Tuesday, 27 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ব্রঙ্কসে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের সমাবেশ; মামলার কারণে আর্থিক ক্ষতি ও ভোটাধিকার ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ নিউইয়র্কে আ্যসালের ১৯তম বার্ষিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত; শ্রমিক অধিকার, নাগরিক ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের অঙ্গীকার নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
সব ক্যাটাগরি

খাবার খাই, টেলিভিশনও খাই

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 60 বার

প্রকাশিত: August 14, 2013 | 1:37 PM

 

খেতে চায় না শিশু। টেলিভিশনের লোভ দেখিয়ে খাওয়াচ্ছেন। খাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সঠিক পদ্ধতি না। মডেল: জিনিয়া ও তাঁর মেয়ে টিয়ারা। ছবি: অধুনাখেতে চায় না শিশু। টেলিভিশনের লোভ দেখিয়ে খাওয়াচ্ছেন। খাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সঠিক পদ্ধতি না। মডেল: জিনিয়া ও তাঁর মেয়ে টিয়ারা। ছবি: অধুনা I আহমেদ হেলাল : ‘আমার বাচ্চা খেতে চায় না’—প্রায় শতভাগ মা এ অভিযোগ করেন। আবার খাওয়ার সময় শিশুটি নানা দুষ্টুমি করে, খাবার সহজে মুখে নিতে চায় না, একটু খেয়েই ক্ষান্ত দেয় ইত্যাদি সমস্যাও দেখা দেয়। এ ধরনের সমস্যা  থেকে মুক্তি পেতে মা-বাবারা টেলিভিশন কিংবা কম্পিউটারের আশ্রয় নেন। টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন, কার্টুন অথবা কম্পিউটার মনিটরের দিকে শিশুকে    তাকিয়ে থাকতে দিয়ে সবটুকু খাবার কোনোমতে তার মুখগহ্বরে ঢেলে দেন     মা-বাবারা। তৃপ্তির ঢেকুর তুলে আশ্বস্ত হন এই ভেবে, ‘যাক বাবা, এবেলা সবটুকু খাওয়াতে পেরেছি!’
প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুকে এভাবে ‘খাদ্যবস্তু’ গলাধঃকরণের মাধ্যমে তার প্রকৃত পুষ্টি নিশ্চিত করা যায় না এবং শিশুটির সুস্থ-স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে না। এ জন্য  বিশেষজ্ঞরা শিশুকে খাওয়ানোর কৌশল হিসেবে টেলিভিশন বা কম্পিউটারের ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করেছেন।
কী হয় এভাবে খাওয়ালে
টেলিভিশন বা কম্পিউটারের দিকে শিশুকে তাকিয়ে থাকতে দিয়ে, অনুষ্ঠান দেখিয়ে তাকে খাওয়ালে শিশুর খাদ্য গ্রহণের মধ্যে একটি শর্তাধীন অবস্থা তৈরি হয়। এ কারণে একদিকে প্রতি বেলা খাবারের সময় তার টেলিভিশন বা কম্পিউটারে প্রয়োজন হয়, আরেক দিকে এগুলো দেখার সময় তার খাওয়ার চাহিদা তৈরি হয়। মা-বাবারা বলবেন, ভালোই তো, বাচ্চাটি বেশি বেশি খাবে। কিন্তু এখানেও বাদ সাধছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা মনে করেন, এই শর্তাধীন অবস্থার সাহায্যে খাওয়ানোর ঝুঁকি অনেক। প্রথমত, এর কারণে টেলিভিশন বা কম্পিউটারের প্রতি শিশুর নির্ভরশীলতা ও আসক্তি বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, টেলিভিশন বা কম্পিউটারের দিকে মনোযোগ থাকায় সে খাবারের স্বাদ আস্বাদন করতে পারে না, কেবল গিলে খায়। তাই তার সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে না। এ ছাড়া খাবার ঠিকমতো চিবিয়ে না খাওয়ায় হজমে সমস্যা হয়। সঠিক পুষ্টিমান নিশ্চিত হয় না। কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। কখনো উঠতি বয়সের শিশু-কিশোরেরা টেলিভিশন দেখতে দেখতে অথবা কম্পিউটারের মনিটরের সামনে বসে ভাজাপোড়া ও স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে, যার পরিণতি অল্প বয়সে মুটিয়ে যাওয়া এবং কিশোর বয়সে ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়া। কেবল টেলিভিশন বা কম্পিউটার দেখা নয়, বিশেষজ্ঞরা বলেন, বই পড়তে পড়তে খাবার গ্রহণ করাও ঠিক নয়। এতেও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে।

টেলিভিশন বা কম্পিউটারে অতিরিক্ত আসক্তি শিশুর খ্যাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যার পাশাপাশি তার মধ্যে অতিচঞ্চলতা ও অমনোযোগিতার মতো মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে।প্রথম আলো

তাহলে কী করবেন

l ধৈর্য ধরুন, সময় নিয়ে সন্তানকে খাওয়ান, তাড়াহুড়ো করবেন না। আপনার সময় কম থাকলে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিন।

l সব সময় একই ব্যক্তি সন্তানকে খাওয়াবেন না। মা-বাবা দুজনে দায়িত্ব ভাগ করে নিন। একেক বেলা বা দিন একেকজন খাওয়ান। ‘আমার বাচ্চা আমার হাতে ছাড়া খায়ই না’ বলে আত্মতৃপ্তি বোধ না   করে বরং শিশুটির স্বাধীন খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলুন। তাকে নিজ হাতে খেতে উৎসাহ দিন।

l শিশু একটু বড় হলে একসঙ্গে বসে খান।

l শিশুর খাদ্যতালিকা সুষম করুন। কেবল তার পছন্দসই বস্তু নয়, বরং প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান নিশ্চিত হয়—এমন বস্তু খাদ্যতালিকায় রাখুন।

l খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের সময় শিশুকে খানিকটা অংশগ্রহণের সুযোগ দিন। এতে করে খাবারের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হবে।

l শিশুর খিদে লেগেছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে তাকে খাবার দিন। জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না।

l অনেক সময় কিছু মানসিক সমস্যার কারণে শিশুর খাদ্যাভ্যাসে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

লেখক: মনোরোগ বিশেষজ্ঞ

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ