চ্যানেল আই’র উপস্থাপক নূরুল ইসলাম ফারুকী হত্যায় রহস্যময়ী নারী!

ইমাম ও চ্যানেল আই’র উপস্থাপক নূরুল ইসলাম ফারুকীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রহস্যময়ী এক নারীর সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে তার পরিবার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। হত্যাকাণ্ডের আগে ওই নারী কাজের বুয়া সেজে বাসায় প্রবেশ করে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে। পরে সে ওই বাসা থেকে একটি বোরকা পরে বেরিয়ে যায়। তার ক্লিয়ারেন্স পেয়েই নির্ভয়ে বাসায় প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। এরপর তারা নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত ফারুকীর অনুসারী আবদুর রহমান শীর্ষ নিউজকে এসব কথা বলেন। তার সঙ্গে নূরুল ইসলাম ফারুকীর ২০০৪ সাল থেকে পরিচয়। বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানে আবদুর রহমান নিহত ফারুকীর সঙ্গে অংশ নিতেন।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পূর্ব রাজাবাজারের নূরুল ইসলাম ফারুকীর ১৭৪ নম্বর ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলায় কলিং বেল বাজে। বাসার গৃহপরিচারিকা শরীফা দরজা খুলতেই দেখতে পায় নোংরা কাপড় পরা অবস্থায় ২৫ থেকে ৩০ বছরের এক নারী। দরজা খুলতেই ওই নারী ‘হুজুরে কই, হুজুরে কই’ বলতে বলতে বাসার ভেতরে ঢোকে। ফারুকীর নিয়মিত সাক্ষাতের সামনের রুমে না বসে ওই নারী বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ভেতরের বেডরুম (শয়ন কক্ষ) থেকে ফারুকী বের হয়ে আসেন। তাকে পেয়েই ওই অজ্ঞাত নারী বলতে থাকেন, ‘আমার কেউ নেই, আমাকে একটা কাজ দিন।’ ফারুকী তাকে শান্ত হতে বলেন। এর মধ্যে ফারুকীর স্ত্রী এবং বাসার অন্যান্য লোকজনের সঙ্গেও তার কুশল বিনিময় হয়। এ সময় বাসায় ফারুকীর এক ছেলে এবং তার অনুসারী আরো দুই নারী বাসায় ছিলেন। ওই নারী একে একে বাসার সবকটি কক্ষে প্রবেশ করে।
ফারুকীর অনুসারী আবদুর রহমান বলেন, ‘ওই নারী বাসায় আশার আগে হুজুরের মোবাইল ফোনেও ফোন দিয়েছিল। বাসায় এসে সে প্রথমে বলে তার বাড়ি সাতক্ষীরা, আবার কিছুক্ষণ পর সে জানায় তার বাড়ি সুন্দরবন এলাকায়। এ সময় বাসায় অবস্থানরত সবার সঙ্গেই তার কথা হয়। কিছুক্ষণ বাসায় থাকার পরই ওই নারী হুজুরকে (ফারুকী) জানায়, সে গাউছিয়া যাবে। আবার একবার জানিয়েছে গুলিস্তান যাবে। কিন্তু কীভাবে যাবে সে চেনে না। এরপর হুজুর তার ভাগ্নির ছেলে মেহেদী হাসানকে একটি রিকশা করে দিতে বলেন। এ সময় ওই নারী একটি বোরকা পরে বাসা থেকে বের হয়। মেহেদী তাকে নিয়ে গ্রিন রোডে একটি রিকশায় তুলে দিলে ওই নারী তাকে জানায় এখন সে একা একাই যেতে পারবে। এই বলে সে চলে যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘ওই নারী বাসায় এসে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছে। সে সাড়ে ৪টায় বাসায় প্রবেশ করে। বের হয়ে যায় ৬টার দিকে। বাসায় প্রবেশ করে সে কান্নাকাটিও করে। বাসার ভেতরে সাধারণত কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। কিন্তু ওই নারী দ্রুত বাসার ভেতরে প্রবেশ করে।’
ফারুকীর অনুসারী আবদুর রহমান বলেন, ‘ওই নারীর বাসায় আসা এবং আবার চলে যাওয়া ছিল উদ্দেশ্যমূলক। এখন তা আমরা বুঝতে পারছি।’ এদিকে ফারুকীকে গলা কেটে হত্যা করার আগে দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছে উল্লেখ করে ফারুকীর এই অনুসারী বলেন, ‘শেরেকি-বেদায়াতি কাজ কিভাবে করিস তোকে তা দেখাচ্ছি।’
শাইখ নূরুল ইসলাম ফারুকীর প্রার্থনার ধরণ উল্লেখ করে আবদুর রহমান বলেন, ‘আমার যেন ইমাম হাসান-হোসেনের মতো শহীদী মৃত্যু হয়। আর কিছুই চাওয়ার নেই।’
তিনি বলেন, ‘হুজুরের দেশ এবং দেশের বাইরে অনেক খ্যাতি রয়েছে। তিনি নামাজের পড়ে প্রার্থনা করে সবসময় শহীদী মৃত্যু চাইতেন। তিনি শহীদী মৃত্যু পেয়েছেন।’
নিহত ফারুকী জীবনাদর্শ মূল্যায়ন করে তিনি আরো বলেন, ‘পীর এবং মাজারের গুরুত্ব দিতেন। তবে ভক্ত পীরদের সমালোচনাও করতেন তিনি। জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করতেন হুজুর। তিনি নিজে ছারছীনার হুজুরের অনুসারী ছিলেন। সেখানেই তিনি লেখা পড়া করেছেন। তার সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল না। তিনি অনেক ভালো মানুষ ছিলেন।’
তিনি ফারুকী সম্পর্কে আরো বলেন, ‘হুজুর জেদ্দার একটি জামে মসজিদেও ইমাম ছিলেন। তার সঙ্গে অনেকেই হজে যেতে চাইতেন। তিনি অনেক দয়ালু ছিলেন। বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে টাকা-পয়সা দিয়ে তিনি সাহায্য করতেন।’
নিহত ফারুকীর শ্যালক আরিফ রব্বানির ছেলে মারুফ হাসান ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী। ছেলের বরাত দিয়ে আরিফ রব্বানি শীর্ষ নিউজকে বলেন, ‘হজের কথা বলে বাসায় প্রথমে দুজন লোক আসে। তারা ফারুকীর সঙ্গে হজে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু ফারুকী তাদের জানান, হজে যাওয়ার টাকা জমা দেওয়ার সময় শেষ এখন আর হবে না। এরপর আগন্তুক দুজন ফারুকীকে জানায় তারা অন্য ট্রাভেল এজেন্সিতে টাকা দিয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে হজে যাবে। এরপর ফারুকী তাদের বলে ঠিক আছে যাওয়া যাবে।
এরপর ওই দুজন ফারুকীকে জানায় তাদের বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এ সময় তারা ফোনে তাদের বড় ভাইকে ফারুকীর বাসায় আসতে বলেন। ফোনের সঙ্গে সঙ্গে আরো পাঁচজন লোক বাসায় প্রবেশ করে। এসময় বাসার ভেতরে বসার জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ফারুকী তার শ্যালকের ছেলে মারুফকে চেয়ার দিতে বলেন। মারুফ চেয়ার নিয়ে এসে দেখে ফারুকীর মাথায় পিস্তল ঠেকানো। দুর্বৃত্তরা মারুফকে ধরে হাত-পা বেঁধে ফেলে। ফারুকী এসময় মারুফকে না মারার অনুরোধ করলে তারা ফারুকীকে নিজের চিন্তা করতে বলে। এরপর ফারুকীরও হাত-পা বেঁধে ফেলে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ফারুকী এবং মারুফকে বাধার পর শয়ন কক্ষের ভেতরে থাকা মহিলাদের কাছে যায় দুর্বৃত্তরা।
এসময় ফারুকীর দ্বিতীয় স্ত্রী লুবনা তাদের কক্ষের ভেতরে প্রবেশের কারণ জানতে চায়। তারা তাকে বলে, পুলিশে ধাওয়া করেছে তাদের। এ সময় লুবনা তাদের পাশের বাসায় থাকার জন্য অনুরোধ করার সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। তাদের হাত-পা বাঁধার মধ্যে বাসার কলিং বেল বেজে উঠে। দুর্বৃত্তরা দরজা খুলে তিনজন লোককে বাসার ভেতরে নিয়ে হাত পা বেঁধে ফেলেন। যারা পুলিশের হাতে গ্রেফতার রয়েছে। এরা ফারুকীকে একটি মাহফিলের অতিথি করতে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় এসেছিলেন।’
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, নূরুল ইসলাম ফারুকীকে খুনের কারণ হিসেবে ধর্মীয় মতাদর্শকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাকে হত্যা করার সময় দুর্বৃত্তরা সেই ধরনের কিছু কথাবার্তাও বলছিলো। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও ধর্মীয় মতাদর্শের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ফারুকীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফারুকী মাজার এবং পীরের বিশ্বাসী ছিলেন। যে কারণে তিনি অনেকের কাছে সমালোচিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন বেসরকারি চ্যানেলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করায় দেশে এবং দেশের বাইরেও অনেক মানুষ তার অনুসারী হয়েছিলেন। এতে একটি পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে এই হত্যাকা- ঘটাতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হযেছে।
ফারুকীর বিষয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান শীর্ষ নিউজকে বলেন, ‘কয়েকটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে। সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মাললাটি তদন্ত করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, নূরুল ইসলাম ফারুকী বুধবার রাত ৮টা থেকে ৯টার ভেতরে কোনো এক সময় নিজ বাসায় খুন। নিহত ফারুকীর দুই স্ত্রী। তার প্রথম স্ত্রীর নাম আয়েশা ফারুকী। এই সংসারে তার এক ছেলে এবং দুই মেয়ে আছে। বড় ছেলের নাম মাসুদ। তিনি নেদারল্যান্ডসে থাকেন। মেয়েদের নাম তুবা এবং নুবা। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন।
দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম লুবনা ফারুকী। এই সংসারে তার তিন ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে আহমেদ রেজা ফারুকী (২৫), মেজো ছেলে ফয়সাল ফারুকী (১৮) এবং ছোট ছেলে ফুয়াদ আল মাহাদী।
উত্স : শীর্ষ নিউজ
বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত ফারুকীর অনুসারী আবদুর রহমান শীর্ষ নিউজকে এসব কথা বলেন। তার সঙ্গে নূরুল ইসলাম ফারুকীর ২০০৪ সাল থেকে পরিচয়। বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানে আবদুর রহমান নিহত ফারুকীর সঙ্গে অংশ নিতেন।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পূর্ব রাজাবাজারের নূরুল ইসলাম ফারুকীর ১৭৪ নম্বর ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলায় কলিং বেল বাজে। বাসার গৃহপরিচারিকা শরীফা দরজা খুলতেই দেখতে পায় নোংরা কাপড় পরা অবস্থায় ২৫ থেকে ৩০ বছরের এক নারী। দরজা খুলতেই ওই নারী ‘হুজুরে কই, হুজুরে কই’ বলতে বলতে বাসার ভেতরে ঢোকে। ফারুকীর নিয়মিত সাক্ষাতের সামনের রুমে না বসে ওই নারী বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ভেতরের বেডরুম (শয়ন কক্ষ) থেকে ফারুকী বের হয়ে আসেন। তাকে পেয়েই ওই অজ্ঞাত নারী বলতে থাকেন, ‘আমার কেউ নেই, আমাকে একটা কাজ দিন।’ ফারুকী তাকে শান্ত হতে বলেন। এর মধ্যে ফারুকীর স্ত্রী এবং বাসার অন্যান্য লোকজনের সঙ্গেও তার কুশল বিনিময় হয়। এ সময় বাসায় ফারুকীর এক ছেলে এবং তার অনুসারী আরো দুই নারী বাসায় ছিলেন। ওই নারী একে একে বাসার সবকটি কক্ষে প্রবেশ করে।
ফারুকীর অনুসারী আবদুর রহমান বলেন, ‘ওই নারী বাসায় আশার আগে হুজুরের মোবাইল ফোনেও ফোন দিয়েছিল। বাসায় এসে সে প্রথমে বলে তার বাড়ি সাতক্ষীরা, আবার কিছুক্ষণ পর সে জানায় তার বাড়ি সুন্দরবন এলাকায়। এ সময় বাসায় অবস্থানরত সবার সঙ্গেই তার কথা হয়। কিছুক্ষণ বাসায় থাকার পরই ওই নারী হুজুরকে (ফারুকী) জানায়, সে গাউছিয়া যাবে। আবার একবার জানিয়েছে গুলিস্তান যাবে। কিন্তু কীভাবে যাবে সে চেনে না। এরপর হুজুর তার ভাগ্নির ছেলে মেহেদী হাসানকে একটি রিকশা করে দিতে বলেন। এ সময় ওই নারী একটি বোরকা পরে বাসা থেকে বের হয়। মেহেদী তাকে নিয়ে গ্রিন রোডে একটি রিকশায় তুলে দিলে ওই নারী তাকে জানায় এখন সে একা একাই যেতে পারবে। এই বলে সে চলে যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘ওই নারী বাসায় এসে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছে। সে সাড়ে ৪টায় বাসায় প্রবেশ করে। বের হয়ে যায় ৬টার দিকে। বাসায় প্রবেশ করে সে কান্নাকাটিও করে। বাসার ভেতরে সাধারণত কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। কিন্তু ওই নারী দ্রুত বাসার ভেতরে প্রবেশ করে।’
ফারুকীর অনুসারী আবদুর রহমান বলেন, ‘ওই নারীর বাসায় আসা এবং আবার চলে যাওয়া ছিল উদ্দেশ্যমূলক। এখন তা আমরা বুঝতে পারছি।’ এদিকে ফারুকীকে গলা কেটে হত্যা করার আগে দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছে উল্লেখ করে ফারুকীর এই অনুসারী বলেন, ‘শেরেকি-বেদায়াতি কাজ কিভাবে করিস তোকে তা দেখাচ্ছি।’
শাইখ নূরুল ইসলাম ফারুকীর প্রার্থনার ধরণ উল্লেখ করে আবদুর রহমান বলেন, ‘আমার যেন ইমাম হাসান-হোসেনের মতো শহীদী মৃত্যু হয়। আর কিছুই চাওয়ার নেই।’
তিনি বলেন, ‘হুজুরের দেশ এবং দেশের বাইরে অনেক খ্যাতি রয়েছে। তিনি নামাজের পড়ে প্রার্থনা করে সবসময় শহীদী মৃত্যু চাইতেন। তিনি শহীদী মৃত্যু পেয়েছেন।’
নিহত ফারুকী জীবনাদর্শ মূল্যায়ন করে তিনি আরো বলেন, ‘পীর এবং মাজারের গুরুত্ব দিতেন। তবে ভক্ত পীরদের সমালোচনাও করতেন তিনি। জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করতেন হুজুর। তিনি নিজে ছারছীনার হুজুরের অনুসারী ছিলেন। সেখানেই তিনি লেখা পড়া করেছেন। তার সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল না। তিনি অনেক ভালো মানুষ ছিলেন।’
তিনি ফারুকী সম্পর্কে আরো বলেন, ‘হুজুর জেদ্দার একটি জামে মসজিদেও ইমাম ছিলেন। তার সঙ্গে অনেকেই হজে যেতে চাইতেন। তিনি অনেক দয়ালু ছিলেন। বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে টাকা-পয়সা দিয়ে তিনি সাহায্য করতেন।’
নিহত ফারুকীর শ্যালক আরিফ রব্বানির ছেলে মারুফ হাসান ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী। ছেলের বরাত দিয়ে আরিফ রব্বানি শীর্ষ নিউজকে বলেন, ‘হজের কথা বলে বাসায় প্রথমে দুজন লোক আসে। তারা ফারুকীর সঙ্গে হজে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু ফারুকী তাদের জানান, হজে যাওয়ার টাকা জমা দেওয়ার সময় শেষ এখন আর হবে না। এরপর আগন্তুক দুজন ফারুকীকে জানায় তারা অন্য ট্রাভেল এজেন্সিতে টাকা দিয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে হজে যাবে। এরপর ফারুকী তাদের বলে ঠিক আছে যাওয়া যাবে।
এরপর ওই দুজন ফারুকীকে জানায় তাদের বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এ সময় তারা ফোনে তাদের বড় ভাইকে ফারুকীর বাসায় আসতে বলেন। ফোনের সঙ্গে সঙ্গে আরো পাঁচজন লোক বাসায় প্রবেশ করে। এসময় বাসার ভেতরে বসার জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ফারুকী তার শ্যালকের ছেলে মারুফকে চেয়ার দিতে বলেন। মারুফ চেয়ার নিয়ে এসে দেখে ফারুকীর মাথায় পিস্তল ঠেকানো। দুর্বৃত্তরা মারুফকে ধরে হাত-পা বেঁধে ফেলে। ফারুকী এসময় মারুফকে না মারার অনুরোধ করলে তারা ফারুকীকে নিজের চিন্তা করতে বলে। এরপর ফারুকীরও হাত-পা বেঁধে ফেলে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ফারুকী এবং মারুফকে বাধার পর শয়ন কক্ষের ভেতরে থাকা মহিলাদের কাছে যায় দুর্বৃত্তরা।
এসময় ফারুকীর দ্বিতীয় স্ত্রী লুবনা তাদের কক্ষের ভেতরে প্রবেশের কারণ জানতে চায়। তারা তাকে বলে, পুলিশে ধাওয়া করেছে তাদের। এ সময় লুবনা তাদের পাশের বাসায় থাকার জন্য অনুরোধ করার সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। তাদের হাত-পা বাঁধার মধ্যে বাসার কলিং বেল বেজে উঠে। দুর্বৃত্তরা দরজা খুলে তিনজন লোককে বাসার ভেতরে নিয়ে হাত পা বেঁধে ফেলেন। যারা পুলিশের হাতে গ্রেফতার রয়েছে। এরা ফারুকীকে একটি মাহফিলের অতিথি করতে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় এসেছিলেন।’
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, নূরুল ইসলাম ফারুকীকে খুনের কারণ হিসেবে ধর্মীয় মতাদর্শকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাকে হত্যা করার সময় দুর্বৃত্তরা সেই ধরনের কিছু কথাবার্তাও বলছিলো। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও ধর্মীয় মতাদর্শের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ফারুকীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফারুকী মাজার এবং পীরের বিশ্বাসী ছিলেন। যে কারণে তিনি অনেকের কাছে সমালোচিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন বেসরকারি চ্যানেলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করায় দেশে এবং দেশের বাইরেও অনেক মানুষ তার অনুসারী হয়েছিলেন। এতে একটি পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে এই হত্যাকা- ঘটাতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হযেছে।
ফারুকীর বিষয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান শীর্ষ নিউজকে বলেন, ‘কয়েকটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে। সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মাললাটি তদন্ত করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, নূরুল ইসলাম ফারুকী বুধবার রাত ৮টা থেকে ৯টার ভেতরে কোনো এক সময় নিজ বাসায় খুন। নিহত ফারুকীর দুই স্ত্রী। তার প্রথম স্ত্রীর নাম আয়েশা ফারুকী। এই সংসারে তার এক ছেলে এবং দুই মেয়ে আছে। বড় ছেলের নাম মাসুদ। তিনি নেদারল্যান্ডসে থাকেন। মেয়েদের নাম তুবা এবং নুবা। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন।
দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম লুবনা ফারুকী। এই সংসারে তার তিন ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে আহমেদ রেজা ফারুকী (২৫), মেজো ছেলে ফয়সাল ফারুকী (১৮) এবং ছোট ছেলে ফুয়াদ আল মাহাদী।
উত্স : শীর্ষ নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!