Sunday, 14 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি নি হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব‍্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন‍্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র‌্যালি’ নিউইয়র্কে সিএমবিএ’র ১৬তম ‘লিটল বাংলাদেশ ব্রুকলিন পথমেলা’ অনুষ্ঠিত Bangladesh Calls for Stronger UNDP Support on Climate Finance and Smooth LDC Graduation
সব ক্যাটাগরি

জমে উঠেছে নিউইয়র্ক বইমেলা ও বাংলা উৎসব, দ্বিতীয় দিনে সাহিত্য পুরস্কার পেলেন দিলারা হাশেম

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 31 বার

প্রকাশিত: June 16, 2019 | 3:40 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে ‘মুক্তধারা ফাউন্ডেশন’ এর আয়োজনে ‘মননে বই, জীবনে বই’ স্লোগানে ১৪ জুন শুক্রবার শুরু হওয়া ‘২৮তম নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা’ জমে উঠেছে। মেলার দ্বিতীয় দিনে বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কাওে ভূষিত হন কথাসাহিত্যিক দিলারা হাশেম। সিটির জ্যাকসন হাইটসে ৭৭ স্ট্রিট ও ৩৭ অ্যাভিনিউ জ্যাকসন হাইটস স্কুল মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী নিউইয়র্ক বইমেলা ও বাংলা উৎসবের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল সাড়ে দশটা থেকেই শুরু হয় নানা অনুষ্ঠান। বেলা সাড়ে বারোটা পর্যন্ত লেখক, কবি, সাংবাদিক, প্রকাশকসহ অতিথি ও দর্শকদের জন্য ছিল চমৎকার আয়োজন। ছিল বাঙালি আড্ডা, বাঙালি প্রাতরাশ। লেখক ফেরদৌস সাজেদীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ, সাংবাদিক সাইদ উর রব, শিশু সাহিত্যিক হুমায়ুন কবীর ঢালী, কবি শামস আল মমীন, আদনান সৈয়দ, সাহিত্যিক মোকারম হোসেন, লেখক কনা বসু, ফাহিম রেজা নুর, ওবায়দুল্লা মামুন, লেখক রাজিয়া নাজমি, বিশিষ্ট ছড়াকার মঞ্জুর কাদের, লেখক স্মৃতি ভদ্র, লেখক ভায়লা সালিনা, কবি রওশন হাসান, লেখক ও কবি জাফর আহমদ রাশেদ, কবি, লেখক এ বি এম সালাউদ্দিন, লেখক-প্রকাশক পপি চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে হাসান ফেরদৌস, আহমাদ মাযহার, আমিরুল ইসলাম, ফেরদৌস সাজেদীন, সেলিনা হোসেন, হাবিবুল্লা সিরাজী, রানু ফেরদৌস, মঞ্জুর কাদের, সাইদ উর রব প্রমুখ তাদের জীবনের নানা স্মৃতি নিয়ে সরস গল্প করেন।

নিচতলায় মেলার বিশাল হলঘরে বইপত্র দিয়ে স্টল সাজিয়ে বসেন প্রকাশকেরা। শনিবার ছুটির আমেজে দর্শক, বইপ্রেমী ও পাঠকেরা আসতে শুরু করেছেন। এদিকে অডিটোরিয়ামে বসে ডায়াসপোরা সাহিত্য নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন হাবিবুল্রাহ সিরাজী, ফকির ইলিয়াস, নাজমুন নেসা পিয়ারী ও শাহাব আহমেদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হুমায়ুন কবীর।

বেলা দেড়টা থেকে ছিল ঘণ্টাব্যাপী মুখোমুখি অনুষ্ঠান। এতে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সেলিনা হোসেন, আনিসুল হক, আমীরুল ইসলাম, কণা বসুমিশ্র, বিমল গুহ, সৈয়দ আল ফারুক, নাজমুন নেসা পিয়ারী, মোকারম হোসেন, বদরুন নাহার, আহসান হাবীব, হোসাইন কবীর, তানভির তারেক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রোকেয়া হায়দার।
এরপর ছিল লেখকদের প্রকাশিত নতুন বই নিয়ে লেখক ও বইয়ের পরিচিতি অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লেখক আদনান সৈয়দ। বিশেষ অতিথি ছিলেন হাবিবুল্লাহ সিরাজী। অনুষ্ঠানে লেখক আহমেদ মুসা, পলি শাহীনা, স্মৃতি ভদ্র, আলী সিদ্দিকী, সৈয়দ শামসুল হুদা, শেলী জামান খান, মনিজা রহমান, গোপন দাশ, জীবন চৌধুরী, বেনজীর শিকদার, রওশন হাসান, আলম সিদ্দিকী, এইচ বি রিতা, রোমেনা লেইস, ফকির ইলিয়াস, শরীফুল আলম, আহম্মেদ হোসেন বাবু, রিমি রুম্মান, সালেহীন সাজু, আশরাফ হাসান, ফেরদৌস সাজেদীন, রীনা রায়হান, ড. রওনক আফরোজ ও খায়রুল আলম প্রমুখ তাঁদের বই নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
দ্বিতীয় দিনের বই মেলার অনুষ্ঠানে মুক্তধারা সাহিত্য ও প্রকাশনা পুরস্কার ঘোষিত হয়। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য এ পুরস্কার পেলেন দিলারা হাশেম। গতকাল শনিবার বইমেলায় তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়। দিলারা হাশেম চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন কাজ করেছেন ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগে। তবে তাঁর মূল পরিচয় বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক। গতকাল সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান মঞ্চে তাঁর গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। ক্রেস্ট তুলে দেন বইমেলার আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম। আর পুরস্কারের অর্থ ২ হাজার ৫০০ ডলারের চেক তুলে দেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তাঁর আর্থিক সহযোগিতাতেই এই পুরস্কারের প্রচলন হয়।
প্রতিক্রিয়ায় দিলারা হাশেম বলেন, অভিবাসী বন্ধু ও প্রবাসী লেখকদের কাছ থেকে পাওয়া এই স্বীকৃতির মূল্য তাঁর কাছে অনেক বেশি। তিনি সেলিনা হোসেনের হাতে হাত রেখে বলেন, বাঙালি পাঠক এখনো তাঁর বই ভালোবাসে, এই সংবাদ তাঁকে কৃতজ্ঞ করেছে। এর আগে অতিথি প্রকাশকদের নিয়ে একটি পরিচয় পর্ব হয়। এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফাহিম রেজা নুর। এপার বাংলা ওপার বাংলা নিয়ে কথা বলেন লেখক কণা বসুমিশ্র।
দিলারা হাশেম চতুর্থ লেখক হিসেবে মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করলেন। এর আগে এই পুরস্কার পেয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, প্রাবন্ধিক শামসুজ্জামান খান ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
অনুষ্ঠানের আরেক আকর্ষণ ছিল লেখক রানু ফেরদৌসের সঞ্চালনায় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। ছিল কবিতার নবীন কণ্ঠ নামে শিশু কিশোরদের কণ্ঠে অভিবাসী কবিদের কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠান। সঞ্চালনায় ছিলেন ছড়াকার মনজুর কাদের। সাহিত্য ও স্যাটায়ার নিয়ে কথা বলেন আহসান হাবীব। রবীন্দ্রনাথের বৃক্ষ-ভাবনা নিয়ে কথা বলেন মোকারম হোসেন।
বিকেলে আনন্দধ্বনির সংগীত পরিবেশন দর্শকদের হৃদয় জয় করে। এ পর্বে ফরিদুর রেজা সাগর কথা বলেন সাহিত্য ও তথ্য মাধ্যম নিয়ে। শেষ বিকেলে লালন ও রবীন্দ্রনাথের গানের সংকলন পরিবেশিত হয় মনের মানুষ নামক একটি অনুষ্ঠানে। তারপর পরিবেশিত হয় একক নৃত্যানুষ্ঠান।
মিজানুর রহমানের পরিকল্পনায় শামসুর রহমান, সৈয়দ শামসুল হক ও শহীদ কাদরীর কবিতাভিত্তিক আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘তোমাকে অভিবাদন’ পরিবেশিত হয়।
সন্ধ্যায় ‘মূলধারার বাঙালি লেখক’ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমেদ। বঙ্গবন্ধু ও বাংলা সাহিত্য নিয়ে কথা বলেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও সাহিত্যিক আনিসুল হক। সদ্য প্রয়াত সুবীর নন্দীর স্মরণে স্মরণ নামক একটি অনুষ্ঠান হয়। তারপর পরিবেশিত হয় অতুল প্রসাদের গান।
রাত নয়টায় ‘কেন লিখি’ এ বিষয়ে কথা বলেন লেখক সেলিনা হোসেন। সবশেষে একে একে পরিবেশিত হয় পন্ডিত রামকানাই দাসের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ও একক গান। পরিবেশন করেন তনিমা হাদী। এদিকে ক্যাফেটেরিয়ায় বিকেল থেকেই দর্শক ও বইপ্রেমী, বই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। প্রতিদিন অনুষ্ঠানে থাকছে স্বরচিত কবিতা, আবৃত্তি, সাহিত্য আলোচনা ও নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। স্কুলের মিলনায়তনে সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা অবধি চলে নানান অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক পর্বে একক সঙ্গীত পরিবেশন করবেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।
জ্যাকসন হাইটস স্কুল ক্যাফেটেরিয়ায় বাঙালি খাবার ও পণ্যের স্টল সহ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ২০টির বেশি প্রকাশনা সংস্থা বইমেলায় অংশ নিচ্ছে।
বইমেলার চতুর্থ ও শেষ দিন আগামী সোমবার জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে শুধুমাত্র বই প্রদর্শনী। ঢাকা থেকে আসা বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টল থাকবে সেখানে।
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার বাইরে বৃহত্তম ও সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এই বাংলা বইমেলায় উত্তর আমেরিকার শতাধিক লেখক, কবি ও সাহিত্যিক সহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী অংশ গ্রহণে ভিন্নমাত্রা পেয়েছে এবারের বইমেলা।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে ‘মুক্তধারা ফাউন্ডেশন’ এর আয়োজনে ‘মননে বই, জীবনে বই’ স্লোগানে ১৪ জুন শুক্রবার শুরু হয় ‘২৮তম নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা’। সিটির জ্যাকসন হাইটসে ৭৭ স্ট্রিট ও ৩৭ অ্যাভিনিউ জ্যাকসন হাইটস স্কুল মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী নিউইয়র্ক বইমেলা ও বাংলা উৎসব শুরু হয়। এদিন রাত সাড়ে ৮টায় স্কুল প্রাঙ্গনে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। উদ্বোধনের আগে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজা থেকে একটি বর্ণিল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি জ্যাকসন হাইটস স্কুলে গিয়ে শেষ হয়। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় গত ২৭ বছর ধরে নিউইয়র্কে বই মেলার আয়োজন করে আসলেও এবারই প্রথম বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে এই বইমেলা ও বাংলা উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV