Friday, 23 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

গাছ থেকে জামরুল পেড়ে মুখে দিলেন জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 70 বার

প্রকাশিত: May 11, 2012 | 7:41 PM

হাসান শাফিঈ, নুহাশ পল্লী (গাজীপুর) থেকে: নুহাশ পল্লীতে পৌঁছে প্রিয় বৃক্ষরাজির খবর নিলেন জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ। সকাল ৬টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সকাল ৮টায় নুহাশ পল্লীতে পৌঁছান হুমায়ূন। প্রিয় স্যারকে অভ্যর্থনা জানাতে পল্লীর প্রধান ফটকে অপেক্ষায় ছিলেন বাগানবাড়ির ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল। সঙ্গে নুহাশ পল্লীর আরও ৯ কেয়ারটেকার। হুমায়ূন স্ত্রী শাওন, দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিদকে নিয়ে পল্লীর ভেতরে ঢুকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বাংলোয় অপেক্ষায় থাকা মা আয়েশা খাতুন, শাশুড়ি তহুরা আলী, দুই বোন সুফিয়া ও শিখু’র সঙ্গে দেখা করেন। মা ও শাশুড়ির পা ছুঁয়ে সালাম করেই
রওনা করেন চিরচেনা পল্লী ঘুরে দেখতে। ‘বৃষ্টি বিলাস’ বাংলো ঘর থেকে একটু এগিয়ে তিনি কেয়ারটেকারের কাছে জানতে চান, আমার প্রিয় সব বৃক্ষগুলো কেমন আছে। এ সময় হুমায়ূন আহমেদের পরনে ছিল হাফ শার্ট ও প্যান্ট। বৃষ্টি বিলাসের পেছনে আছে একটি মাঝারি সাইজের জামরুল গাছ। গাছটিতে থরে থরে ধরে ছিল জামরুল ফল। সেখান থেকে একটি জামরুল ছিঁড়ে মুখে দেন হুমায়ূন। এরপর হাঁটতে থাকেন নুহাশ পল্লীর উত্তর দিকটার পুকুরের দিকে। পথিমধ্যে সবজি ক্ষেত দেখে একটু দাঁড়ান তিনি। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সঙ্গীদের বলেন, সবজি তো খুব ভালই হয়েছে। ক্ষেতে পুঁইশাক, লালশাক, মরিচ, পেঁপে, শসা, বেগুন দেখে দু’চোখ আনন্দে ভরে ওঠে তার। এরপর ঔষুধি গাছের বাগান ঘুরে দেখেন তিনি। এক সময় হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যান পুকুর পাড়ে। পুকুর ঘাটে সাদা রঙের নৌকা। ম্যানেজার বুলবুল হুমায়ূনকে জানান, স্যার এই নৌকাটা নতুন তৈরি করা। আপনি আমেরিকা যাওয়ার পর এটি তৈরি করা হয়েছে। সাদা রঙ কি আপনার পছন্দ হয়েছে? উত্তরে হুমায়ূন বলেন, ভালই তো হয়েছে। তবে আজ তোমার নৌকায় চড়বো না। ভীষণ গরম, নৌকা করে পুকুর পাড়ি দিতে গেলে ঘামে নেয়ে উঠবো। এ কথা বলে হুমায়ূন পা বাড়ান পুকুর ঘাট লাগোয়া দু’কামরার বাংলোয়। বাংলোটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন তিনি। সব ঠিকঠাক দেখে হুমায়ূন বলেন, সব কিছু তো ঠিকঠাক দেখছি। তোমরা দেখছি কোন কিছুরই অযত্ন করোনি। সকাল সাড়ে ৯টার কিছু পরে ‘হোয়াইট হাউজ’ বাংলোয় ফেরেন হুমায়ূন। খিচুড়ি, ডিম, পরোটা, মুরগির মাংস, দই, মিষ্টি, আনারস, তরমুজ দিয়ে নাশতা সারেন। এরপর ২০ মিনিট বিশ্রাম নেন। এর মধ্যেই নুহাশ পল্লীতে হাজির হয় জেলেরা। আগে থেকেই তাদের খবর দিয়ে রাখা হয়েছিল। জেলেদের সঙ্গে নিয়ে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট, হাফ হাতা শার্ট পরে মাছ ধরতে আবারও পুকুরে যান। সহকারী জুয়েল রানা তার মাথার ওপর ধরে রেখেছিলেন ছাতা। ম্যানেজার ‘স্যারে’র বসার জন্য নিয়ে আসেন চেয়ার। কিন্তু চেয়ারে বসেন না হুমায়ূন। বলেন, কত দিন এই ঘাস মাড়াই না! ঘাসের ওপরই বসি কিছুক্ষণ। পুকুর থেকে জেলেরা তুলে আনেন বড়সড় বেশ কিছু চিংড়ি। ওঠে আসে রুই, কাতল, শিং, তেলাপিয়া, নওলা মাছ। বড় সাইজের চিংড়ি, রুই, কাতল, তেলাপিয়া ও শিং মাছ রেখে বাকিগুলো আবারও পুকুরে ছেড়ে দেয়া হয়। মাছ ধরা শেষ করে হুমায়ূন পা বাড়ান ফল বাগানে। লিচু গাছ থেকে নিজ হাতে লিচু ছিঁড়ে খান। এরপর ফিরে আসেন ‘হোয়াইট হাউজ’ বাংলোয়। নতুন থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট পরেন তিনি। গায়ের শার্ট খুলে উদোম গায়ে বিশ্রামে চলে যান। আর এর কিছু আগ থেকেই মিডিয়া কর্মীরা একে একে প্রবেশ করতে থাকেন নুহাশ পল্লীতে। দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে চিংড়ি, শিং মাছের তরকারি, পুঁইশাক, ডাল ও মুরগির মাংস দিয়ে খাবার খান। খাওয়ার মাঝ পথে মোশাররফ নামের কেয়ারটেকারকে বলেন, যা তো-কাঁচা আমের ভর্তা তৈরি করে আন। ভর্তা তৈরি করে আনা হয়। ‘খুবই টেস্ট হয়েছে’ বলতে বলতে চামচ দিয়ে কাঁচা আমের ভর্তা খেয়ে দুপুরের খাওয়া শেষ করেন হুমায়ূন। এর পরই দীর্ঘ বিশ্রাম শেষ করে সন্ধ্যা ৬টায় মুখোমুখি হন গণমাধ্যমের। লুঙ্গি ও হাফ হাতা শার্ট গায়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন তিনি। বলেন, দীর্ঘ ৮ মাস পরে নুহাশ পল্লীতে ফেরায় সবকিছু এখনও গুছিয়ে উঠতে পারিনি। তার পরও ভাল লাগছে আমার প্রিয় পল্লীতে এসে। প্রিয় বৃক্ষরাজি, বন্ধু-বান্ধব, মা, আত্মীয়-স্বজনদের কাছে পেয়ে খুবই ভাল লাগছে। যারা অনেক বেশি নাটকীয়তা আশা করছিলেন, তারা হয়তো হতাশ হবেন মা’কে পাশে রাখিনি বলে। এগুলো আমার পছন্দ না। তবে ভুলে গেলে চলবে না ৮০ বছর বয়সী এই ভদ্রমহিলা তার সারা জীবনের সঞ্চয় ৫৫০০ ডলার আমার চিকিৎসার জন্য আমেরিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। এই টাকাটা আমারই দেয়া। তিনি খরচ না করে একটু একটু করে সঞ্চয় করেছিলেন। পুরোটাই তিনি আমার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন। এই আবেগের কোন তুলনা হয় না। ক্যান্সার জয়ের বিষয়ে হুমায়ূন বলেন, আসলে রোগটা আমি কখনও পাত্তাই দেইনি। কোন রোগকেই আমি কখনও পাত্তা দেই না। কিন্তু ক্যান্সার হচ্ছে সাইল্যান্ট কিলার। সে আমার শরীরের চতুর্থ স্তর পার হয়ে গেছে। এ জন্যই দীর্ঘ সময় ধরে আমাকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আমেরিকা গিয়ে নানা পরীক্ষা শেষে ডাক্তাররা আমাকে জানান, আপনার ক্যান্সার কন্ট্রোলের বাইরে চলে গেছে। যত দিন বাঁচবেন আপনাকে কেমো’র মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আমি জানতে চাইলাম, এভাবে কতদিন বাঁচা সম্ভব। তারা বললেন, দু’বছর। মনটা খারাপ হলো। তবে এখন যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি তারা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানালো অপারেশন করে এখনও আপনার নিরাময় সম্ভব। তারা ১২ই জুন অপারেশনের তারিখ ঠিক করেছে। জর্জ মিলা নামে এক সার্জনকে আমি জিজ্ঞেস করেছি, অপারেশন টেবিলে আমার মরে যাওয়ার সম্ভাবনা কতটা? তিনি বলেছেন, আমি আপনার অপারেশন করলে সম্ভাবনা জিরো। ওরা এতটাই কনফিডেন্ট। ওই কনফিডেন্ট এখন আমার মধ্যে গ্রো করেছে। আমার চিকিৎসা পদ্ধতি দেখে আমার ছেলে নিষাদ একদিন চুপিচুপি আমাকে বলেছে, চলো বাবা আমরা পালিয়ে দেশে চলে যাই। দেশের ডাক্তাররা সবাই তোমাকে ভয় পায়। ওরা তোমাকে ইনজেকশন দেবে না। বাংলাদেশে ক্যান্সার হাসপাতাল করার ইচ্ছার কথা পুনরুল্লেখ করে হুমায়ূন বলেন, হাসপাতাল তৈরির কাজটা আমি অবশ্যই শুরু করবো। তবে কতটুকু শেষ করে যেতে পারবো জানি না। অসমাপ্ত রাখলেও নিশ্চয়ই কেউ না কেউ একদিন তা সম্পন্ন করবে বলেই বিশ্বাস করি।মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ