জাতিসংঘে আইসিডি বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দঃ যুক্তরাস্ট্র ও জাতিসংঘের নতুন নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনরূপ প্রভাব ফেলবে না
রশীদ আহমদ, নিউইয়র্ক : জাতিসংঘে একাডেমি ফর কালচারাল ডিপ্লোম্যাসী আয়োজিত বার্ষিক সম্মেলনে যুক্তরাস্ট্র ও জাতিসংঘে নতুন নেতৃত্বে বিশ্বের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, কূটনৈতিক এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে কোন বিরূপ প্রভাব ফেলবে না বলে প্রত্যাশা করছেন সমবেত নেতৃবৃন্দ। ইতিপুর্বে যে সমস্ত দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে সেসব দেশে পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘ সহ সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। গত ১০ই জানুয়ারী ইন্সটিটিউট ফর কালচারাল ডিপ্লোম্যাসীর ডাইরেক্টর জেনারেল মিস্টার মার্ক ডনফ্রিড এর সঞ্চালনায় কীনোট স্পীকার ছিলেন জাতিসংঘে রোমানিয়া স্থায়ী প্রতিনিধি লন জিনগা, জাতিসংঘে পানামা স্থায়ী প্রতিনিধি লাওরা ই ফ্লোরিস এইচ, জাতিসংঘে বানোয়াতো স্থায়ী প্রতিনিধি ওদো টেভি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ড.নিবা হেলিনা আলেক্সজান্ডার। পাঁচ দিন ব্যাপী এই সিম্পেজিয়াম প্রথম দিন প্রোগ্রাম শুরু হয় বিকেল তিনটায় এবং শেষ হয় সন্ধ্যা সাতটায়।বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রায় একশত ডেলিগেট এতে অংশগ্রহণ করেন।বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জাতিক সম্পদায়ের পারস্পরিক সম্পর্ক মানবাধিকার ও বহুমাত্রিক উন্নয়নের উপর জাতিসংঘ ও আমেরিকার নতুন নেতৃত্বের প্রভাব শীর্ষক এ কনফারেন্সে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ইউকে বিএনপির সভাপতি জনাব এম এ মালেক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শোয়াইব আহমদ, ড.শাহেদা উবায়দ, ইয়র্ক বাংলা সম্পাদক মাওলানা রশীদ আহমদ, ব্যারিস্টার শামস আল গাজ্জালী ও এম.সাইফুর এ তাহের। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের ও বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সরকারী আমলা, মানবাধিকার এবং মিডিয়া কর্মী সহ মোট ১০জন বাংলাদেশী এতে অংশগ্রহণ করেন। আগামী ১৪ই জানুয়ারী পর্যন্ত জাতিসংঘ ছাড়াও ওয়াশিংটন ডিসিতে এই কনফারেন্স যথারীতি চলবে। ইউকে থেকে আগত প্রতিনিধি জনাব এম এ মালেক তাঁর প্রশ্ন পর্ব আলোচনায় বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের নামে একনায়ক তন্ত্র শাসন চলছে,সেব দেশে মানবতা বিরোধী কর্মকান্ড চলছে এসব দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাড়াতে বিশ্বসম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। এম এ মালেক আরো বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই , এক দলীয় শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিশ্বের সকল গণতন্ত্রকামীদের দাড়ানো উচিত। বিরুধী দলের নেতা কর্মীদের ওপর অমানবিক অত্যাচার নির্যাতন বন্ধে সকল প্রবাসীদের জনমত গঠনে কাজ করতে হবে।তিনি আরো বলেন, যে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে,সেসব দেশে জাতিসংঘের মাধ্যমে মানবাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। বিশেষ করে বাংলাদেশ, মায়ানমার,সিরিয়া,কাশ্মীর সহ অনেক দেশ বাক স্বাধীনতা থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা পরাধীনতার শিখলে বন্দি জীবন যাপন করছে।সেক্ষেত্রে বিশ্ব মানবাধিকার নেতৃবৃন্দ কে আরো সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান। ইউকের অপর প্রতিনিধি জমিয়ত নেতা মাওলানা শোয়াইব আহমদ তাঁর নির্ধারিত সময়ের আলোচনায় বলেন, মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংঘঠন গুলো নিরব র্দশকের ভুমিকা পালন করছে। তাই আমাদের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত হলো মিয়ানমারকে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা। একই সাথে অসহায় রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধান ও সহায়তা প্রদান করা।তিনি অধিকার বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসার উদাত্ব আহবান জানান।মাওলানা শোয়াইব ইসলামী কৃষ্টি কালচার তথা তাহজীব ও তামাদ্দুন বিষয়ক আলোচনার প্রশ্ন উত্তর পর্বে হিজাব এবং পর্দা নিয়ে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন। উল্লেখ্য যে জাতিসংঘের ইনষ্টিটিউট ফর কালচারাল ডিপ্লোম্যাসি বিভাগের বার্ষিক আন্তর্জাতিক এ কনফারেন্সে জাতিসংঘের নিউইয়র্কে অবস্হিত সদর দপ্তরে সম্মেলন ১০ই জানুয়ারী থেকে ১৪ই জানুয়ারি পর্যন্ত কনফারেন্স অনুষ্টিত হচ্ছে।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ