Friday, 25 September 2026 |
শিরোনাম
জাতিসংঘে বাংলায় তারেক রহমানের ভাষণ: বিশ্বশান্তি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক New York Attorney General James Stops Trump Administration’s Attempt to Gut Social Services জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা ফিলাডেলফিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ফিলিস টেলরকে স্মরণ: বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ১৯৭১-এর ‘ব্লকেড’ আন্দোলনে সাহসী ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা নিউইয়র্কে নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে হার রাইজ এবং উই এর যৌথ আয়োজনে দু’দিনের মেলা ও সেমিনার নিউইয়র্কে জেএফকে বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সমাবেশ নিউইয়র্কে জেএফকে বিমানবন্দরে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ সমাবেশ জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা Global financial architecture must create conditions for sustainable development — Dr. Titumir
সব ক্যাটাগরি

জাতিসংঘে বাংলায় তারেক রহমানের ভাষণ: বিশ্বশান্তি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 47 বার

প্রকাশিত: September 25, 2026 | 1:39 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে তিনি এ ভাষণ দেন।

ভাষণের শুরুতেই বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদেরও স্মরণ করেন তিনি। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথাও স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, একই মঞ্চে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের জনগণের স্বার্থ এবং শান্তিপূর্ণ বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি জাতিসংঘে বক্তব্য দিচ্ছেন।

বিশ্বের চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধ ও সংঘাতের সমাধান হতে হবে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত সমতা, ন্যায়, পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও মর্যাদা। সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির পরিবর্তে উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে সম্পদ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি সমর্থন জানান।

রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের জন্য বড় চাপ হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে আসছে। তাঁর মতে, সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং সমাধানও সেখানেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান উল্লেখ করে তিনি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চান।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে তুলনামূলকভাবে কম অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গে তারেক রহমান সরকারের ‘৩-আর’ কৌশল—Recovery, Restoration ও Reconstruction তুলে ধরেন। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সুফল যেন উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকেও সমানভাবে পাওয়া যায়, সে জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি-প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং প্রতিটি শিশু তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট: বাংলাদেশ ফর অল’—এই প্রত্যয় তুলে ধরে জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে ভাষণ শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি- প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
সর্বশেষ সংবাদ