Sunday, 1 November 2026 |
শিরোনাম
দুই তরুণী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ; নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. ফজলুল ইউসুফ গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদ, ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রজ্জ্বলিত রাখার দাবি নিউইয়র্কে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
সব ক্যাটাগরি

গৃহকর্মীকে ঠকানোর মামলা : ৮ দিনের ব্যবধানে নিউইয়র্কে আরেক বাংলাদেশী কূটনীতিক গ্রেফতারের ঘটনায় নানা গুঞ্জন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 107 বার

প্রকাশিত: June 21, 2017 | 1:30 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক রিপোর্ট, নিউইয়র্ক : ৮ দিনের ব্যবধানে একইধরনের অভিযোগে নিউ্ইয়র্কে আরেকজন বাংলাদেশী কূটনীতিক গ্রেফতার হওয়ায় নানা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটেছে। ৪ বছর আগের ঘটনায় জাতিসংঘের পদস্থ একজন কর্মকর্তাকে এখন সরাসরি গ্রেফতারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইমেজ আরেক দফা প্রশ্নবিদ্ধ হলো বলেও মন্তব্য করা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। গুঞ্জন উঠেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্লট রচনার অভিপ্রায়ে ক’টনীতিককে ফাঁসানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করার জন্যে মার্কিন বিচার বিভাগের প্রতিও অনুরোধ জানিয়ে প্রবাসীদের স্বাক্ষর অভিযান শুরু হয়েছে। এদিকে, ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতারের ৭ ঘন্টা পর আড়াই লাখ ডলার বন্ডের বিপরীতে নিজেই অঙ্গিকারনামায় স্বাক্ষর করে জামিনে মুক্তি পেলেন জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির কর্মকর্তা হামিদুর রশীদ (৫০)। এ সময় অবশ্য তার পাসপোর্টসহ যাবতীয় ট্র্যাভেল ডক্যুমেন্ট সোপর্দ করতে হয় ফেডারেল কোর্টে। এবং ১১ জুলাইয়ের মধ্যে তার জামিনের শর্ত পূরণে সহায়-সম্পদের দলিল হস্তান্তর করতে হবে বাংলাদেশী হামিদুর রশীদকে। উল্লেখ্য, ভিসা জালিয়াতি, বিদেশী কর্মী নিয়োগ চুক্তিতে জালিয়াত এবং পরিচয় জালিয়াতিসহ গৃহকর্মীর ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদানে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানস্থ ফেডারেল কোর্টে। ২০ জুন মঙ্গলবার সকালেই রশীদকে এফবিআই আটক করে ফেডারেল জজ জেমস সি ফ্রেঞ্চাইজের এজলাসে সোপর্দ কওে বিকেলে। এরপর নিউইয়র্ক সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস এটর্নী জুন এইচ কিম রশীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানান। এ এসময় ইউএস এটর্নী বলেন, ‘বিদেশ থেকে গৃহকর্মী আনার পরই ক’টনীতিকদের কেউ কেউ মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে নিপতিত করেন। অসহায় গৃহকর্মীরা মনিবের ইচ্ছায় নিজের সবকিছু সমর্পণে বাধ্য হন। অভিযোগ অনুযায়ী হামিদুর রশীদ হচ্ছেন জাতিসংঘের পদস্থ একজন কর্মকর্তা। সে দাপটে গৃহকর্মীর সাথে নির্দয় আচরণ করেছেন। সপ্তাহের ৫ দিন মোট ৪০ ঘন্টা কাজের চুক্তি থাকলে ৭ দিনই গভীর রাত অবধি কাজ করিয়ে নেয়া হয়। যদিও ন্যূনতম মজুরির ধারেকাছেও প্রদান করা হয়নি বলে রশীদের গৃহকর্মী অভিযোগ করেছেন। শুধু তাই নয়, গৃহকর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রে জি-৫ ভিসায় আনার সময় স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফরমে উল্লেখ করা হয় যে, তাকে সপ্তাহে ৫ দিন ৪০ ঘন্টা কাজের বিনিময়ে ৪২০ ডলার করে প্রদান করবেন। এ হার অনুযায়ী ঘন্টায় সাড়ে ১০ ডলার করে প্রদানের কথা। কিন্তু ঐ মহিলা নিউইয়র্কে অবতরণের পরই হামিদুর রশীদ নতুন আরেকটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নেন, যেখানে সাপ্তাহিক মজুরি (৫ দিনে ৪০ ঘন্টা) ২৯০ ডলার করে লেখা হয়। অর্থাৎ প্রতি ঘন্টায় মজুরি হয় মাত্র ৭.২৫ ডলার করে। যদিও নিউইয়র্কে সে সময় ন্যূনতম মজুরি ছিল ঘন্টায় ৯.৬৩ ডলার করে। এভাবেই ঠকানো হয় গৃহকর্মীকে, যা অমার্জনীয় অপরাধ।’
মাননীয় জজ মামলার প্রেক্ষাপট সবিস্তারে শ্রবনের পর রশীদকে শর্তসাপেক্ষে জামিন প্রদান করেন। 

বাংলাদেশেও রশীদের বাসায় কাজ করতেন এই মহিলা। ২০০১৩ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্কে আসার পর অক্টোবর পর্যন্ত তিনি কাজ করেছেন। সে সময় তাকে প্রতি মাসে ৬০০ ডলারের সমপরিমাণের অর্থ দেয়া হয়। এবং তা জমা করা হয় স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী ঐ গৃহকর্মীর নামে খোলা একাউন্টে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, সে একাউন্টের সমস্ত চেকবই থাকতো রশীদের হাওলায়। অর্থাৎ গৃহকর্মীর নামে চেক প্রদানের পর তা ঐ একাউন্টে জমা হবার পরই সে অর্থ ড্র করতেন রশীদ অথবা তার স্ত্রী। কাগজে কলমে ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদানের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়। আরো অভিযোগ করা হয়, ঐ মহিলার পাসপোর্টও আকট রাখেন রশীদ। পারিশ্রমিক অথবা সপ্তাহের ৭ দিনই কাজ করিয়ে নেয়ার প্রতিবাদ জানালেই তাকে নাকি পুলিশে দেয়ার হুমকি দিতেন রশীদ। এ অবস্থায় ঐ বছরেরই অক্টোবরের শেষার্ধে তিনি পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। এতদিন তার কোন খোঁজ ছিল না। মামলায় রশীদ গ্রেফতার হবার পরই সেই গৃহকর্মীর অস্তিত্ব মেললো বলে জাতিসংঘে বাংলাদের্শী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি এ্যান্ড পলিসি এনালাইসিস ইউনিটের প্রধান হামিদুর রশীদের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির একটি অভিযোগ, যা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ড হবে। বিদেশী কর্মী নিয়োগ চুক্তির প্রতারণা তথা ডিভাইস ফ্রড করার অভিযোগ, যা প্রমাণিত হলে আরো ১৫ বছরের কারাদন্ড, পরিচয় চুরি তথা গৃহকর্মীর পাসপোর্ট আটক এবং ব্যাংকের একাউন্ট খোলার নামে প্রতারণার অভিযোগ, যা প্রমাণিত হলে বাধ্যতামূলকভাবে দুই বছর কারাদন্ড, বিদেশী শ্রমিক নিয়োগের চুক্তিতে প্রতারণার একটি অভিযোগ, যা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদন্ড অর্থাৎ সর্বমোট ২৯ বছরের কারাদন্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন হামিদুর রশীদ। ইউএস এটর্নী উল্লেখ করেছেন, ক’টনীতিকদের অপরাধের জন্যে এসব দন্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে কংগ্রেসে পাশ হওয়া আইন অনুযায়ী।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, এর ঠিক ৮দিন আগে গত ১২ জুন গৃহকর্মীর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কন্সাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামকে। তাকে ৩৬ ঘন্টা পর ৫০ হাজার ডলার বন্ডে জামিন প্রদান করা হয়েছে। তার গৃহকর্মী ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সালের মে পর্যন্ত কাজ করেন এবং মে মাসের শেষার্ধে পলায়ন করেছিলেন। অপরদিকে হামিদুর রশীদের গৃহকর্মী মাত্র ১০ মাস কাজের পরই পলায়ন করেন। এর ৪ বছর পর অভিযোগ আমলে নিলেন বিচার বিভাগ। উভয় ঘটনা একইভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে কম্যুনিটতে। ন্যায্য পারিশ্রমিক না পাবার অভিযোগ শাহেদুলের বিরুদ্ধে ধোপে টিকছে না বলে স্থানীয় মিডিয়ায় তথ্যভিত্তিক যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। শাহেদুল গৃহকর্মী মো. রুহুল আমিন ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ৩২ লাখ টাকার সমপরিমাণ ডলার পাঠিয়েছেন বাংলাদেশে তার একাউন্টে। এবং সে অর্থে ঠাকুরগাঁওতে জমি ও ভবন তৈরী করেছেন। এছাড়া আরো সাড়ে ৩ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন বিভিন্ন মাধ্যমে এবং তা জমা হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের শাখায়। শাহেদুল কোন পারিশ্রমিকই তাকে দেননি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তাহলে রুহুল আমিন সে অর্থ পেয়েছেন কোথায়-এ প্রশ্ন প্রবাসীদের মধ্যে।

নির্যাতিত গৃহকর্মী হিসেবে আদেন করলে খুব দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রেৃ স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় বলেই এ দুটি ঘটনার অবতারণা করা হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। এ আলোকে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী রিচার্ড ব্রাউন সমীপে একটি আবেদনে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এনআরবি নিউজ

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ