এলডিসিগুলোকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহায়তা দিতে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহবান জাতিসংঘের
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়ন সহায়তা দিতে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সম্প্রতি এলডিসি বিষয়ক চতুর্থ জাতিসংঘ সম্মেলনের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সাধারণ পরিষদ এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এলডিসি বিষয়ক চতুর্থ জাতিসংঘ সম্মেলন ২০১১ সালের ৯-১৩ মে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো ২০১১-২০২০ দশকের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্য দূরীকরণ, আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জন এবং ২০২০ সালের মধ্যে ৪৮টি এলডিসি’র অর্ধেক উচ্চতর স্তরে উন্নয়নের লক্ষ্যে এলডিসিগুলোর কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা।
সাধারণ পরিষদ অভিমত প্রকাশ করে যে এলডিসিগুলোর উন্নয়নে উন্নত দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) প্রতিশ্রুতি পূরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে তাদের মোট জাতীয় আয়ের ০.৭০ শতাংশ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে দেয়ার কথা। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে মোট জাতীয় আয়ের ০.১৫ শতাংশ থেকে ০.২০ শতাংশ অর্থ সহায়তা দেয়ার কথা। কিন্তু অধিকাংশ উন্নত দেশই তাদের প্রতিশ্রুতির অনেক পিছনে আছে।
পর্যালোচনা বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৩ সালে এলডিসিগুলোতে দ্বিপাক্ষিক ওডিআই প্রবাহ ১২.৩ শতাংশ বেড়েছে। যদিও ২০১২ সালে তা ৯.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।
এলডিসি সত্ত্বেও বাংলাদেশ দ্রুত এলডিসি থেকে উত্তরণে ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়, মানব সম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক – এই তিনটি ক্ষেত্রেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মাথাপিছু আয় ২০০৮ সালের ৬৩০ মার্কিন ডলার থেকে ১ হাজার ২০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। যা এলডিসি উত্তরণ-সীমা ১ হাজার ২৪২ ডলারের কাছাকাছি। দারিদ্র্যের হার ২০০৫ সালের ৪০ শতাংশ থেকে ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
দেশে শিক্ষার ক্ষেত্রে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত লিঙ্গ-সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি হাজার জীবিত-জন্মে ৫-বছরের কম শিশু মৃত্যুর হার ২০০৮ সালের ৬৫ থেকে ৩৪-এ নেমে এসেছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। প্রায় শতভাগ মানুষ নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটারি সুবিধার আওতায় এসেছে।
সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় যে, এলডিসিগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ঝুঁকিতে আছে। দেশগুলো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সমুদ্র-স্তর বৃদ্ধি, উপকূলীয় ধসের শিকার হচ্ছে। এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন আরও হুমকির মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশ অবশ্য ইতোমধ্যেই প্রতিকূল আবহাওয়া উপযোগী ধানসহ বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবন করেছে। ধস রোধ এবং ভূগর্ভস্থ কার্বন ধরে রাখতে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। তথ্যপ্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্যোগ সতর্কতা ও ব্যবস্থাপনা কৌশল শক্তিশালী করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে স্কুল-কাম-ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণসহ ব্যাপক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এলডিসিগুলোর প্রয়োজনীয়তা, জটিল চ্যালেঞ্জ এবং সম্পদ-বৈষম্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে ওডিএ বরাদ্দের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!