Monday, 26 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
সব ক্যাটাগরি

কে হবেন আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট?

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 90 বার

প্রকাশিত: January 20, 2015 | 5:02 PM

আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এখনো দুই বছর বাকি, কিন্তু প্রার্থিতা লাভের চেষ্টায় পর্দার অন্তরাল থেকে প্রচারণা চলছে পুরোদমে। পর পর দুই দফা বারাক ওবামার কাছে পরাস্ত হওয়ার পর রিপাবলিকান পার্টি এখন যেভাবেই হোক, ২০১৬ সালে হোয়াইট হাউস তাদের দখলে চায়। সেই লক্ষ্যে ‘নির্বাচিত হতে পারেন’ এমন একজন প্রার্থীর খোঁজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
কে হবেন সেই কাঙ্ক্ষিত প্রার্থী?
ডেমোক্রেটিক পার্টি নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই। হিলারি ক্লিনটন যদি সুস্থ থাকেন এবং নতুন কোনো অজ্ঞাত স্ক্যান্ডালের গপ্প না বের হয়, তাহলে তিনি নির্ঘাত নিজ দলের মনোনয়ন পাবেন। আপাতত সব জল্পনা-কল্পনা চলছে রিপাবলিকান দলের প্রার্থিতা নিয়ে।
দুই সপ্তাহ আগে হঠাৎ প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁর আগ্রহ ব্যক্ত করে জেব বুশ সবার নজর কাড়েন। দুই দফা ফ্লোরিডার গভর্নর থাকাকালে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। অর্থনীতির ব্যাপারে তাঁর অবস্থান রক্ষণশীল, কিন্তু কোনো কোনো সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নে তিনি অপেক্ষাকৃত উদার। যেমন, অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার ব্যাপারে তাঁর সমর্থন রয়েছে। ওবামার স্বাস্থ্যবিমা আইনের সমালোচনা করলেও এ ব্যাপারে তাঁর আপত্তি কিঞ্চিৎ নিম্নকণ্ঠ। আইনটি বাতিলের আগে আমাদের একটি বিকল্প আইন প্রস্তাব করতে হবে, তিনি বলেছেন। সমকামী বিবাহের প্রতিও তিনি নিম্নকণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন। এসব কারণে তাঁকে অনেকে নিজ দলের সবচেয়ে ‘বাস্তবসম্মত ও নির্বাচনযোগ্য’ প্রার্থী মনে করেন। তিনি ইতিমধ্যে অর্থের সন্ধানে সারা দেশ চষে বেড়ানো শুরু করেছেন।
অনেকেই বলছেন, সবার আগে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করে জেব তাঁর দলের মধ্যে সুবিধাজনক অবস্থান করে নিয়েছেন। কিন্তু এ দেশে প্রেসিডেন্ট হতে হলে সবার আগে ‘প্রাইমারি’ নামক পুলসিরাত পার হতে হয়। এই প্রাথমিক পর্যায়ে মুখ্যত দলের সবচেয়ে অনুগত—এবং সেই কারণে সবচেয়ে রক্ষণশীল—সদস্যরা ভোট দিয়ে থাকেন। তাঁরা জেব বুশের এই আপাত উদারনৈতিক অবস্থান সুনজরে দেখবেন, এ কথা ভাবার কোনো কারণ নেই।
গত সপ্তাহে মিট রমনি জানিয়েছেন, তিনি পুনরায় প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে আগ্রহী। রমনি ২০০৮ সালে নিজ দলের বাছাই পর্বে, অর্থাৎ প্রাইমারিতে সিনেটর জন ম্যাককেইনের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। ২০১২ সালে বাছাই পর্ব উতরালেও চূড়ান্ত নির্বাচনে বারাক ওবামার কাছে গো-হারা হারেন। নিজ দলের তিনি সবচেয়ে পরিচিত মুখ, কিন্তু দলের ভেতরে খুব কম লোকই আছেন যে মনে করেন ২০১৬ সালে তিনি জেতার ক্ষমতা রাখেন। কেউ কেউ রাখঢাক ছাড়াই বলেছেন, রমনি হলো ‘ড্যামেজড গুড’ বা নষ্ট মাল। কথাটা যদি সত্যি হয়, তাহলে রমনির ভাগ্যে একই যাত্রায় ভিন্ন ফল হওয়ার কথা নয়।
কেন রমনি নন, সে কথাটা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে বলেছেন আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী কেন্টাকি থেকে নির্বাচিত সিনেটর র্যান্ড পল। তিনি গত সপ্তাহে নিউ হ্যাম্পশায়ারে স্থানীয় এক ওয়েব পত্রিকাকে আইনস্টাইনের একটি স্মরণীয় উক্তি মনে করে দিয়েছেন। ‘বারবার একই কাজ করে যারা ভিন্ন ফল আশা করে, তারা আসলে মানসিক রোগগ্রস্ত’। র্যান্ড পল ইঙ্গিত করেছেন, তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে চান। রাজনৈতিকভাবে তিনি ‘লিবার্টারিয়ান’। তিনি সরকারের ভূমিকা ছোট করতে চান, ব্যক্তিগত খাতের অবাধ বিচরণের সমর্থক। পাশাপাশি বিদেশে আমেরিকার যুদ্ধবাজ ভূমিকা বন্ধ করতে চান, কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের তিনি সমর্থক, এমনকি অভিবাসন প্রশ্নে তাঁর ও ওবামার অবস্থানে খুব কিছু ফারাক নেই। ফলে পার্টির রক্ষণশীল ভোটারদের কাছে র্যান্ড পল খুব আদরণীয় হবেন বলে মনে হয় না।
সামাজিক প্রশ্নে উদারনৈতিক এমন আরেকজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিউ জার্সির মারকুটে গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি। রাজ্য আইনসভায় ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য সত্ত্বেও তিনি নিজেকে কার্যকর প্রমাণ করেছেন, প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের তূণে সেটি সেরা শর। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে হলে শুধু রিপাবলিকান ভোটে জেতা সম্ভব নয়, ডেমোক্র্যাটদেরও ভোট চাই। বলাই বাহুল্য, ক্রিস্টির চোখে তেমন প্রার্থী তিনি স্বয়ং।
এর বাইরেও রয়েছেন টেক্সাসের কট্টর রক্ষণশীল সিনেটর টেডক্রুজ, উইসকন্সিনের গভর্নর স্কট ওয়াকার, আরকানসার সাবেক গভর্নর ও ইভানজেলিকাল মন্ত্রে দীক্ষিত মাইক হাকাবি এবং পেনসিলভানিয়ার সাবেক সিনেটর ও অতি রক্ষণশীল রিকসান্টোরাম। এর বাইরে আরও রয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির একমাত্র আফ্রিকান-আমেরিকান তারকা মেরিল্যান্ডের শল্যচিকিৎসক বেন কারসন। অবশ্য শ্বেতপ্রধান রিপাবলিকান পার্টিতে তিনি বড়জোর খাবারের টেবিলে আচার, তার বেশি নয়।
এই প্রার্থী তালিকা থেকে যে ব্যাপারটা স্পষ্ট তা হলো, আসল লড়াইটা হবে দলের প্রবীণ ও নবীনদের মধ্যে। প্রবীণ হলেও রমনিকে উপেক্ষা করা কঠিন হবে। তাঁর অর্থের জোর বেশি, দলের একাংশের কাছে তিনি এখনো জনপ্রিয়। প্রাথমিকভাবে তাঁকে লড়তে হবে জেব বুশের সঙ্গে, পরিচিতির দিক দিয়ে যিনি ঠিক তাঁর পরে। জেব সফল গভর্নর হলেও তাঁর নামের পেছনে বুশ রয়েছে, যা এখনো অনেকের কাছে একটি গালি বৈ অন্য কিছু নয়। নতুনদের মধ্যে ক্রিস ক্রিস্টি মধ্যপন্থী বিবেচিত হওয়ায় তাঁর ‘নির্বাচন যোগ্যতা’ বা ‘ইলেক্টিবিলিটি’ বেশি। অন্যদিকে স্কট ওয়াকার ‘আমি নতুন আমি নবীন’ বলে চেঁচিয়ে পাড়া মাতের চেষ্টা করছেন বটে, কিন্তু জাতীয় জনমতে এখনো সম্মানজনক স্থান দখল করতে পারেননি।
ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান—উভয় দলই আগামী বছরের গোড়ার দিকে তাদের প্রার্থী নির্বাচনের লক্ষ্য ‘প্রাইমারি’ ভোট গ্রহণ শুরু করবে। জুলাই-আগস্ট নাগাদ জাতীয় কনভেনশনে দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবে। কিন্তু সেই জয়তিলক ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য আগাম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই পর্যায়ে নিজেকে কার্যকর প্রার্থী প্রমাণের জন্য দরকার দুটি জিনিস—কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ও শক্ত নির্বাচনী সংগঠন। সম্ভবত হিলারিকে ঠকানো অসম্ভব জেনে ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্য কোনো প্রার্থীর নাম এখন পর্যন্ত শোনা যায়নি, হয়তো যাবেও না।
বারাক ওবামার আট বছর তেতো ওষুধের মতো গেলার পর রিপাবলিকান পার্টি এখন হোয়াইট হাউস নিজেদের কবজায় আনতে মরিয়া। দলের সমর্থকেরা জানেন, অতি রক্ষণশীল কোনো প্রার্থী, যেমন টেডক্রুজ বা রিকসান্টোরাম অধিক পছন্দের হলেও জাতীয় নির্বাচনে তাঁদের জেতার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সে অবস্থায় জেব বুশ বা ক্রিস ক্রিস্টির মতো একজন মধ্যপন্থী প্রার্থী যদি শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসেন, তাহলে তাঁকে লড়তে হবে হিলারির মতো মাঠ-পাকা একজন প্রার্থীর সঙ্গে।
মাত্র গত সপ্তাহে বিল ক্লিনটন টিমের দুই সাবেক সদস্য জেমস কারভিল ও স্টানলি গ্রিনবার্গ তাঁদের পরিচালিত একটি জাতীয় জনমত গণনার ফলাফল প্রকাশ করেছেন। এই গণনা অনুসারে মোট ভোটের ৪৯ শতাংশ পেয়ে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন, হ্যাঁ, অবশ্যই হিলারি। তাঁর ঠিক পেছনে আছেন মিট রমনি (৪৩ শতাংশ) ও জেব বুশ (৪০ শতাংশ)।প্রথম আলো
হাসান ফেরদৌস: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ