Thursday, 22 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের ভার্জিনিয়ায় অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ New York Attorney General James Issues Voter Guidance to Inform New Yorkers of Their Rights Ahead of November Election
সব ক্যাটাগরি

গাদ্দাফির কেন্দ্রীয় কমান্ড ভবন বিধ্বস্ত:বেনগাজিতে সরকারি সাঁজোয়া বহরে বিমান হামলা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 69 বার

প্রকাশিত: March 21, 2011 | 8:34 PM

ইউএসএনিউজ ডেস্ক: পশ্চিমা মিত্রদের হামলায় ধ্বংস হয়েছে লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির কেন্দ্রীয় কমান্ড ভবন হিসেবে পরিচিত প্রাসাদ বাব আল আজিজিয়া। হামলায় মাটির সঙ্গে মিশে গেছে ওই ভবনটি। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়ে ওই ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন বিপুল সংখ্যাক সাধারণ মানুষ। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানা যায় নি। ওই ভবনেই মুয়াম্মার গাদ্দাফি অবস্থান করেন। তবে হামলার সময় তিনি সেখানে ছিলেন কিনা তা পরিষ্কার নয়। ওই ভবনের আশপাশে এখনও মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কয়েক হাজার সাধারণ মানুষকে। তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। মুয়াম্মার গাদ্দাফির স্তুতি গাইছেন তারা। বলছেন, গাদ্দাফিকে মারার আগে আমাদের মারতে হবে। কারণ আমরা সবাই গাদ্দাফি। ওদিকে বেসামরিক লোকজনের ওপর বোমা হামলাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন আরব লীগ মহাসচিব আমর মুসা। পরে তিনি ওই বক্তব্য সংশোধন করে বলেন, তিনি জাতিসংঘের প্রস্তাব সমর্থন করেন।  গতকাল বিভিন্ন মিডিয়ায় গাদ্দাফি-পুত্র খামিস নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। বলা হয়, একটি আত্মঘাতী হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। বলা হয়, গাদ্দাফির পুত্র খামিস গাদ্দাফি ত্রিপোলির একটি হাসপাতালে মারা গেছেন।শনিবার লিবিয়া বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বাব আল আজিজিয়া ভবনের ওপর বোমা ফেলে। তখন ওই ভবনেই খামিস গাদ্দাফি ও তার কিছু আত্মীয় অবস্থান করছিলেন। ওই ঘটনায় মারাত্মক আহত হন খামিস গাদ্দাফি। তাকে একটি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি মারা যান। হিন্দুস্তান টাইমস এই খবর দিলেও লিবিয়ার কোন পত্রিকা বা টেলিভিশন বা মিডিয়া থেকে ওই খবরের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। তবে অসমর্থিত এক সূত্র দাবি করেছে, খামিস মারা যাননি। অনলাইন বিবিসি জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে মিত্রদেশগুলো রাতের বেলা হামলা বন্ধ রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তাদের হামলার উদ্দেশ্য কর্নেল গাদ্দাফি নন। তাদের টার্গেট হলো গাদ্দাফির সশস্ত্র বাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। তিনি বলেন, তা করা না হলে অনেক বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। পরে তাতে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ওদিকে লিবিয়ার সরকারি সূত্র দাবি করেছে, পশ্চিমাদের অব্যাহত হামলায় ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাতে মিত্রবাহিনীর বিমান বৃষ্টির মতো গোলা ফেলতে থাকে রাজধানী ত্রিপোলির বিভিন্ন স্থাপনার ওপর। এ সময়ে দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বাব আল আজিজিয়া প্রাসাদের দিক থেকে ঘন ধোঁয়া ও আলোকরশ্মি আকাশে দেখা যায়। ওই ভবনে গাদ্দাফির সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। লিবিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা গতকাল পশ্চিমা সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল ঘুরিয়ে দেখান। দেখা যায়, একটি তিন বা চার তলা ভবন বিধ্বস্ত হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এ সময় লিবিয়ায় গাদ্দাফির বিরোধী জোটগুলোর এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, এর মাধ্যমে তারা গাদ্দাফির কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছেন। এর আগেভাগে পেন্টাগনে যুক্তরাষ্ট্রের নেভি ভাইস এডমিরাল উইলিয়াম গর্টনি জানান, ত্রিপোলি ও বেনগাজির আকাশসীমা রয়েছে মিত্রজোটের নিয়ন্ত্রণে। পেন্টাগনের দাবি, তারা লিবিয়ার রাডার স্থাপনা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র, সামরিক বিমান ঘাঁটি, বেনগাজির স্থলসেনাদের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখেছেন। ভূমধ্যসাগরের সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বৃটেন। ওদিকে লিবিয়ায় গাদ্দাফির বিরুদ্ধে অভিযানে ৪টি যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে কাতার। লিবিয়া সঙ্কটে এটাই প্রথম কোন আরব দেশের অংশগ্রহণ।ওদিকে আরব লীগের মহাসচিব আমর মুসা প্রথম দিকে লিবিয়ায় হামলার পক্ষে থাকলেও সাধারণ জনগণের প্রাণহানিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে গাদ্দাফির অনুগত সেনারা অস্ত্রবিরতি কার্যকরের প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে পশ্চিমারা। বেনগাজির পশ্চিমের শহর মিসরাটায় গাদ্দাফির সেনারা এখনও অব্যাহতভাবে বোমা হামলা করছে। মিত্রবাহিনী ওই এলাকায় প্রথমদিকে বিমান বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। তবে মিসরাটায় অবস্থানরত বিবিসি’র সাংবাদিক কেভিন কোনোয় বলেছেন, ওই এলাকায় বেসামরিক মানুষের ক্ষতি না করে গাদ্দাফির সেনাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা স্পষ্ট করে জানা যাচ্ছে না। রোববার রাতেও বেনগাজিতে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ শোনা গেছে।
হামলায় কোন দেশ কি যোগান দিচ্ছে বিডিনিউজ জানায়, শনিবার লিবিয়ায় ফ্রান্সের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। অভিযানে বিভিন্ন দেশ যেসব সমরাস্ত্র ব্যবহার করবে তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা ও কাতার শনিবার লিবিয়ায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ন্যাটোভুক্ত অন্যান্য দেশ ও আরব বিশ্বের কয়েকটি দেশ এ অভিযানে অংশ নেবে। লিবিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জাহাজ ও ডুবোজাহাজ থেকে ছোড়া হয় শতাধিক টোমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত এ অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে বা হবে- এমন সব সমরাস্ত্রের তালিকা এখানে তুলে ধরা হলো।
ফ্রান্স:
শনিবারের অভিযানে প্রাথমিক ভাবে ফ্রান্সের ২০টি বিমান অংশ নেয়। সেগুলোর মধ্যে রাফায়েল মুলতিরোল ও মিরেজ যুদ্ধবিমান এবং অন্তত একটি এডব্লিউএসিএস (আকাশপথের সতর্কতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা) বিমান ছিল। ফ্রান্সের বিমানবাহিনীর হামলার লক্ষ্যস্থল ছিল বিদ্রোহী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বেনগাজির চারপাশের ৬২ থেকে ৯৩ মাইল এলাকা। ভূ-মধ্যসাগরের কর্সিকা দ্বীপের সোলেঞ্জারা বিমান ঘাঁটি থেকে লিবিয়ায় অভিযানে যায় ফরাসি যুদ্ধবিমান। ফ্রান্সের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ শার্ল দ্য গলে ভূমধ্যসাগরের ফরাসি উপকূলে অবস্থান করছে। গতকাল বিকালে ১৫টি যুদ্ধবিমান নিয়ে জাহাজটি লিবীয় ঊপকূলে পৌঁছানোর কথা। ফ্রান্সের সমরাস্ত্রের মধ্যে আরও রয়েছে- তিনটি রণতরী, একটি জ্বালানিবাহী জাহাজ ও একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সক্ষম একটি ডুবোজাহাজ। লিবিয়া থেকে মাত্র দেড় ঘণ্টার দূরত্বে ফ্রান্সের ভূমধ্যসাগরীয় শহর মার্সেই ও ইস্ত্রেতে বিমান ঘাঁটি রয়েছে। শুক্রবার থেকে জ্বালানিবাহী বিমান ইস্ত্রে বিমান ঘাঁটিতে প্রস্তুত রয়েছে।

যুক্তরাজ্য: যুক্তরাজ্য বলেছে, শনিবারের অভিযানে লিবিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসে ট্রাফালগার শ্রেণীর একটি ডুবোজাহাজ থেকে তারা টোমাহক  ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছেন। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় নরফোক কাউন্টির ৩ হাজার মাইল দূরের একটি বিমান ঘাঁটি থেকে যাওয়া টর্নেডো জিআর-৪ যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এ অভিযানে ভিসি-১০ ও  ট্রাইস্টার জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, ই৩ডি সেন্ট্রি ও সেন্টিনেল বিমান (আকাশপথ সতর্কতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিয়োজিত বিমান) অংশ নেয়। এছাড়া অভিযানে অংশ নেয়ার জন্য টাইফুন যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। লিবিয় উপকূলে যুক্তরাজ্যের এইচএমএস কাম্বারল্যান্ড ও এইচএমএস ওয়েস্টমিনিস্টার নামের দু’টি রণতরী অবস্থান নিয়ে আছে। সেগুলোরও অভিযানে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র:
লিবিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ফ্রান্সের যুদ্ধবিমান আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্র অভিযান শুরু করে। পেন্টাগন জানিয়েছে, লিবিয়ায় হামলার জন্য যুদ্ধবিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনী হামলার জন্য ইলেক্ট্রনিক অ্যাটাক স্কোয়াড্রনও মোতায়েন করেছে বলে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়। এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, অভিযানে অংশ নেয়ার জন্য ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন রয়েছে তিনটি ডুবোজাহাজ। সেগুলো থেকে টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ব্যবস্থা রয়েছে। টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র বিমান ও বিমান বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসে সক্ষম। ভূমধ্যসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ আছে। সেগুলোর মধ্যে অন্তত একটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা রয়েছে। তবে লিবিয়ার কাছাকাছি কোন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ নেই। সমপ্রতি লোহিত সাগরে নোঙর করা দ্য ইউএস এন্টারপ্রাইজ আরব সাগরে নোঙর করা ইউএসএস কার্ল ভিনসনের সঙ্গে যোগ দিতে পূর্ব দিকে যাত্রা শুরু করেছে। আফগান অভিযানে সহযোগিতা করাই এ দু’টি যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্য। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র বিমান ঘাঁটি আছে ইতালির আল্‌পসের দক্ষিণের আভিয়ানোয়। লিবিয়ার আশপাশের এলাকায় অন্যান্য মার্কিন যুদ্ধবিমানের অবস্থানের বিষয়ে কিছু জানায়নি পেন্টাগন। এছাড়া ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ইতালি, গ্রীস, স্পেন ও তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ঘাঁটি রয়েছে।
কানাডা:
কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার বলেছেন, লিবিয়ার বিরুদ্ধে নৌ অভিযানে অংশ নিয়েছে কানাডার এইচএমসিএস যুদ্ধজাহাজ শার্লোটটাউন। কানাডা সরকারের এক মুখপাত্র জানান, কানাডার যুদ্ধবিমান এ অঞ্চলে অবস্থান নিয়েছে। তবে সেগুলোর অভিযানে অংশ নেয়ার জন্য প্রস্তুত হতে আরও সময় লাগবে।
ইতালি: লিবিয়ায় হামলা চালানোর জন্য সিসিলির ত্রাপানি বিমান ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে ইতালি। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের পিয়াসেঞ্জা ও আপুলিয়ার গিয়োইয়া ডেল কোলে বিমান ঘাঁটি থেকে টর্নেডো যুদ্ধবিমান এবং এফ-১৬ ও ইউরোফাইটার বিমান ত্রাপানি বিমান ঘাঁটির উদ্দেশে যাত্রা করেছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি লিবিয়ায় যৌথবাহিনীর এ হামলা পরিচালনার জন্য নেপলসের কাছের একটি ন্যাটো বিমান ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইগনাজিও লা রুসা বলেছেন, যৌথ বাহিনীর জন্য ইতালির সাতটি বিমান ঘাঁটির সবগুলোই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে এবং কয়েকটি দেশ তা ব্যবহার করতে চেয়েছে। ইতালির আমেনদোলা, গিয়োইয়া ডেল কোলে, সিগোনেল্লা, আভিয়ানো, ত্রাপানি, ডেসিমোমান্নু ও পানতেল্লেরিয়ায় এ বিমান ঘাঁটিগুলোর অবস্থান। সাতটি বিমান ঘাঁটির মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় পাঁচটির অবস্থান তুলনামূলকভাবে লিবিয়ার কাছাকাছি।

১০ লাখ মানুষকে অস্ত্র দিয়েছে লিবিয়া
মুয়াম্মার গাদ্দাফির ১০ লাখেরও বেশি সমর্থকের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে লিবিয়া সরকার। লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানা’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার বেসামরিক মানুষকে অস্ত্র দেয়া শুরু হয়েছে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা শেষ হয়। রোববার সকালে পশ্চিমা সামরিক হামলার বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন গাদ্দাফি।
‘গাদ্দাফি আমার পিতার মতো’
মিত্র বাহিনী অব্যাহত বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও মনোবল ভাঙেনি মুয়াম্মার গাদ্দাফির সমর্থকদের। ত্রিপোলিতে বাব আল আজিজিয়ায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পরও তারা বিভিন্ন স্থানে গাদ্দাফির সমর্থনে বিক্ষোভ করেছে। বিশ্ব যখন একদিকে আর গাদ্দাফি একদিকে তখন এমন সমর্থনে তিনি অনেকটাই শক্তি পাবেন বুকে। এক কবরস্থানে ইব্রাহিম দাও নামে এক ব্যক্তি বসে কাঁদছিলেন। তার ৩ মাস বয়সী এক আত্মীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারা গেছে। তাকে দাফন করা হয়েছে ওই কবরস্থানে। কিভাবে সে মারা গেছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।  বলেন, তাকে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু কেন, তা জানি না। গাদ্দাফির সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ১৫ বছর বয়সী আহমেদ বলে- জানেন, গাদ্দাফিকে আমি পিতার মতো ভালবাসি। তাকে রক্ষা করতে, তার পক্ষ সমর্থন করতেই আমি রাজপথে নেমেছি। ওদিকে লিবিয়ায় বিদেশী হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। তারা বিদেশীদের লিবিয়ার অভ্যন্তরে অতিমাত্রায় শক্তি প্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এ বিষয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে।মানবজমিন।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ