Sunday, 25 October 2026 |
শিরোনাম
হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
সব ক্যাটাগরি

কেন নারীরা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 86 বার

প্রকাশিত: March 7, 2013 | 3:13 PM

জন কেরিজন কেরি

পাকিস্তানের সাহসী কিশোরী মালালা ইউসুফজাইপাকিস্তানের সাহসী কিশোরী মালালা ইউসুফজাই IIIIIIIIIIII

জন কেরি : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম সপ্তাহে আমার সৌভাগ্য হয়েছিল বার্মা থেকে আসা এক দল সাহসী নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার। এই দলের মধ্যে দুজন ছিলেন সাবেক রাজবন্দী। তাঁদের সবাইকে যদিও নিজেদের জীবনে অবিশ্বাস্য সব কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, তাই এসব সত্ত্বেও তাঁরা প্রত্যেকেই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন—মেয়েদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ প্রদান, বেকারদের জন্য চাকরি খুঁজে দেওয়া ও সুশীল সমাজের আরও বৃহত্তর অংশ নেওয়ার জন্য পরামর্শ প্রদান—এসব কাজ তাঁরা করে গেছেন। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে তাঁরা আরও অনেক বড় বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবেন এবং আগামী বছরগুলোয় তাঁরা সমাজ ও দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এ ধরনের সুযোগগুলোই আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে কেন নারী ও মেয়েদের অধিকার রক্ষা এবং তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী সরকারগুলো, প্রতিষ্ঠানগুলো ও ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাজ করা অব্যাহত রাখা এতটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমাদের দেশের মতোই বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলো নারীদের পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া সমাধান করা সম্ভব নয়। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব দেশে পুরুষ ও নারী অনেকটাই সমান অধিকার ভোগ করে থাকেন, সে দেশগুলো অন্য অনেক দেশের চেয়ে অনেক বেশি অর্থনৈতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, সেসব দেশে লিঙ্গবৈষম্যের কারণে নারী ও মেয়েশিশুদের চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে ও বাজারে প্রবেশের তেমন কোনো সুযোগ নেই, সীমিত সুযোগ রয়েছে সেই দেশগুলোর চেয়ে। একইভাবে, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার অনুমান হলো, বীজ, সার ও প্রযুক্তি ব্যবহারে পুরুষ কৃষকদের মতো নারী কৃষকদেরও সমান সুযোগ থাকত, তাহলে বিশ্বে নারী কৃষকেরা পুষ্টিহীনতার শিকার—এমন সংখ্যা আরও ১০ থেকে ১৫ কোটি কমে যেত। তার পরও অসংখ্য সমাজ ও পরিবারে নারী ও মেয়েরা এখনো অবমূল্যায়নের শিকার হয়, স্কুলে যাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং শিশু অবস্থায়ই তাদের বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। দুজন কন্যাসন্তানের বাবা হিসেবে আমি নির্ভয়া নামের ওই মেয়েটির মা-বাবার কষ্টের কথা কল্পনাও করতে পারি না। ২৩ বছর বয়সী সেই মেডিকেলের ছাত্রীকে নয়াদিল্লির একটি বাসে ধর্ষণ করা হয়। কারণ, তিনি ছিলেন একটি মেয়ে। কিংবা পাকিস্তানি মেয়ে মালালা ইউসুফজাইয়ের মা-বাবার বেদনার কথাও আমি কল্পনা করতে পারি না। চরমপন্থীরা তাকে গুলি করে। সেও কেবল একটি বাসে চড়েছিল। কারণ, সে কেবল স্কুলে যেতে চেয়েছিল। তবে নিজ বিশ্বাসের প্রতি মালালার নির্ভীক নিবেদন দেখে আমি অনুপ্রাণিত। মৃত্যুর সময়ও নির্ভয়া তাঁর আক্রমণকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার প্রতি যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন এবং তাঁর বাবা ও অন্য বাবারা তাঁদের মেয়েদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে যে সাহস দেখিয়েছেন, তা দেখে আমি অনুপ্রাণিত বোধ করেছি। কোনো দেশই তার অর্ধেক জনগণকে পেছনে ফেলে এগোতে পারে না। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, আমাদের সবার সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য লিঙ্গসমতা গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বব্যাপী নারী ও মেয়েদের জন্য বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ কার্যক্রমে বিনিয়োগ করি, যাতে তাঁরা শুধু নিজেদের পরিবারকেই যে ওপরে তুলবেন, তা নয়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতেও তাঁরা সহায়তা করতে পারবেন। আমরা মেয়েদের শিক্ষায় বিনিয়োগ করি, যাতে তারা জোর করে বাল্যবিবাহ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে, দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে পারে এবং নিজেদের স্থানীয় নেতৃত্ব ও সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। মেয়ে ও নারীদের শিক্ষার প্রসার ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির কারণে পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নতি ঘটবে। আমরা বিশ্বব্যাপী আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, নারী কৃষকদের শক্তিশালীকরণ ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করছি। কারণ, সব সমাজই লাভবান হয়, যখন নারীরা সুস্বাস্থ্য অর্জন, নিরাপদ অবস্থান এবং তাঁদের শ্রম, নেতৃত্ব ও সৃষ্টিশীলতা কাজে লাগাতে পারেন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকেরা প্রতিটি জায়গা, শান্তি-প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা প্রচেষ্টায় নারীর শক্তিকে সম্পূর্ণরূপে কাজে লাগাতে সচেষ্ট থাকেন। কারণ, নারীর অভিজ্ঞতা, উদ্বেগ ও অন্তর্দৃষ্টি ভবিষ্যতের দ্বন্দ্ব প্রতিরোধে আরও দীর্ঘকালীন শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস, একটি উৎসবের দিন। এই দিনটিতে আমাদের প্রত্যেককে আবার নতুন করে সংকল্পবদ্ধ হতে হবে এই অসমতা দূরীকরণে, যা এই বিশ্বের প্রতিটি কোণকোনাচে সমৃদ্ধির অন্তরায়। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে পারি এবং আমাদের অবশ্যই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে, যাতে আমাদের প্রত্যেকের কন্যাসন্তান নির্ভয়ে বাসে করতে ও বিদ্যালয়ে যেতে পারে। আমাদের বোনেরা যাতে তাদের সম্ভাবনাকে পরিপূর্ণ করতে পারে এবং প্রত্যেক নারী ও মেয়ে তার সম্ভাবনাময় স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। জন কেরি: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ