জন্ম শতবার্ষিকী শেষ হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধুর সকল খুনির শাস্তি নিশ্চিত করতে চাই, যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা খুনির বাসার সামনে আন্দোলন করুন : নিউইয়র্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন
https://www.youtube.com/watch?v=6wBk4QNRKL0
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত মত বিনিময় সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী শেষ হওয়ার আগেই আমরা বঙ্গবন্ধুর সকল খুনির শাস্তি নিশ্চিত করতে চাই। তিনি বলেন এ দেশেও বঙ্গবন্ধুর একজন খনি পলাতক রয়েছেন। আপনারা তার বাসার সামনে গিয়ে সপ্তাহে একটা আন্দোলন করুন। এটা আমাদের জন্য সহায়ক হবে। তবে আইন মান্য করে আপনারা আপনাদের বক্তব্য প্রকাশ করুন। যাতে করে সবাই জানতে পারে এখানে একজন মার্ডারার রয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল রোববার বিকেলে জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজদের পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল সাদিয়া ফয়েজুন নেসা।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান, সহ সভাপতি ফার্মাসিস্ট আক্তার হোসেন, লুৎফুল করিম, শামসুদ্দিন আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইরীন পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাসিব মামুন, মহিউদ্দিন দেওয়ান, কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খান, প্রচার সম্পাদক হাজি এনাম (দুলাল মিয়া), কৃষিবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সোলায়মান আলী, মুক্তিযোদ্ধা বিষযক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, আন্তর্জজাতিক বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান বজলু, উপ দপ্তর সম্পাদক আবদুল মালেক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিরিন আক্তার দীবা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাখাওয়াত বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্র আইনজীবী পরিষদের সভাপতি মোর্শেদা জামান, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শেখ আতিকুল ইসলাম, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুর রহমান, কানেকটিকাট আওয়ামীলীগের সভাপতি জুনেদ খান, নিউজার্সী আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল মালিক চুন্নু, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, ম্যারিলেন্ড স্টেট আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ সেলিম, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকন, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নূরুজ্জামান সর্দার প্রমুখ। সমাবেশে বিভিন্ন স্টেট সহ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে বলেন, আগামী দু’বছর আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করা হবে। আপনারা যারা প্রবাসে রয়েছেন তারাও এই দুটো দিবস বছরব্যাপী পালন করবেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ ভাল অবস্থানে রয়েছে। প্রবাসীদের জন্য অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার ৩০ ডিসেম্বর প্রবাসী দিবস ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশ এখন প্রায় সকল ক্ষেত্রেই বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে মাথা উঁচু করে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সহ প্রবাসীরা তাঁর সঙ্গে রয়েছেন।

এর আগে ড. এ কে আব্দুল মোমেন ট্রাম্প প্রশাসনের আমন্ত্রণে ৩ দিনের সফরে ৭ এপ্রিল রোববার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণ করেন। জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের পর প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ড. মোমেনকে বিপুল সংবর্ধনা দেয়া হয়।

এয়ারপোর্টে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর সমাগম ঘটে। এরপর আমেরিকা বাংলাদেশ বিজনেস এসোসিয়েশন, পিপলএনটেক ইন্সটিটিউট, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র শাখা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের ব্যানারে আয়োজিত পৃথক সংবর্ধনা সমাবেশে অংশ নেন ড. মোমেন। এর পর সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন তিনি। নিউইয়র্কের সকল কর্মসূচিতেই মন্ত্রীর সাথে ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং কন্সাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, মা ও শিশু মৃত্যুহার কমেছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। এমনকি পাশ্চবর্তী দেশ ভারত থেকেও আমরা এখন উন্নত। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার কারণে বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে ভালবাসে এবং এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করেছে। আমিও তার কারণে নির্বাচনে জয়লাভ করেছি। নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে গিয়ে আমার নির্বাচনী সভা সমাবেশে করেছেন এবং বিনা অর্থে প্রচারণা চালিয়েছেন। ব্যবসায়ীরাও শেখ হাসিনার উপর খুশি। কারণ এখন দেশে কোন বোমাবাজি, হরতাল এবং অবরোধ নেই। অনেক জায়গায় বিদ্যুত পৌঁছে গিয়েছে, বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের, ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন এবং ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এগুলো করতে হলে আমাদের ৬.২৩ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। এই কাজে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

আমেরিকা বাংলাদেশ বিজনেস এসোসিয়েশনের সংবর্ধনা শেষে ড. মোমেন উদ্বোধন করেন পিপল এন টেকের নতুন অফিস। এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পিপল এন টেকের কর্ণধার আবুবকর হানিপ এবং ফারহানা হানিপ সহ অন্যরা।

জ্যাকসন হাইটসের বেলাজিনো অডিটোরিয়ামে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনে সভাপতি ড. খন্দকার মনসুরের সভাপতিত্বে এবং সংবাদিক লাবলু আনসারের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া। আজ ৮ এপ্রিল তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেরও সাথে বৈঠক করছেন। এছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসনের আরও ক’জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল, জিএসপি পুনর্বহাল, যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর ঘাতক এবং একাত্তরের ঘাতকদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও আলোচনার কথা রয়েছে ড. মোমেনের।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর গঠিত বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এটাই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর ড. মোমেনের। ওই নির্বাচন নিয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদনে যে প্রশ্নের অবতারণা করা হয়েছে তা নিরসনকল্পে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ প্রবাস জীবনের মার্কিন রাজনীতিকদের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক কাজে লাগাবেন ড. মোমেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর ড. মোমেন বাংলাদেশে ফিরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালের আগস্টে তাকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিলে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত তিনি সে দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেন। জাতিসংঘে দীর্ঘ ৬ বছর দায়িত্ব পালনকালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে অনন্য এক উচ্চচায় নিয়ে যেতে সক্ষম হন ড. মোমেন। দেশে গিয়ে ড. মোমেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।
গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি সিলেট-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হন। জাতিসংঘে বিরল সফলতার ধারাবাহিকতার আলোকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’