কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ূব বাচ্চুকে নিয়ে নিউইয়র্কে ‘ব্যবসা’…
তোফাজ্জল লিটন : বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ূব বাচ্চু’র নাম বিক্রি করে নিউইয়র্কে ব্যসবা করেছে শো টাইম মিউজিক। নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় ‘ ট্্িরবিউট টু আইয়ূব বাচ্চু’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানে ছিলো আলোচনা এবং সঙ্গীত পরিবেশনা। যারা অনুষ্ঠানে আইয়ূব বাচ্চুকে নিয়ে আলোচনা করেছেন তাদের কারোরই সঙ্গীতের সঙ্গে সংস্পর্শ নেই। আলোচকগণ ছিলেন রাজনৈতিক ও ব্যবসাহী ব্যক্তিবর্গ। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ যারা মূলত ফোক আঙ্গিকের গান করে থাকেন। আইয়ূব বাচ্চু’র নামে অনুষ্ঠান শুনে এতে স্পন্সর করেছেন নিউইয়র্কের অন্তত ২৪টি বড় ব্যবসাহী প্রতিষ্ঠান। প্রবেশ মূল্যহীন এ অনুষ্ঠানে আয়োজকসহ মোট দর্শক ছিলেন আনুমানিক ৬০-৬৫জন।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক কমিউনিটি এ্যাকটিভিস্ট হাজী এনাম অনুষ্ঠান সম্পর্কে বলেন, আইয়ূব বাচ্চু’র অনুষ্ঠান শুনে আমি অসুস্থ শরীরে গিয়েছিলাম অনুষ্ঠান দেখতে। তাঁর সম্পর্কে আলোচনা শুনতে, ১৯৯০ সাল থেকে যাঁর গান শুনে আসছি সেই প্রিয় গান শুনতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং ব্যবসাহীরা তাকে নিয়ে ‘ উনি খুব ভালো লোক ছিলেন’ ধরনের আলোচনা করছেন। আমি খুব হতাশ হয়েছি। যদি আইয়ূব বাচ্চু’র সঙ্গে সম্পর্কিত বা গানের জগতের কোনো ব্যাক্তিত্ব এখানে আলোচনা করতেন তাহলে তা খুব মানানসই হতো। যে কাউকে দিয়ে আলোচনা এবং গান গাইয়ে আয়োজকরা আইয়ূব বাচ্চুকে ছোট করেছেন বলে আমি মনে করি।
তাসলিমা খানম এবং তাঁর ২৪ বছরের মেয়ে ন্যান্সি খানম দুজনেই আইয়ূব বাচ্চু’র ব্যাপক ভক্ত। এই অনুষ্ঠান নিয়ে তাসলিমা খানম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আইয়ূব বাচ্চু’র নাম বিক্র করে যারা এসব ধান্ধাবাজি করছেন তাদেরকে ধিক্কার জানাই। আমার মেয়ে ন্যান্সি আইয়ূব বাচ্চু মারা যাবার পর দু’দিন কিছুই মুখে দেয়নি। যারা আমাদের মতো হজারো ভক্তের আবেগকে নিয়ে ব্যবসা করে তাদের নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। জীবনে মঞ্চে গান গায় নাই কোনো দিন এমন মানুষও এখানে গান গেয়েছে আঞ্চলিক উচ্চারণ নিয়ে। অসহ্য। নিউইয়র্কে অন্য ১০টা অনুষ্ঠানের মতো এখানে গান করেছেন ফোক শিল্পী কৃষœা তিথি, শাহ মাহবুব, রুকসানা মির্জা এবং অন্য অনেক শিল্পী যাদেরকে চিনিও না।
অনুষ্ঠানের স্পন্সরদের একজন জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ)ও এক অংশের সভাপতি শাহ নেওয়াজ বলেন, দেশি সংস্কৃতির বিকাশের জন্য নানান অনুষ্ঠানে আমরা পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকি। অনুষ্ঠানটি আইয়ূব বাচ্চুর মানের হয়নি কথা সত্য। অনুষ্ঠানে দর্শক কম হয়েছে, আলোচকরা বাচ্চু সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না, যারা গান গেয়েছেন তারা কেউ ব্যান্ডের শিল্পী না। সব ঠিক আছে। তারপরেও তো শো টাইম মিউজিক আইয়ূব বাচ্চুকে শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজনটি করেছে তাই আমি তাদেও স্পন্সর করেছি।
অনুষ্ঠানের আয়োজক শো টাইম মিউজিকের কর্ণধার আলমগীর খাঁন আলম’র সঙ্গে অনুষ্ঠানের এক সাপ্তাহ আগে এই প্রতিবেদক জানতে চেয়েছিলেন অনুষ্ঠানে আলোচক এবং সঙ্গীত পরিবেশন করবেন কে? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, এখনো কিছু চুরান্ত হয় নি। অনুষ্ঠানের ৩দিন আগে জানাতে পারবো। অনুষ্ঠানের আগের দিন রাতে একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না বকুল ভাই জানেন, আমি তাদের সঙ্গে আছি মাত্র।’ অনুষ্ঠানের দিন দেখা গেছে আলম খাঁনই প্রধান আয়োজক এবং সর্বেসর্বা। অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছিলেন, জাতীসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফাইজুন্নেসা ।
আইয়ূব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি একাধারে গায়ক, গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার, ও চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শিল্পী ছিলেন। এলআরবি ব্যান্ড দলের লিড গিটারবাদক এবং ভোকাল বাচ্চু ছিলেন বাংলাদেশের ব্যান্ডসঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি শিল্পী। তিনি তার শ্রোতা-ভক্তদের কাছে ‘এবি’ নামে পরিচিত ছিলেন। মূলত রক ঘরানার কন্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক গান, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং লোকগীতি ঘরানায়ও তিনি কাজ করেছেন। আইয়ূব বাচ্চু ব্যক্তিগত জীবনে ফেরদৌস আইয়ূব চন্দনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের তাজওয়ার এবং ফাইজুর নামে যথাক্রমে একজন পুত্র ও কন্যা রয়েছেন। বাচ্চু ১৮ অক্টোবর ২০১৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃর্ত্যুও পরে তাঁর নামাজে জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছিলো।
সর্বশেষ সংবাদ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!