টাইম টেলিভিশন বৈশাখী মেলা : মূলধারা-বাংলাদেশী কমিউনিটির সেতু বন্ধন রচনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত
নিউইয়র্ক : এক অভুতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল ব্রুকলীনের চার্চ এভিন্যুতে। হাজারো নারী-পুরুষ, আবাল বৃদ্ধ বনিতার সমাবেশ ঘঠেছিল সেখানে। হাজার কন্ঠে তারা গেয়েছেন বাংলাদেশের গান। প্রতিকুল আবহাওয়া আর কনকনে বাতাস আবেগ থামাতে পারেনি তাদের। তাই মেলার আগ পর্যন্ত হাজার হাজার নারী পুরুষের উপচে পড়া ভীড়ে ব্রুকলীনে সৃষ্টি হয়েছিল এক ভিন্ন পরিবেশের। মূলধারার রাজনীতিকরাও এমন পরিবেশ দেখে ছিলেন বিমুগ্ধ ও বিস্মিত। মানুষের ঢল দেখে উল্লাস প্রকাশ করে তারা বলেছেন, ব্রুকলীন এখন বাংলাদেশীদের। তাদের কন্ঠে ছিল বাংলাদেশীদের ভুয়শী প্রশংসা। বললেন, বাংলাদেশীদের উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। আজকের এই মেলা প্রমাণ করেছে তারা শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ। এজন্য মেলা আয়োজনের জন্য অতিথিরা বাংলাদেশী-আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি (বাফস) ও প্রবাসের জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া টাইম টেলিভিশনকে অভিনন্দন জানান। অনেকেরই অভিমত, টাইম টেলিভিশন ও বাংলাদেশী-আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি বাংলাদেশী কমিউনিটিকে আরো একধাপ এগিয়ে নিলো।
ব্রুকলীনের সুবিশাল চার্চ এভিনিউতে দিনব্যাপী এই মেলার কর্মকান্ড চলে ৭ মে রোববার। দিনের শুরুতে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই মেলার কর্মকান্ড শুরু হলেও বেলা বৃদ্ধির সাথে সাথে মেঘ কাটতে শুরু করে। বিকেলে জমে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ। নাচে-গানে ভরে উঠে মেলায় উপস্থিত হাজারো দর্শকের মনপ্রাণ। সবমিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে পুরো চার্চ-ম্যাগডোনাল্ড এভিনিউতে।
বেলা আড়াইটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার কর্মকান্ড শুরু হয়। রাজপথে মূলধারা, ৬৬ প্রিসিক্ট-এর কমান্ডার ও কর্মকতা, মেলা আয়োজক কমিটির কর্মকর্তা আর কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে রংবেরং-এর এক গুচ্ছ বেলুর উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ৬৬ প্রিসিক্ট-এর কমান্ডার ডেভিড ওয়ান্স। এরপর অতিথিবৃন্দ মূল মঞ্চে গিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনা বিশেষ করে গান আর নাচের ফাঁকে ফাঁকে মূল মঞ্চে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ৬৬ প্রিসিক্ট-এর কমান্ডার ডেভিড ওয়ান্স সহ অতিথিবৃন্দ। এর আগে অতিথিদের স্বাগত জানান এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন মূল আয়োজক সংগঠন বাফস’র সভাপতি কাজী আজম। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টিভি’র সিইও আবু তাহের, ডেমোক্রেটিক পার্টির কুইন্স ডিষ্ট্রিক্ট লিডার এ্যাট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী, এটর্নী পেরী ডি সিলভার, জনপ্রিয় অভিনেতা আহমদ শরীফ, মেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, চট্টগ্রাম সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি আব্দুল হাই, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুরুল আমীন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট শামসুল আলম চৌধুরী, মনির আহমেদ, ইকবাল হায়দার, সিটির আগামী নির্বাচনে কাউন্সিলম্যান প্রার্থী বাংলাদেশী-আমেরিকান হেলাল শেখ প্রমুখ। এসময় টাইম টেলিভিশন-এর পরিচালক (মার্কেটিং ও কমিউনিটি আউটরীচ) সৈয়দ ইলিয়াস খসরু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মেলার অনুষ্ঠানমালা উপস্থাপনায় ছিলেন আশরাফুল হাসান বুলবুল। তাকে সহযোগিতা করেন এস এম ফেরদৌস, সাহাব উদ্দিন চৌধুরী লিটন, ইকবাল হায়দার ও শামীম সিদ্দিকী।
মেলার উদ্বোধনী পর্বে নেতৃবৃন্দ বলেন, মূলধারার সাথে কমিউনিটির সেতু বন্ধনই মেলার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। মূলধারার নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশীরা সৎ ও কর্মঠ। তারা তাদের মেধা, যোগ্যতা আর কর্ম দক্ষতা দিয়ে আমেরিকান কমিউনিটিতে নিজেদের স্থান সুসংহত করে চলেছে। বক্তারা বলেন, ব্রুকলীন বাংলাদেশীদের কমিউনিটিতে পরিণত হয়েছে।
মেলায় আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬৬ প্রিসিক্ট-এর কমান্ডারসহ শীর্ষ চার কর্মকর্তাকে প্ল্যাক প্রদান করা হয়। এছাড়া নিউইয়র্ক সিটির পাকলিক এডভোকেট লেতিতা জেমস-এর পক্ষ থেকে প্রক্লেশোন গ্রহণ করেন টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহের। এছাড়া সামসুল এ চৌধুরীর লেখা ‘দ্যা ড্রিম অব মাই লাইফ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন পিপল এন্ড টেক-এর প্রেসিডেন্ড ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ ও চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই জিয়া।
টাইম টেলিভিশন বৈশাখী মেলা উপলক্ষে রোববার সকাল থেকেই দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে দর্শক শ্রোতার সংখ্যাও বাড়তে থাকে। রং বে রং এর পোশষাক পড়ে শিশু-কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ পর্যন্ত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীরা মেলায় যোগ দিয়ে উৎসবে পরিণত করেন। মেলা উপলক্ষে শতাধিক স্টল বলে। এতে হরেক রকমের খাবর ছাড়াও ছিলো শাড়ী-কাপড়, গহনার স্টল। তবে বুট-ঝাল-মুড়ির স্টলে ব্যাপক ভীর লক্ষ্য করা যায়। আরো ছিলো স্বাস্থ্য বিষয়ক একাধিক প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের স্টল। ছিলো শিশু-কিশোর-কিশোরীদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন রাইড।
মেলার মুল অনুষ্ঠান সাংস্কৃতিক পর্বে দেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করবেন। উল্লেখযোগ্য শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন শিলা আজীজ, চন্দন চৌধুরী, মিরা সিনহা, শামীম সিদ্দিকী, চন্দ্রা রায়, জিল্লুর রহমান, মেহেরুন, সেলিম ইব্রাহীম, রুবিনা শিল্পী, মিলেন্দু, প্রিয়া কুমার, প্রিন্স হাবিব প্রমুখ।
‘টাইম টেলিভিশন বৈশাখী পথমেলা’র মেলার সর্বশেষ আকর্ষন ছিলো র্যাফল ড্র। মেলা উপলক্ষ্যে ‘সেতু’ শীর্ষক একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। এটি সম্পাদনা করেন এস এম ফেরদৌস।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশী-আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি (বাফস) ও ৬৬ প্রিসিঙ্কট কমিউনিটি কাউন্সিলের আয়োজনে গতবছর প্রথম বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের মেলা ছিলো তৃতীয় বৈশাখী মেলা। মেলার মূল পর্ব টাইম টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে।
মেলার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন অ্যাফোর্ডেবল সিনিয়র কেয়ার অব নিউইয়র্ক এলএলসি, উৎসব.কম, ডা. সিএম হাসান, কর্নফুলী ট্রাভেলস, পিপল এন্ড টেক, মার্ক হোম কেয়ার-এর মাহফুজুল হক, এটর্নী মঈন চৌধুরী, এটর্নী শেখ সেলিম, ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ড-৯ এর ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এন মজুমদার, উই দ্যা পিলল, লিগ্যাল নেটওয়ার্ক ইন্টারন্যাশনাল এলএলসি, পিপল এন্ড টেক, সাসকো, নিউইয়র্ক ইন্স্যুরেন্স, নাজ ফার্মেসী, এটর্নী পেরী ডি সিলভার, মেগা রিয়েল এস্টেট-এর মইনুল ইসলাম, ডা. তামিরা ভ্যানয়, ল অফিস অব এইচ ব্রুশ ফিশার, রয়াল কমিউনিটি কেয়ার, আলিসা হোম কেয়ার, ল অফিস অব অওরানী এন্ড টাব, আইল্যান্ড শীট মেটাল, ল অফিস অব রবার্ট এ হায়ামাস, সাসকো টুলস ও এনামুল হক সবুর।
‘টাইম টেলিভিশন বৈশাখী পথমেলা’র আয়োজনের নেপথ্যে দায়িত্ব পালন করছেন যথাক্রমে কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, মনির আহমদ, নূরুল আমীন, হারুনুর রশীদ, আবু তালেব, রফিকুল মওলা, ফিরোজ আহমেদ, ভিপি বাবুল, মিনহাজ উদ্দিন বাবর, নাজমুল আলম, নাজমুল আলম, নজরুল ইসলাম, আরিফ চৌধুরী, খোকন চৌধুরী, আরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ লতিফ, আশ্রাব আলী খান লিটন, নূর মোহাম্মদ, আবুল কাশেম, জগরুল হায়াত খান, নাজমুল আলম, মোহাম্মদ স্বপন খান, আহসানউল্লাহ বাচ্চু, মোহাম্মদ হোসেন কচি, নূরে আলম, আহসান উল্লাহ মামুন, মাসুদ আলম, ইকবাল হোসেন, ইসমাইল হোসেন, ছালেহ আহমদ রুবেল, শাহাদৎ হোসেন রাজু, শাহীন সিদ্দিকী, মোহাম্মদ মহি উদ্দিন, আব্দুল মোমেন সোহেল।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ