কীভাবে জিমেইল হ্যাক হলো?
সহজেই কি আপনার জিমেইল হ্যাক করা যাবে? আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্ট যদি হ্যাক হয়, তার জন্য আপনি আপনার বন্ধুদের দায়ী করতে পারেন। কেন? এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে সম্প্রতি গুগল প্রকাশিত একটি গবেষণার ফল থেকে। এক খবরে সিএনএন তুলে এনেছে জিমেইল হ্যাক হওয়ার কারণ ও এ থেকে প্রতিকারের উপায়।
গুগল জানিয়েছে, আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে বা লগইনের তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে চলে গেলে আপনি ৩৬ গুণ বেশি স্ক্যামের শিকার হবেন। স্ক্যাম মেইল হচ্ছে প্রলোভন দেখিয়ে দুর্বৃত্তদের পাঠানোর ভুয়া মেইল।
গুগল জানিয়েছে, জিমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনা দুর্লভ। প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ অ্যাকাউন্টের মধ্যে মাত্র নয়টি থেকে তথ্য চুরি হয়। তবে যখন এই ঘটনা ঘটে, তা দ্রুত ঘটে যায়। সাধারণত পেশাদার দুর্বৃত্তরাই আপনার ই–মেইল থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে নেওয়ার জন্য মেইল হ্যাক করে থাকে। সাধারণত পাঁচটি দেশে এই ধরনের পেশাদার সাইবার দুর্বৃত্তদের কার্যক্রম বেশি দেখা যায়। এগুলো হচ্ছে চীন, আইভরি কোস্ট, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। অবশ্য, এই দুর্বৃত্তরা সারা বিশ্বের সব জিমেইল ব্যবহারকারীকে লক্ষ্য করেই আক্রমণ চালায় এবং জিমেইলের ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয়।
গুগলের দাবি, এই ধরনের সাইবার দুর্বৃত্তদের স্ক্যাম মেইল ঠেকাতে গুগল কার্যকর স্ক্যান ব্যবস্থা রেখেছে। এ ছাড়াও অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলে তা দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও রেখেছে। কিন্তু তার পরও দুবৃর্ত্তদের আটকে রাখা যাচ্ছে না। তারা এই বাধা টপকে নতুন নতুন ফাঁদ পাতছে। তিন বছর ধরে চালানো গবেষণায় গুগল এই দুর্বৃত্তদের নিয়ে গবেষণা করেছে।
স্ক্যাম ৪৫ শতাংশ কার্যকর
সাইবার দুর্বৃত্তদের তৈরি কার্যকর স্ক্যাম ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে কাজ করে। এই সংখ্যা শুনতে অনেক বেশি মনে হলেও ঠিকভাবে তৈরি এই স্ক্যামগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হয়। তাঁরা মূলত জিমেইল ব্যবহারকারীর তথ্য-উপাত্ত চেয়ে গুগলের বা বিশ্বাসযোগ্য কোনো উৎসের অনুকরণে মেইল পাঠায়। তাঁদের পাঠানো মেইলে যে লিংক থাকে, তাতে ক্লিক করলে তা গুগলের লগ-ইন সদৃশ আরেকটি পেজে নিয়ে যায় ই–মেইল ব্যবহারকারীকে। কিন্তু তা ভুয়া একটি পেজ।
নিরাপত্তা পরামর্শ: আপনার জিমেইল ইউজার নেম বা পাসওয়ার্ড কখনো কোথাও মেইল করবেন না। সব সময় যে লিংকে ক্লিক করছেন, সেই ইন্টারনেট ঠিকানাটি আসল জিমেইল সাইটের কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবেন।
যা হওয়ার এক দিনেই হয়
অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার এক দিনের মধ্যেই হ্যাকাররা যা সর্বনাশ করার করে ফেলে। তাদের কাছে ই–মেইলে ঢোকার পাসওয়ার্ড চলে গেলে গড়ে সাত ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকাউন্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হয়ে যায়। তবে ২০ শতাংশ ই–মেইল ব্যবহারকারী এই সাত ঘণ্টা সময়ও পান না। মাত্র ৩০ মিনিটেই তার সব তথ্য চুরি হয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা এরপর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলে ই–মেইল পুরোপুরি কব্জা করে ফেলে বলে ওই অ্যাকাউন্ট আর ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
নিরাপত্তা পরামর্শ: মোবাইল ফোন বা ব্যাক আপ মেইলে অ্যাকাউন্ট অ্যালার্ট সাইন আপ করে রাখুন। এবং অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বুঝতে পারলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
তিন মিনিটে সব মেইল পড়া শেষ
আপনার অনেক মেইল হ্যাকাররা কি ধরে ধরে পড়ে? এতে অনেক সময় লাগে বলে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পুরো ই–মেইল স্ক্যান করে ওই দুবৃর্ত্তরা এতে মাত্র তিন মিনিটেই তাদের কাঙ্ক্ষিত তথ্য পেয়ে যায়। আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং আপনার স্বাক্ষরের কোনো ছবি আছে কি না, তার খোঁজ আগে করে তারা। এ ছাড়াও এই ই–মেইল দিয়ে পেপ্যাল, আমাজনের মতো অন্য অ্যাকাউন্টে ঢোকা যায় কি না, তা পরীক্ষা করে দেখে। তারা ই–মেইলের সার্চ ফিচার ব্যবহার করে ‘ওয়্যার ট্রান্সফার’, ‘ব্যাংক’, ‘অ্যাকাউন্ট সেস্টমেন্ট’ প্রভৃতি লিখে সার্চ দেয়।
নিরাপত্তা পরামর্শ: আপনি নিজে থেকেই গুগলে এই শব্দগুলো লিখে সার্চ দিন। এ ধরনের কোনো স্পর্শকাতর তথ্য ই–মেইলে থাকলে তা মুছে ফেলুন বা সরিয়ে রাখুন। মেইলে এ ধরনের তথ্য রাখবেন না।
বন্ধুরাও বিপদে
আপনার ই–মেইল হ্যাক হওয়া মানে আপনি শুধু একা নন, বিপদে পড়ছেন আপনার বন্ধুরাও। এ জন্য তারা আপনাকে দায়ী করতে পারে। সাইবার দুর্বৃত্তরা আপনার নাম ভাঙিয়ে আপনার বন্ধুদের কাছে সাহায্যের জন্য মেইল পাঠাতে পারে। আপনার ই–মেইল ব্যবহার করে বন্ধুদের প্রতারণা করতে পারে এই দুর্বৃত্তরা। শুধু তা–ই নয়, আপনি বিপদে পড়েছেন জরুরি কিছু টাকা দরকার বলে মেইলও করতে পারে। দুর্বৃত্তরা যথেষ্ট চতুর হয়। তারা আপনার বন্ধুর পাঠানো ইমেইলগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য ইমেইলে সরিয়ে নিতে পারে বলে আপনি অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করতে পারলেও বন্ধুর মেইলের উত্তর পাবেন না। তাই আপনার অগোচরে আপনার বন্ধু কখন আক্রমণের শিকার হয়েছে আপনি সেটা জানতেও পারবে না। সবচেয়ে বাজে বিষয় হয় যখন দুর্বৃত্তরা আপনার সব মেইল অ্যাড্রেস ও কন্টাক্টস মুছে দেয় তখন। এতে আপনি আপনার কোনো বন্ধুকেই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানানোর সুযোগ পান না। গুগলের অ্যাকাউন্ট রিকভারি সিস্টেম ব্যবহার করে এই তথ্য ফিরিয়ে আনা যায়, তবে তার আগে আপনাকে নিজের অ্যাকাউন্টটি উদ্ধার করতে হবে।
নিরাপত্তা পরামর্শ: আপনার ই–মেইল যাতে হ্যাক না করতে পারে সে ব্যবস্থা শুরুতেই নিন। আপনার মেইলে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা চালু করুন। দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীকে তাঁর অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি লগ ইন করার সময় স্মার্টফোন ও ট্যাবে আরও একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হয়। এতে অতিরিক্ত একটি স্তরের নিরাপত্তা পাওয়া যায়। তাই যতক্ষণ হাতে মোবাইল থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত আর কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছে না সেই বিষয়টি নিশ্চিত হয়। গবেষকেরা বলছেন, নতুন কোনো কম্পিউটার থেকে লগ ইন করার সময় এতে হয়তো অতিরিক্ত ৩০ সেকেন্ড সময় লাগে কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে তা সুফল বয়ে আনে।প্রথম আলো
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!