং ক্ষমতা আঁকড়ে ছিলো হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে।’তিনি বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। অপরাধীদের বিচার হচ্ছে। জাতির জনকের হত্যার বিচার হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। জাতিয় চারনেতা হত্যার বিচার সহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে। দেশ বিরোধীদের ঠাঁই আর স্বাধীন বাংলাদেশে হবেনা।’
ডিজিটাল বাংলাদেশের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিতে বাংলাদেশ সরকার যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা পৌঁছে দেবার অভিপ্রায়ে দেশের ৪৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ পোর্টালের সংখ্যা প্রায় ২৫০০০। দেশের সবক’টি উপজেলাকে আনা হয়েছে ইন্টারনেটের আওতায়। টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লক্ষ এবং ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৪ কোটি ৪৬ লক্ষে উন্নীত হয়েছে। সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে চালু করা হয়েছে ই-পেমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং। সরকারী ক্রয় প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পাদন করার বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। ৩-জি প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্কের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শেষে দেশে ৪-জি নেটওয়ার্কের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। মহাকাশে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করার সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে।’
বিদ্যুতখাতে আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিদ্যুতখাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৩২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুত সংযোজন, যার ফলে বিদ্যুতের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৪৭ শতাংশ থেকে ৬২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একই সাথে মাথাপিছু বিদ্যুত উৎপাদনের পরিমাণ ২২০ কিলোওয়াট ঘণ্টা থেকে বেড়ে ৩৪৮ কিলোওয়াট ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে ৩৫ লক্ষ গ্রাহককে।নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ৬৫টি বিদ্যুত কেন্দ্র।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাখাতে সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘শিক্ষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেবার জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো- শতভাগ ছাত্রছাত্রীর মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ কার্যক্রম। নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নেবার জন্য প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি ব্যবস্থা। বর্তমান ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ করেছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি সরকারীকরণ করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর শতকরা হার ছিল ৬১, বর্তমানে তা উন্নীত হয়েছে শতকরা ৯৭.৭ ভাগে। শিক্ষার সুবিধাবঞ্চিত গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে “শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট”।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নারীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে “জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা-২০১১”। নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি কার্যক্রম। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারী অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করতে গৃহীত হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। প্রযুক্তি জগতে নারীদের প্রবেশকে সহজ করতে ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্রের মতো ইউনিয়ন ভিত্তিক তথ্যসেবায় উদ্যোক্তা হিসেবে একজন পুরুষের পাশাপাশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একজন নারী উদ্যোক্তাকেও। “জাতীয় শিশু নীতি-২০১১” প্রণয়নের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হয়েছে শিশুদের সার্বিক অধিকারকে। দেশের ৪০টি জেলার সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স স্থাপন করা হয়েছে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল। দুঃস্থ্, এতিম, অসহায় পথ-শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ১৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য জাতিসংঘের সাউথসাউথ, চ্যাম্পিয়ান অব দ্যা আর্থ, ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ফর আইসিটি, প¬ানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন ও এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওর্য়াড ইত্যাদি এওয়ার্ডে ভূষিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রবাসী শ্রমিকদের উন্নয়ন, শিল্প ও বাণিজ্য খাতে সফলতা অর্জন সহ নানা বিষয়ে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসীদেরকে আরো বেশি করে দেশের উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত হবার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছি। তাই পরিবারকে তেমন সময় দেয়া হয়ে উঠেনা। ওয়াশিংটনে বসেও প্রতিদিন ছয় ঘন্টা করে অফিস করে দেশের জরুরি কাজ সমাধান করেছি। বাংলাদেশকে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করার সংকল্পে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। আমার আর কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই। শুধু একটাই আশা দেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করা। এ ব্যাপারে আপনাদের সবার সহযোগীতা কামনা করি।’ বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি তার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের বাসায় চলে যান। সভায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকেও নেতাকর্মীরা এসেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন ড. সিদ্দিকুর রহমান, নিজাম চৌধুরী, আব্দুস সামাদ আজাদ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের জাকারিয়া চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারিকুল হায়দার চৌধুরী, মেট্র ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী বাকি প্রমুখ। বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদও ছিলেন সুধীজনের মধ্যে।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ