টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে ২০১০ সালের অবহেলিত ১০ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
ইউএসএনিউজ ডেস্ক: ২০১০ সালে সমগ্র পৃথিবীতে কত ঘটনাই বা ঘটেছে। এ সব ঘটনার সবগুলো হয়তো পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি। আবার কিছু কিছু ঘটনা প্রকাশিত হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্ব দেয়া হয়নি। টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে এমন উল্লেখযোগ্য ১০টি ঘটনার এখানে তুলে ধরা হলো। ভাষান্তর করেছেন রেফায়েত হোসাইন।
ইরাক যুদ্ধের প্রাপ্তি
ইরাককে ভেঙে-চুরে সেখানে প্রভাব বিস্তারের নীতিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে সাবধান করে দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল। প্রেসিডেন্ট বুশ পাওয়েলের সেই সতর্কবাণীতে কান দেননি। ইরাককে তিনি চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছেন ঠিকই কিন্তু ওয়াশিংটন সেখানে কর্তৃত্ব স্থাপন করতে পারেনি। অথচ ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে এরই মধ্যে তিন লাখ কোটি ডলার খরচ করতে হয়েছে। ইরাক হয়ে উঠেছে আরও অশান্ত। সেখানে এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে প্রতিবেশী ইরানই ভাল অবস্থানে রয়েছে। ২০১১ সালের শেষ নাগাদ ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও এর ভবিষ্যৎ এখনও স্পষ্ট নয়। ইরাক যুদ্ধের ওপর মার্কিন মিডিয়ার আগ্রহও অনেক কমে এসেছে। এর কোন সন্তোষজনক সমাপ্তি না ঘটায় জনগণও আর এখন এতে আগ্রহী নয়।
বিদ্রোহীদের দখলে সোমালিয়া
ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত সোমালিয়ার ত্রাণকর্তা হিসেবে কট্টরপন্থি মুসলমানরা সেখানকার ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে। সোমালিয়াকে অনেকে ১৯৯০ এর দশকের আফগানিস্তানের সঙ্গে তুলনা করেন। ১৯৯১ সালে সাবেক স্বৈরশাসক মোহামেদ সাইদ বারের পতনের পর থেকেই সেখানে বিশৃঙ্খলা লেগে আছে। জলদস্যুর কারণে পশ্চিমা গণমাধ্যমের কাছে দেশটির বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। ইসলামিক কোর্টস ইউনিয়ন (আইসিইউ) ২০০৬ সালে যুগোপযোগী শরীয়াহ্ আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে সেখানকার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছিল এবং এরপর সেখাসে জলদস্যুদের তৎপরতাও কমে এসেছিল। কিন্তু সেখানে তালিকাভুক্ত গুটি কয়েক আল-কায়েদা সদস্যকে আশ্রয় দেয়ায় অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র ইথিওপিয়ার মাধ্যমে আইসিইউ সরকারকে উৎখাত করে। এরপর সেখানে আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন হিসেবে জন্ম নেয় তরুণ বিদ্রোহীদের সংগঠন আল-সাহাব। ইথিওপিয়ান অভিযান তেমন সুবিধা করতে পারেনি। এখন সোমালিয়ার বেশির ভাগ এলাকাই আল-সাহাবের দখলে। সন্ত্রাসবাদের প্রেক্ষিতে এখন সোমালিয়া বেশ বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতের কেলেঙ্কারি
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সেবা সিস্টেমে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক চলার মাঝেই কিছু সুযোগ সন্ধানী এর মধ্য দিয়ে নিজেদের আখের গোছানোর চেষ্টা চালিয়েছিল। নভেম্বর মাসে বিচার বিভাগ ঘোষণা করেছে যে, গত বছরে তারা ২.৫ বিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির তথ্য পেয়েছে। ডেট্রয়েট, মায়ামি এবং লস অ্যানজেলেসের ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে চিকিৎসা খাতের দুর্নীতির প্রতিপক্ষ হিসেবে স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানিগুলো দাঁড়িয়ে গেছে। এর প্রেক্ষিতে ওবামা প্রশাসন এফবিআই এবং অন্য দু’টি বিভাগের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট টাস্কফোর্স গঠন করেন। এদের তদন্তে বেরিয়ে আসে ছয় জনের একটি চক্র ১৯ জন ডাক্তার তথ্য ব্যবহার করে ৭০ লাখ ডলার জালিয়াতি করেছেন।
ইরানে ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বেশ দাপটের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ শিরোনাম দখল করে রেখেছিলেন। তবে দেশের ভেতরে ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্বের সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি। সংস্কারপন্থি এবং কট্টরপন্থিদের পক্ষ থেকেই তিনি এ বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। ২০০৯ সাালে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার পর রাজপথের বিক্ষোভকেও তিনি বেশ দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছেন। এ বছর তিনি প্রশাসনের প্রত্যেক শাখা থেকেই নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। বিশেষ করে পার্লামেন্টে নভেম্বরে তাকে অভিশংসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। নিজের নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিবাদেই পার্লামেন্টের সদস্যরা এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর হস্তক্ষেপে পার্লামেন্ট সদস্যরা এ যাত্রা অভিশংসনের হাত থেকে আহমেদিনেজাদকে রেহাই দিলেও আসন্ন বছরগুলোতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পার্লামেন্ট সদস্যদের খুব একটা ভাল সময় যাবে না যে- এর মাধ্যমে সেটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
চিকিৎসা গবেষণায় স্বচ্ছতা
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভাড মেডিকেল স্কুল জুলাইতে একটি নতুন নীতি ঘোষণা করে বলেছে, এখন থেকে এর বিভাগের অর্থনৈতিক আগ্রহের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে হবে। এ নীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্য হচ্ছে- চিকিৎসা গবেষণায় লাভের অংশ সংগ্রহে সহযোগিতা করা। হার্ভাডের এ সিদ্ধান্তে স্বাগত জানিয়েছে আমেরিকার মেডিকেল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন (এএমএসএ)।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর প্রাকৃতিক গ্যাস
বিদেশের তেলের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মোহ ছাড়ার আহ্বান জানানো সেখানকার রাজনীতির অন্যতম একটি প্রধান মন্ত্রে পরিণত হয়েছে। আধুনিক খনন প্রযুক্তি কোমল শিলার ভেতর থেকে তেল বের করার বিশেষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। ওহাইও, পেনসিলভেনিয়া, মিশিগান এবং পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে তেলের জন্য খনন উপযোগী জায়গা রয়েছে। এছাড়া ৩০টির বেশি রাজ্যে কূপ খননের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, সৌদি আরবের সংরক্ষিত তেলের চেয়েও দ্বিগুণ পরিমাণ তেল সম্পদ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মাটির তলায়।
অভিবাসন বিরোধী সংগঠনের উত্থান
মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার বলে স্বীকৃত ইউরোপে অভিবাসন বিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের উত্থান লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরে সুইডেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তেমন কোন অসুবিধা ছাড়াই অভিবাসন বিরোধী সুইডেন ডেমোক্রেটরা পার্লামেন্টের ২০টি আসন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মাধ্যমে দলটি মোট আসনের মাত্র ৬ শতাংশ পেলেও ক্ষমতা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে তাদের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। একই ধরনের রাজনৈতিক দলের অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং ডেনমার্কে। দেশগুলোতে এখন জোট সরকারের কারণে কট্টরপন্থি দলগুলোর কদরও অনেক বেড়ে গেছে। আর তাই তারাও অভিবাসন বিরোধী নানা আইনসহ তৎপরতার পক্ষে কাজ করছেন।
সুদানে আবারও যুদ্ধ
সুদানে সরকারি বাহিনী এবং জঙ্গিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেয়া হলেও দারফুরে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। গত দুই বছরের মধ্যে মে মাসে সেখানে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষের ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। ওই সংঘর্ষে মোট ৪০০ জন নিহত হয়েছে। সেখানকার নানা সমস্যাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তাই জানুয়ারি নাগাদ আবারও সেখানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানুয়ারিতে দক্ষিণ সুদানে খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকাতে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৫৬ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে দক্ষিণ সুদানের স্বায়ত্ত শাসনের দাবি তোলা হচ্ছে। কিন্তু ওই এলাকাতে সুদানের ৮০ ভাগ খনিজ তেলের মজুত থাকায় খার্তুম তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
ওয়াল স্ট্রিটে পিছুটান নয়
শেয়ার বাজারে সাময়িক দুরবস্থা দেখা দিলেও মার্কিন শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিটের বড় বড় রথী-মহারথী বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কেউই সেখান থেকে পিছু হটে যাননি। অনেকে কেবল নিজেদের অবস্থান বদল করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে দেখা গেছে বিখ্যাত বীমা কোম্পানি এআইজি টম্স রুশোকে তাদের জেনারেল কাউন্সেল হিসেবে নিয়োগ করেছে। রুশো এর আগে লেহমান ব্রাদার্সে দীর্ঘ ১৫ বছর প্রধান লিগাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। ওই কোম্পানিতে তার দায়িত্ব পালনকালে তিনি ২০০৮ সালের বিপর্যয় ঠেকাতে পারেননি। রুশোর এ নিয়োগ আগের বছরগুলোর ধারাকেই পুনরাবৃত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এর আগের বছর যুক্তরাষ্ট্রে গোল্ড সাচেস এর বিক্রয় ও বাণিজ্য বিভাগের প্রধান টম মন্টাগকে ব্যাঙ্ক অব আমেরিকার গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। লেহমান ব্রাদার্সের সাবেক প্রধান নির্বাহী ডিক ফুল্ড গত বছর বুটিক বিনিয়োগ সংস্থা ম্যাট্রিক্স এডভাইজার্সে যোগ দিয়েছেন। গত মে মাসে তিনি বিনিয়োগ সংস্থা লেজেন্ড সিকিউরিজেও একজন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এখন তিনি সরকারি এযারলাইন্সের বদলে বিলাসবহুল বেসরকারি এয়ার লাইন্সে যাতায়াত করেছেন বলে বিভিন্ন মহলে সুবিদিত রয়েছে। মানবজমিন
ইরাককে ভেঙে-চুরে সেখানে প্রভাব বিস্তারের নীতিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে সাবধান করে দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল। প্রেসিডেন্ট বুশ পাওয়েলের সেই সতর্কবাণীতে কান দেননি। ইরাককে তিনি চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছেন ঠিকই কিন্তু ওয়াশিংটন সেখানে কর্তৃত্ব স্থাপন করতে পারেনি। অথচ ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে এরই মধ্যে তিন লাখ কোটি ডলার খরচ করতে হয়েছে। ইরাক হয়ে উঠেছে আরও অশান্ত। সেখানে এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে প্রতিবেশী ইরানই ভাল অবস্থানে রয়েছে। ২০১১ সালের শেষ নাগাদ ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও এর ভবিষ্যৎ এখনও স্পষ্ট নয়। ইরাক যুদ্ধের ওপর মার্কিন মিডিয়ার আগ্রহও অনেক কমে এসেছে। এর কোন সন্তোষজনক সমাপ্তি না ঘটায় জনগণও আর এখন এতে আগ্রহী নয়।
বিদ্রোহীদের দখলে সোমালিয়া
ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত সোমালিয়ার ত্রাণকর্তা হিসেবে কট্টরপন্থি মুসলমানরা সেখানকার ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে। সোমালিয়াকে অনেকে ১৯৯০ এর দশকের আফগানিস্তানের সঙ্গে তুলনা করেন। ১৯৯১ সালে সাবেক স্বৈরশাসক মোহামেদ সাইদ বারের পতনের পর থেকেই সেখানে বিশৃঙ্খলা লেগে আছে। জলদস্যুর কারণে পশ্চিমা গণমাধ্যমের কাছে দেশটির বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। ইসলামিক কোর্টস ইউনিয়ন (আইসিইউ) ২০০৬ সালে যুগোপযোগী শরীয়াহ্ আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে সেখানকার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছিল এবং এরপর সেখাসে জলদস্যুদের তৎপরতাও কমে এসেছিল। কিন্তু সেখানে তালিকাভুক্ত গুটি কয়েক আল-কায়েদা সদস্যকে আশ্রয় দেয়ায় অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র ইথিওপিয়ার মাধ্যমে আইসিইউ সরকারকে উৎখাত করে। এরপর সেখানে আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন হিসেবে জন্ম নেয় তরুণ বিদ্রোহীদের সংগঠন আল-সাহাব। ইথিওপিয়ান অভিযান তেমন সুবিধা করতে পারেনি। এখন সোমালিয়ার বেশির ভাগ এলাকাই আল-সাহাবের দখলে। সন্ত্রাসবাদের প্রেক্ষিতে এখন সোমালিয়া বেশ বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতের কেলেঙ্কারি
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সেবা সিস্টেমে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক চলার মাঝেই কিছু সুযোগ সন্ধানী এর মধ্য দিয়ে নিজেদের আখের গোছানোর চেষ্টা চালিয়েছিল। নভেম্বর মাসে বিচার বিভাগ ঘোষণা করেছে যে, গত বছরে তারা ২.৫ বিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির তথ্য পেয়েছে। ডেট্রয়েট, মায়ামি এবং লস অ্যানজেলেসের ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে চিকিৎসা খাতের দুর্নীতির প্রতিপক্ষ হিসেবে স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানিগুলো দাঁড়িয়ে গেছে। এর প্রেক্ষিতে ওবামা প্রশাসন এফবিআই এবং অন্য দু’টি বিভাগের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট টাস্কফোর্স গঠন করেন। এদের তদন্তে বেরিয়ে আসে ছয় জনের একটি চক্র ১৯ জন ডাক্তার তথ্য ব্যবহার করে ৭০ লাখ ডলার জালিয়াতি করেছেন।
ইরানে ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বেশ দাপটের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ শিরোনাম দখল করে রেখেছিলেন। তবে দেশের ভেতরে ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্বের সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি। সংস্কারপন্থি এবং কট্টরপন্থিদের পক্ষ থেকেই তিনি এ বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। ২০০৯ সাালে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার পর রাজপথের বিক্ষোভকেও তিনি বেশ দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছেন। এ বছর তিনি প্রশাসনের প্রত্যেক শাখা থেকেই নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। বিশেষ করে পার্লামেন্টে নভেম্বরে তাকে অভিশংসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। নিজের নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিবাদেই পার্লামেন্টের সদস্যরা এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর হস্তক্ষেপে পার্লামেন্ট সদস্যরা এ যাত্রা অভিশংসনের হাত থেকে আহমেদিনেজাদকে রেহাই দিলেও আসন্ন বছরগুলোতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পার্লামেন্ট সদস্যদের খুব একটা ভাল সময় যাবে না যে- এর মাধ্যমে সেটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
চিকিৎসা গবেষণায় স্বচ্ছতা
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভাড মেডিকেল স্কুল জুলাইতে একটি নতুন নীতি ঘোষণা করে বলেছে, এখন থেকে এর বিভাগের অর্থনৈতিক আগ্রহের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে হবে। এ নীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্য হচ্ছে- চিকিৎসা গবেষণায় লাভের অংশ সংগ্রহে সহযোগিতা করা। হার্ভাডের এ সিদ্ধান্তে স্বাগত জানিয়েছে আমেরিকার মেডিকেল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন (এএমএসএ)।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর প্রাকৃতিক গ্যাস
বিদেশের তেলের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মোহ ছাড়ার আহ্বান জানানো সেখানকার রাজনীতির অন্যতম একটি প্রধান মন্ত্রে পরিণত হয়েছে। আধুনিক খনন প্রযুক্তি কোমল শিলার ভেতর থেকে তেল বের করার বিশেষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। ওহাইও, পেনসিলভেনিয়া, মিশিগান এবং পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে তেলের জন্য খনন উপযোগী জায়গা রয়েছে। এছাড়া ৩০টির বেশি রাজ্যে কূপ খননের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, সৌদি আরবের সংরক্ষিত তেলের চেয়েও দ্বিগুণ পরিমাণ তেল সম্পদ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মাটির তলায়।
অভিবাসন বিরোধী সংগঠনের উত্থান
মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার বলে স্বীকৃত ইউরোপে অভিবাসন বিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের উত্থান লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরে সুইডেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তেমন কোন অসুবিধা ছাড়াই অভিবাসন বিরোধী সুইডেন ডেমোক্রেটরা পার্লামেন্টের ২০টি আসন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মাধ্যমে দলটি মোট আসনের মাত্র ৬ শতাংশ পেলেও ক্ষমতা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে তাদের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। একই ধরনের রাজনৈতিক দলের অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং ডেনমার্কে। দেশগুলোতে এখন জোট সরকারের কারণে কট্টরপন্থি দলগুলোর কদরও অনেক বেড়ে গেছে। আর তাই তারাও অভিবাসন বিরোধী নানা আইনসহ তৎপরতার পক্ষে কাজ করছেন।
সুদানে আবারও যুদ্ধ
সুদানে সরকারি বাহিনী এবং জঙ্গিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেয়া হলেও দারফুরে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। গত দুই বছরের মধ্যে মে মাসে সেখানে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষের ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। ওই সংঘর্ষে মোট ৪০০ জন নিহত হয়েছে। সেখানকার নানা সমস্যাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তাই জানুয়ারি নাগাদ আবারও সেখানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানুয়ারিতে দক্ষিণ সুদানে খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকাতে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৫৬ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে দক্ষিণ সুদানের স্বায়ত্ত শাসনের দাবি তোলা হচ্ছে। কিন্তু ওই এলাকাতে সুদানের ৮০ ভাগ খনিজ তেলের মজুত থাকায় খার্তুম তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
ওয়াল স্ট্রিটে পিছুটান নয়
শেয়ার বাজারে সাময়িক দুরবস্থা দেখা দিলেও মার্কিন শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিটের বড় বড় রথী-মহারথী বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কেউই সেখান থেকে পিছু হটে যাননি। অনেকে কেবল নিজেদের অবস্থান বদল করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে দেখা গেছে বিখ্যাত বীমা কোম্পানি এআইজি টম্স রুশোকে তাদের জেনারেল কাউন্সেল হিসেবে নিয়োগ করেছে। রুশো এর আগে লেহমান ব্রাদার্সে দীর্ঘ ১৫ বছর প্রধান লিগাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। ওই কোম্পানিতে তার দায়িত্ব পালনকালে তিনি ২০০৮ সালের বিপর্যয় ঠেকাতে পারেননি। রুশোর এ নিয়োগ আগের বছরগুলোর ধারাকেই পুনরাবৃত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এর আগের বছর যুক্তরাষ্ট্রে গোল্ড সাচেস এর বিক্রয় ও বাণিজ্য বিভাগের প্রধান টম মন্টাগকে ব্যাঙ্ক অব আমেরিকার গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। লেহমান ব্রাদার্সের সাবেক প্রধান নির্বাহী ডিক ফুল্ড গত বছর বুটিক বিনিয়োগ সংস্থা ম্যাট্রিক্স এডভাইজার্সে যোগ দিয়েছেন। গত মে মাসে তিনি বিনিয়োগ সংস্থা লেজেন্ড সিকিউরিজেও একজন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এখন তিনি সরকারি এযারলাইন্সের বদলে বিলাসবহুল বেসরকারি এয়ার লাইন্সে যাতায়াত করেছেন বলে বিভিন্ন মহলে সুবিদিত রয়েছে। মানবজমিন
সর্বশেষ সংবাদ
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের