কম্পিউটারে ‘ভরসা’ নেই ফিরে আসছে টাইপরাইটার
সাইদুল ইসলাম :
কম্পিউটারে ই-মেইল বা অন্য কোন মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উন্নত দেশের সরকারপ্রধানরা গোপন দলিলগুলো এখন টাইপরাইটারের মাধ্যমে লেখার কৌশল অবলম্বন করেছে। সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস একাধারে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, দূতাবাস এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তারবার্তা ফাঁস করে দেয়ার পর এখন কেউ আর কম্পিউটারে নিরাপদবোধ করছেন না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নিরাপত্তা এজেন্ট এডওয়ার্ড স্নোডেন আবারো গোপন তথ্য ফাঁস করে দেয়ায় উন্নত দেশগুলোর উদ্বেগের মাত্রা আরো বেড়েছে।
ক্রেমলিনের একটি সূত্র জানিয়েছে, গোপন দলিলগুলো এখন আর কম্পিউটারে টাইপ করা হবে না। টাইপরাইটারের মাধ্যমে চিঠি বা দলিলগুলো টাইপ করে তা বিশেষ কায়দায় গন্তব্যে পৌঁছানো হবে। এছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে যে সব রিপোর্ট পেশ করা হবে তাও টাইপরাইটারে টাইপ করা হবে। উল্লেখ্য, রাশিয়ার কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এখনো টাইপরাইটার ব্যবহার করছেন। এদিকে, শুধু রাশিয়াই নয়, পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ তাদের তথ্যের সুরক্ষায় কম্পিউটার বাদ দিয়ে টাইপরাইটারের দিকে ঝুঁকছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোসহ অন্যান্য দেশ তাদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবছে।
টাইপরাইটার যুগের অবসান
‘৭০-এর দশক থেকে অফিসগুলোতে টাইপরাইটারের জায়গা দখল করতে থাকে কম্পিউটার। সরকারি অফিসগুলোতে কম্পিউটার অনেক দেরিতে আসলেও বেসরকারি বড় বড় অফিসে টাইপরাইটারের জায়গা দ্রুত দখল করতে থাকে কম্পিউটার। এতে করে টাইপরাইটারের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। এ কারণে ১৯৯০ সালে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি আইবিএম তাদের টাইপরাইটার উত্পাদনের ইউনিটটি অন্য একটি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়। তবে সরকারি অফিসগুলোতে টাইপরাইটারের দাপট চলতে থাকে। ২০০৮ সালে নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ তাদের পুলিশ বিভাগের জন্য কয়েক হাজার টাইপরাইটার কিনেছে। তবে অফিসগুলোতে কম্পিউটার দ্রুত জায়গা দখল করে নিলেও পৃথিবীর অনেক দেশে এখনো টাইপরাইটার চলছে। এর মধ্যে ল্যাটিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলো অন্যতম। বাংলাদেশেও এখনো টাইপরাইটারের প্রচলন রয়েছে। তবে কোন্ কোম্পানি সর্বশেষ টাইপরাইটার উত্পাদন করেছে তা নিয়ে মতভেদ আছে। ভারতের কোম্পানি গোদরেজ তাদের কারখানা বন্ধ করে দেয়ার আগে গণমাধ্যমগুলো রিপোর্ট করেছিলো, ‘পৃথিবীর সর্বশেষ টাইপরাইটার কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’ এটি ছিলো ২০১১ সালের এপ্রিল মাসের ঘটনা। কিন্তু ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যের ব্রাদার্স কোম্পানি দাবি করে পৃথিবীর সর্বশেষ টাইপরাইটারটি তারাই উত্পাদন করেছে। পরে তারা শেষ টাইপরাইটারটি লন্ডনের সায়েন্স মিউজিয়ামে জমা দেয়।ইত্তেফাক
সর্বশেষ সংবাদ
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের