জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং আমাদের স্থায়ী মিশন
ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন : মায়ের ভাষাকে মর্যাদা দিতে রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছে বাংলার দামাল ছেলেরা। রফিক, শফিক, জব্বার, বরকত, সালাম এবং আরো নাম নাজানা কত নাম। বায়ান্নোর সেই পথ বেয়ে মাতৃভাষাকে সম্মাননা জানানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে দেশ পেরিয়ে আজ বৈশ্বিক পরিমন্ডলে। ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘শহীদ দিবস’ ও ‘মাতৃভাষা দিবস’ পালন করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় UNESCO এই দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অর্থাৎ সারা পৃথিবীতে যতগুলি জাতি আছে তাদের সকলের মাতৃভাষার প্রতি সম্মান জানাতে এই দিনটিকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এই দিনে বাংলাদেশের (তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের) মানুষেরা তাদের মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য বুকের রক্ত ঢেলে দিতে দ্বিধা করেনি। পৃথিবীর ইতিহাসে এ নজির আর একটিও নেই। আর এটাতো এখন সবারই জানা যে, ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে UNESCO’র এই ঘোষণা প্রদানের পিছনে মূল উদ্যোগ ছিল কয়েকজন প্রবাসী বাঙালী এবং শেখ হাসিনা সরকারের।
হ্যাঁ আপনি ঠিকই ভাবছেন এগুলো পুরনো কথা। এসবের সাথে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কী সম্পর্ক? সম্পর্কের শুরু এখান থেকেই।
বিগত ২০১০ সালে স্থায়ী মিশনের প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের ‘Special Political and Decolonisation Committee’ অর্থাৎ চতুর্থ কমিটির অধীন ‘Committee on Information’ (COI) এ ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে প্রচারণা চালানোর অনুচ্ছেদসহ একটি রেজ্যুলুশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত এ অনুচ্ছেদটি গৃহীত হওয়ার ফলে এখন থেকে দিবসটি সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে বিশ্ববাসীকে সচেতন করার দায়িত্ব বর্তালো জাতিসংঘের তথ্য বিভাগের ওপর। ২৬ শে এপ্রিল থেকে ৭ মে ২০১০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত COIএর সভায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে “G77 and China” অর্থাৎ ১৩১ দেশের পক্ষ থেকে এ অনুচ্ছেদটি মূল রেজ্যুলুশনে (A/65/425) যোগ হয়েছে যা ২১ অক্টোবর চতুর্থ কমিটির “Questions Relating to Information” শীর্ষক ৫৪ নম্বর এজেন্ডার অধীনে গৃহীত হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় ২০১২ সাল থেকে জাতিসংঘ তাদের প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলা রেডি’র কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ২০১৩ সাল থেকে ওয়েব পেইজে একুশে সিম্বল ও বাংলায় ইউএনডিপি রিপোর্ট প্রকাশ করছে। বাঙালী ও বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল একটি দিবস হিসেবে ২১শে ফেব্রুয়ারি অর্ধশত বছরের বেশি সময় ধরে উদযাপিত হচ্ছে।
এ রেজ্যুলুশন প্রদত্ত দিক নির্দেশনা অনুযায়ী জাতিসংঘের তথ্য বিভাগ (Department of Public Information) তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক আগ্রহে, ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানকারী UNESCO রেজ্যুলুশনের প্রস্তাবের পর বাংলাদেশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ১১৩ সদস্য বিশিষ্ট ঈঙও এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ জেনারেল ডিবেট এবং বহুপাক্ষিক আলোচনার (নেগোসিয়েশন) প্রতিটি পর্যায়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিষয়টিকে রেজ্যুলুশনভুক্ত করতে পেরেছে।
এর আগে ১৯৯৯ সালে UNESCO রেজ্যুলুশনটিকে স্বাগত জানিয়ে ২০০৭ সালের ৮ই জুন জাতিসংঘের ৬১তম সাধারণ অধিবেশনে, একটি রেজ্যুলুশন (A/RES/61/266) এবং ২০০৯ সালের ২৬ শে ফেব্রুয়ারি ৬৩তম সাধারণ অধিবেশনে আরেকটি রেজ্যুলুশন (A/RES/63/113) গৃহীত হয়।
এ অর্জনের ওপর ভিত্তি করে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এর ইস্যুটিকে বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে আরো কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারবে।
দ্বিতীয়তঃ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রচেষ্টায় বিগত ২০১০ সালে জাতিসংঘের ওয়েব সাইটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস লগো হিসাবে “শহীদ মিনারের” ছবি সংযুক্ত হয়। ইতিপূর্বে প্রত্যেক বছর UNESCO নতুন নতুন লগো ব্যবহার করে আসছিল।
তৃতীয়তঃ জাতিসংঘের মূল চত্বরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সম্মানে একটি শহীদ মিনার স্থাপনের প্রচেষ্টা এগিয়ে চলেছে।
চতুর্থতঃ বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের অন্যতম একটি দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে গৃহীত হওয়ার জন্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জাতিসংঘের সব কটি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে আবেদন জানিয়েছেন।
উলে¬খ্য যে, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ বাংলাকে আন্তর্জাতিক ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি প্রস্তাবও পাশ করে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি পর পর পাঁচবার জাতিসংঘের বাৎসরিক অধিবেশনে (২০০৯,২০১০,২০১১,২০১২ এবং ২০১৩) বাংলায় ভাষণ দিয়ে দেশবাসীর ভাষাকে বিশ্ব সভায় সম্মান দেখিয়েছেন। বাংলা ভাষাকে বিশ্বের অন্যতম ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে বিশ্ববাসীর কাছে এ ভাষা জানার আগ্রহ অধিকতর তখনি হবে যখন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। সেজন্যে প্রয়োজন দলমত নির্বিশেষে যে যার অবস্থান থেকে সকল বাংলাদেশী জনগণের এ ব্যাপারে ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসা ও সহযোগীতা করা।
- নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন
- হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি