ক্লাসে বইয়ের অভাব মেটাচ্ছে ই-রিডার

বিলাসিতার উপকরণ নয়, আফ্রিকার দেশ ঘানার এক গ্রামে ই-রিডার হয়ে উঠেছে শিক্ষার একমাত্র পথ। প্রযুক্তির সার্থক প্রয়োগ করে বদলে যাচ্ছে অনেক শিশু-কিশোরের জীবন। ১৪ বছর বয়সী গিডিয়নের বাড়ি আফ্রিকার দেশ ঘানার পূর্বাঞ্চলে একটি ছোট্ট গাঁয়ে। ভোরবেলা সে বেরিয়ে পড়ে বাজারমুখো। ছোট্ট একটি দোকান সাজিয়ে দিনে সাত ঘণ্টা কাজ করে। বিক্রি করে ‘কেংকে’—যা ভুট্টার ছাতুর তৈরি এক ধরনের খাবার। তার বাবা-মা, সাত ভাইবোন এই রোজগারের ওপর নির্ভর করে। কাজ শেষ করে স্কুলে যেতে যেতে দুপুর হয়ে যায়। তবুও সে যতটা পারে শেখার চেষ্টা করে। সরকারি স্কুলগুলো ভর্তুকি পেয়ে থাকে বটে, তবে স্কুলে বিশেষ করে বইয়ের অভাব রয়েছে। অনেক ক্লাসে যত বই দরকার, তার অর্ধেকও নেই। ঘানায় ছাত্রছাত্রীদের নিজেদেরই বই কিনতে হয়। সবার সে সামর্থ্য থাকে না। গাঁয়ের লাইব্রেরিটিও বন্ধ। এখানে নেয়ার মতো বইও বিশেষ নেই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ওপর কিছু মান্ধাতা আমলের বই ছাড়া। তাও সবই দান করা। এবার একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংগঠন গোটা পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড রিডার’ স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ‘ই-রিডার’ বিলি করে। এই ইলেকট্রনিক রিডারে চার হাজার পর্যন্ত বই লোড করা যায়। ওয়ার্ল্ড রিডারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কলিন ম্যাকএলউয়ির পক্ষে যা একটি ছোটখাট বিপ্লব। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে আজ প্রায় একশ’ কোটি শিশু আছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল বিশ্বে, যাদের জন্য কোনো সঠিক শিক্ষাব্যবস্থা নেই। এটি একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। ই-রিডার এবং ই-রিডারের মাধ্যমে আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার ক্ষমতা রাখে। একটি ই-রিডারের দাম একশ’ ইউরো। বেসরকারি অনুদান আর জাতিসংঘ থেকে আসে এই অর্থ। ক্লাসে শিক্ষিকা প্রশ্ন করছেন, তোমরা একবারে কতগুলো বই হাতে ধরতে পার? ছয়টি হলে কেমন হয়? একসঙ্গে চার হাজার বই হাতে নেয়া কি সম্ভব? এটির সাহায্যে তোমরা এখন সেটা পারবে। এখন বহু প্রকাশনী তাদের বই নিখরচায় ডাউনলোড করতে দেয়। ই-রিডার দিয়ে কীভাবে পড়তে হয়, পড়ুয়ারা সেটা শিগগিরই শিখে ফেলে। ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই বই ডাউনলোড করা যায়। মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক মারফত একটি বই ডাউনলোড করতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট। বহু ছাত্রছাত্রী এখন দ্বিগুণ বই পড়ে। অনেকে বছরে ৯০টি বই পড়ে ফেলেছে, বলছে ওয়ার্ল্ড রিডার। যেমন ১৬ বছরের রিটা। সে বলল, আমি দেশের একজন নেতা হতে চাই। আমি মানুষকে সাহায্য করব। আমি ব্যারিস্টার হতে চাই। সবকিছু জানতে, বুঝতে গেলে আমাকে এখনও অনেক পড়তে হবে বলে আমার ধারণা। যাতে আমি ভবিষ্যতে মামলাগুলো ঠিকমত বিচার করতে পারি। যাতে মানুষ কষ্ট না পায়। গিডিয়নও বলছে, দুনিয়ায় কি ঘটছে—তা জানার জন্য আরও বেশি করে পড়তে হবে। এখন ই-রিডার সব সময় তার সঙ্গে থাকে। কেংকে বেচার ফাঁকে ই-রিডার পড়ে গিডিয়ন। পরে একদিন সে কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে যাবে, বলছে গিডিয়ন। ওই পথে প্রথম ধাপ তো সে পার হয়ে গেছে। সূত্র : ডিডব্লিউ/আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন
- হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি