চোখই বলে দেবে নানা রোগের তথ্য

কথায় বলে, ‘চোখ দিয়ে যায় চেনা…?’ বিশেষ করে রোগীর যদি ক্যান্সার ছড়িয়ে যায় এবং মারাত্মক আকার ধারণ করে, তাহলে চোখের পেছনে মেটাসটেসিসে ঘটনাটা প্রত্যক্ষ করতে পারেন চক্ষু চিকিত্সক। অন্য অনেক অসুখ-বিসুখের লক্ষণও ধরতে পারেন চোখের ডাক্তার। যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, মাল্টিপল এসক্লেরোসিস বা এমএস ইত্যাদি। অনেক সময় নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাতে এসে ধরা পড়ে এসব রোগ। বাত ও লিভারের সমস্যা হলেও ধরা পড়ে চোখ দেখে। চোখ হলুদ হলে বোঝা যায় যকৃতের কোনো অসুখ আছে রোগীর। এমনকি অনেক সময় হেপাটাইটিসর মতো কঠিন অসুখও চোখ দেখে ধরা পড়ে। পড়তে অসুবিধা হলে কেউ যদি চশমার জন্য চোখের ডাক্তারের কাছে যান, তিনি একথা শুনলে নিশ্চয়ই অবাক হবেন, আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে। ডায়াবেটিসের কারণে চোখে বেশকিছু রোগ দেখা দিতে পারে। জটিলতা বৃদ্ধি পেলে চোখের দৃষ্টি একেবারে হারিয়েও যেতে পারে। ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যাগুলোর মধ্যে মারাত্মক রোগ হলো রেটিনোপ্যাথি। এর ফলে চোখের দৃষ্টিশক্তির ভীষণ ক্ষতি হয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে এটি ধীরে ধীরে হয়। আর তা না হলে রোগটি দ্রুত হয়। অক্ষি গোলকের সবচেয়ে পাতলা আবরণ হলো রেটিনা। কর্নিয়া ও লেন্সের মধ্য দিয়ে রেটিনায় আসা ছবি মস্তিষ্কে পৌঁছলে আমরা দেখতে পাই। ডায়াবেটিসের প্রভাবে রেটিনার রক্তনালী ও কোষে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে। রোগী এক সময় পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া চোখের ছানি, চোখে অন্তর্চাপ বৃদ্ধি বা গ্লাউকোমা, স্নায়ুজনিত রোগ ইনফেকশন, ঘন ঘন চোখের দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন ইত্যাদিও হতে পারে ডায়াবেটিস হলে। ডায়াবেটিসের কারণে জার্মানিতে প্রায় ৩০ হাজারের মতো ব্যক্তি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বছরে ২ হাজার লোক। চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর বের্টল্ড সাইটত্স জানান, চিকিত্সার অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হয়। তার ভাষায়, প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী আমাদের ক্লিনিকে আসেন। এর মধ্যে এমন রোগীর সংখ্যাও কম নয়, যাদের চোখের সমস্যা দেখে আমরা বুঝতে পারি যে, অন্যান্য অসুখের সঙ্গে এর একটা যোগাযোগ আছে। শুধু ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপই নয়, মাল্টিপল এসক্লেরোসিসের মতো স্নায়ুর রোগ থেকেও চোখে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি একটি স্নায়ুতন্ত্রের প্রদাহজনিত অটোইমিউন রোগ। অর্থাত্ শরীরের নিজের প্রতিরোধ শক্তি স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। এ রোগে মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড এবং অপটিক স্নায়ু আক্রান্ত হতে পারে। এর ফলে ভারসাম্যের সমস্যা, কথা ও দৃষ্টির সমস্যা, ক্লান্তি ও ডিপ্রেশন দেখা দিতে পারে। এই অসুখের কারণে চোখের সমস্যা হলে রোগী ‘ডাবল ভিশন’ দেখে। দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যায়। এই রোগ পুরোপুরি ভালো হয় না। তবে সঠিক সময়ে ধরা পড়লে থেরাপি দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। হাড় ও মাংসপেশির রোগ বাত রোগ থেকেও চোখে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদিও বাত থেকে চোখের অসুখ, কথাটা বিস্ময়ের সৃষ্টি করতে পারে। পায়ের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা, মাজা ও হাঁটুতে ব্যথা ইত্যাদি থেকে চোখের বিভিন্ন উপসর্গ শুরু হতে পারে। যেমন কর্নিয়ায় ঘা, পানি পড়া, আলোতে চোখ খুলতে না পারা, চোখে শুষ্কতা, চোখের সাদা অংশ ও রক্তনালীতে প্রদাহ ইত্যাদি। সময়মত চিকিত্সা শুরু করা না গেলে এসব উপসর্গ থেকে রোগী অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। এই কারণে চক্ষু চিকিত্সকদের প্রশিক্ষণে চোখের সঙ্গে অন্যান্য রোগ-ব্যাধির সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। চোখের চিকিত্সা শুধু ছানি অপারেশন ও গ্লাউকোমার থেরাপিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর ব্যাপ্তিটা আরও অনেক বেশি বলেন প্রফেসর বের্টল্ড সাইটত্স। বিষয়টি অনেক রোগীই বুঝতে পারেন। চক্ষু চিকিত্সককে জানান কৃতজ্ঞতা। কেননা তার কাছে না এলে আসল অসুখটি যে ধরাই পড়ত না। মারাত্মক পরিণতির দিকে এগিয়ে যেত। সূত্র : ডিডব্লিউ/আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি নি হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’