এ বছরের পিস ইনডেক্সে এগিয়েছে বাংলাদেশ, পেছাল ভারত
বিশ্বের শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকা ‘পিস ইনডেক্স’-এ গত বছরের তুলনায় এগিয়েছে বাংলাদেশ। আর দুই ধাপ পিছিয়েছে ভারত। মোট ১৬২টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১৪৩তম। এদিকে, বাংলাদেশ ২০১৩ সালের ১০৫তম অবস্থান থেকে এগিয়ে এবার ৯৮তম স্থান পেয়েছে। শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় এক নম্বরে এসেছে আইসল্যান্ড। সবচেয়ে অশান্তি বিরাজ করছে সিরিয়াতে।
রিপোর্টে দেখানো হয়েছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে শান্তি নষ্ট হচ্ছে। মোট ২২টি ক্যাটাগরির ভিত্তিতে এই ইনডেক্স প্রস্তুত করা হয়। এ বছর চারটি ক্যাটাগরি বিশ্বের শান্তি নষ্ট করেছে। এগুলো হলো ; সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে যুদ্ধের সংখ্যা, দেশের জনগণের একটি শতাংশ হিসেবের বাইরে ধরা এবং দেশের অভ্যন্তরে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা।
ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) তাদের পিস ইনডেক্স রিপোর্টে ভারতকে নিয়ে বেশ বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। তারা জানায়, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা নাজুক অবস্থায় রয়েছে যার কারণ হিসেবে মাওবাদী মুভমেন্টকে দায়ী করা হয়। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্পর্শকাতর নানা সমস্যাও দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
পিস ইনডেক্সে ভারতের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে আরো বলা হয়, দেশটির জাতিগত বিভিন্নতা এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া তেলেঙ্গানার ঘটনায় ভবিষ্যতে আরো জাতিগত দাঙ্গার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক সন্ত্রাসের স্কেলে ৫ পয়েন্টের মধ্যে ভারতকে দেওয়া হয়েছে ৪ পয়েন্ট যা রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাজে অবস্থার প্রকাশ করে।
এ ছাড়া ভারতে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ক্রমাগত ঘটে যাওয়া অপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট নানা খাতে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে, তা রীতিমতো দেশের অর্থনীতিতে ক্ষতি বয়ে এনেছে। ২০১৩ সালে এই খাতে সরকারের খরচ হয়েছে ১৭৭ বিলিয়ন ডলার যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশের সমান। এই পরিমাণ অর্থ জনগণের মাথাপিছু ১৪৫ ইউএস ডলার করে পড়ে বলে জানায় আইইপি।
তবে পিস ইনডেক্সে ১৬২টি দেশের মধ্যে একেবারে পিছের দিকে থাকার সবচেয়ে বড় কারণ রাজনৈতিক দুর্নীতি। দেশের শান্তি বৃদ্ধিতে এই দেশটিতে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।
এদিকে, গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্সে ১৫৯টি দেশের মধ্যে একেবারে প্রথমদিকেই ভারত, রয়েছে ৪ নম্বরে। মাও বিদ্রোহীদের ২০ হাজার সদস্যের সশস্ত্র বাহিনী দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় বড় আঘাতটি হেনেছে। ফলে এই ইনডেক্সে এক লাফে চতুর্থ স্থান পেয়েছে ভারত।
দেশটির সেনাবাহিনীর খরচ বিশ্বের মধ্যে অন্যতম। রিপোর্টে বলা হয়, এই বিশাল খরচ শুধুমাত্র প্রতিবেশী পাকিস্তান, চীন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অন্তসারশূন্য সম্পর্কের কারণে হচ্ছে।
অবশেষে আইইপির প্রতিষ্ঠাতা এবং এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান স্টিভ কিলেলিয়া বলেন, এ সব কিছুর উন্নতি ঘটাতে এখন নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকবে সবাই।
বরাবরের মতো এবারও ইউরোপের দেশগুলো শান্তিপূর্ণ অবস্থা ধরে রেখেছে। ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং সুইজারল্যান্ড তাদের রেকর্ড ধরে রেখেছে।
ভবিষ্যতে শান্তি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা যেসব দেশের রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে কাতার। ব্যাপক উন্নতি করেছে জর্জিয়া, জাম্বিয়া, হাইতি, আর্জেন্টিনা, চাদ, নেপাল, বুরুন্ডি এবং লাইবেরিয়া।
সূত্র : গার্ডিয়ান, ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস -কালের কণ্ঠ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!