Friday, 23 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সংখ্যক সেনা প্রেরণকারী দেশ, বছরে আয় আড়াই হাজার কোটি টাকা–ড.এ.কে. আব্দুল মোমেন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 113 বার

প্রকাশিত: April 26, 2012 | 7:42 PM

 USA NEWS : জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সংখ্যক সেনাসদস্য অংশগ্রহণকারী দেশ। বিশ্বে ৬৫টি মিশনে মোট প্রায় এক লাখ শান্তিরক্ষীর মধ্যে বাংলাদেশের সৈন্যসংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। ৪৫টি মিশনে অংশগ্রহণকারী প্রতি ১০ জনে বাংলাদেশের একজন সৈনিক সক্রিয়। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের আয় গত তিন বছরে ৯শ’ ১৭ মিলিয়ন ডলার বা ৭ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পর সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ সেকেন্ড কমিটি (অর্থনীতি বিষয়ক) ও বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য গঠিত পিস্ বিল্ডিং কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ। অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে সিকি শতক পরিমাণ বেশি কমিটি ও সংস্থার সক্রিয় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ। এই মুহুর্তে বাংলাদেশ ৬৫টি কমিটির কো-চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্যপদে সক্রিয় রয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন, তথ্য-প্রযুক্তির অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক কর্মকান্ডে সরকারের বিপুল সাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর ‘রোল মডেল’ হিসাবে কাজ করছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের সম্মানে মিশন আয়োজিত এক নৈশভোজের প্রারম্ভিক বক্তব্যে এসব কথা বলেন। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় মিশন মিলনায়তনে মিশনের প্রেস উইং এই নৈশভোজের আয়োজন করে।ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজের প্রারম্ভিক আনুষ্ঠানিকতায় শেখ হাসিনা সরকারের বর্তমান শাসনকালে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকান্ডে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের কর্মতৎপরতার বিস্তারিত তথ্যচিত্র তুলে ধরেন। এতে সাংবাদিকদের কাছে দেশ, সরকার ও জনমানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন মিশনের মিনিস্টার (কালচারাল) অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ। স্বাগত বক্তৃতা করেন মিশনের উপস্থায়ী প্রতিনিধি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মামুন-অর-রশিদ। নিউইয়র্কে কর্মরত বিভিন্ন বাংলাপত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকবৃন্দ ও মিশনের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা এতে উপস্থিত ছিলেন।

মিশনের কর্মতৎপরতা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় বিশেষভাবে স্থান পায়- জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের বিশেষ তৎপরতায় জাতিসংঘ মহাসচিব বান-কি-মুন সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। বাংলাদেশের বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের কর্মকান্ড যথাযথভাবে উপস্থাপনের কারণেই বাংলাদেশ গত দু’বছর পর-পর দু’টি এওয়ার্ড-এমডিজি এওয়ার্ড ও সাউথ-সাউথ পুরস্কার লাভ করে। মিশনের বিশেষ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের বিচক্ষন নেতৃত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচীতে সভাপতিত্বসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশী সৈনিকদের কিভাবে প্রস্তুত করা হয় সে বিষয়ের উপর খুব শীঘ্রই জাতিসংঘ সদর দপ্তর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারী তৈরি করতে একটি বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে যাচ্ছে।

মূল বক্তব্যে ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন আরো বলেন, ২০০১-২০০৪ পর্যন্ত ৪ বছরে ১৮ হাজার ৯শ’ ৭৭ জন সেনাসদস্য শান্তি মিশনে অংশ নেয়। ২০০৯ থেকে ২০১২ এই সাড়ে তিন বছরে ৪২ হাজার ২শ ৪৯ জন শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেয় যা পূর্ববর্তী চার বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়াও উল্লেখ্য, এই সময়েই সর্বপ্রথম বাংলাদেশী নারী সৈনিক ও পুলিশ শান্তি মিশনে অংশ নেয়। এদের সংখ্যা ৫শ’র কম নয়। ২০০১-২০০৪ বছরে মাত্র ৪শ’ ৯১ জন পুলিশ সদস্য শান্তিরক্ষা মিশনে ছিল। বর্তমানে তা ১৫ গুণ বেড়ে ৭ হাজার ৪শ’ জনে উন্নীত হয়েছে। মান্যবর রাষ্ট্রদূত মনে করেন আরো অধিকতর নারী সেনা ও পুলিশ সদস্য সরকার প্রেরণ করলে শান্তিরক্ষা মিশনে ঢুকাতে পারবেন। প্রসঙ্গত তিনি বলেন, নানারকম প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে বাংলাদেশ এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্ব দরবারে রোল মডেল হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে জিডিপি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। নারী উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, বেকারত্ব নিরসন, সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনীর প্রসারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি নিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ সাংবাদিকদের কাছে প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে বিবেকতাড়িত কন্ঠে বলেন, একজন সাংবাদিক তার কলম রক্তে ডোবাবেন, নাকি কালিতে, নাকি পানিতে ডোবাবেন, সে দায়ভার একান্তই তার নিজের। সাংবাদিক হিসাবে সকলের কলম বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের কথা নিঃশঙ্ক চিত্তে বলুক, পথ দেখাক, জাগরণ তৈরী করুক সেটাই আমাদের কামনা। সংবাদপত্রে লেখা একটি শব্দ যে কারো সাজানো জীবন তছনছ করে দিতে পারে, আবার একটি শব্দই একজন মানুষকে নতুন করে বেঁচে থাকতে উজ্জীবিত করতে পারে, পথ দেখাতে পারে। তাই বলব সাংবাদিকদের কলম আমাদের অর্জনের কথা বলুক। সমালোচনাও করুক, তবে তা যেন হয় বস্তুনিষ্ঠ। বস্তুনিষ্ঠতা মানুষের কাছে একজন সাংবাদিকের গ্রহণযোগ্যতাই বাড়িয়ে তুলবে। সামগ্রিকভাবে গড়ে তুলবে রুচিবোধ সমৃদ্ধ ও দায়িত্বশীল সমাজ-রাষ্ট্র।

 

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ