Saturday, 27 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

ট্রাম্পের অভিবাসী নীতি : নিউইয়র্কে হিজাবধারী বাংলাদেশী-আমেরিকান সহকারী স্কুল শিক্ষিকা শিরিন বর্ণবাদী বিদ্বেষের শিকার

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 58 বার

প্রকাশিত: February 6, 2017 | 1:42 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে হিজাবধারী বাংলাদেশী-আমেরিকান সহকারী স্কুল শিক্ষিকা শিরিন জাহান চাকদার বর্ণবাদীদের বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। স্কুল ছুটির পর বাসায় ফেরার পথে এক সাদা লোক তার হিজাব নিয়ে চরম দু:ব্যবহার করে নিজ দেশে চলে যেতে বলেন তাকে। স্থানীয় সময় ৫ ফেব্রুয়ারী রোববার সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের ২৪০৯ ম্যাকলে এভিনিউর নিজ বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রঙ্কসের পিএস ৭৫ এর সহকারী স্কুল শিক্ষিকা শিরিন জাহান চাকদার অভিযোগ করেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার স্কুল ছুটির পর হেঁটে বাসায় ফেরার পথে প্রায় পৌনে তিনটায় তাকে গতিরোধ করে তার বাসার অদূরে ব্রঙ্কসের জেরিগা-ম্যাকলি এভিনিউ এলাকায় এক সাদা লোক তার হিজাব নিয়ে চরম দু:ব্যবহার করেন। প্রাইভেট কারে থাকা ওই লোকটি তাকে অতিক্রম কালে হঠাৎ তার সামনে গাড়ি থামিয়ে বর্ণ বিদ্বেষি আচরণ করেন। তাকে বলেন, ’তোর মাথায় হিজাব কেন?’ ’তোরা তোদের দেশে চলে যা’। প্রায় ১০ মিনিটি অহেতুক তার সাথে বর্ণ বিদ্বেষমূলক আচরণ শেষে দ্ষ্কূৃতকারী লোকটি স্থান ত্যাগ করেন। তিনি জানান, আচমকা এ ঘটনায় তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। বিনা কারণে কেন ওই লোকটি এমন খারাপ আচরণ করলেন তার কোন উত্তর খুঁজে পাননি তিনি। মাসনসিকভাবে বির্যস্থ হয়ে বাসায় গিয়ে কান্নাকাটি করেন। আত্মীয়-স্বজনসহ নিজ কমিউনিটির লোকজনদের বিষয়টি জানান তিনি। সংবাদ পেয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেকেই ছুটে যান তাকে দেখতে।
ঘটনাটি তিনি রোববার পুলিশকেও জানিয়েছেন বলে জানান। শনি ও রবিবার স্কুল বন্ধ থাকায় তিনি বিষয়টি সোমবার স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান। ভিকটিম শিরিন জাহান চাকদার পরিবার পরিজন নিয়ে ব্রঙ্কসের জেরিগা ম্যাকলি এভিনিউ এলাকায় বসবাস করছেন। তার স্বামী মো. ফয়সাল হোটেলে কাজ করেন এবং ক্যাব চালক। তাদের দুই ছেলে রয়েছে। তার দেশের বাড়ি সিলেটের হবিগঞ্জ এলাকায়। তিনি ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। এবারই প্রথম এমনধরণের ঘটনার শিকার হলেন বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সহকারী স্কুল শিক্ষিকা শিরিন জাহান চাকদার ছাড়াও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট আইনজীবী বাংলাদেশ-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ডের ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান মূলধারার রাজনীতিক মোহাম্মদ এন মজুমদার মাস্টার অব ল, নিউইয়র্ক এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ এর এসেম্বলীম্যান লুইস সেপুলভেদার বিশেষ সহকারী তানিয়া ক্যারিঅন, নারী নেত্রী মাজেদা উদ্দিন, ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার মঞ্জুর চৌধুরী জগলুল, ওয়েস্টচেস্টার স্কয়ার সিভিক এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট লুইস রোক্কো, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সভাপতি এম ইসলাম মামুন সহ বিভিন্ন কমিউনিটির নের্তৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে কমিউনিটি নের্তৃবৃন্দ এ ঘটনাকে হেইট ক্রাইম বলে মন্তব্য করেন। তারা ট্রাম্পের অভিবাসী নীতির ফলে আরো অনেক ঘটনার সাথে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন। তারা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৭টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর নানা চাপের মুখে পড়েছে মুসলিমসহ নিউইয়র্কের প্রবাসী বাঙালিরা। বিদ্বেষমূলক পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কার মত মানসিক চাপ ছাড়াও নানাভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। মুসলিম নারীরা হিজাব পরে রাস্তায় বেড়োতেও শঙ্কা বোধ করছেন। তারা এখন উদ্বিগ্ন বর্ণবাদীদের বিদ্বেষের মুখোমুখি হবার আশঙ্কায়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ট্রাম্পের ইমিগ্রান্ট বিরোধী নির্বাহী আদেশ বাতিলের দাবি জানান হয়। তারা বলেন, ইমিগ্রান্ট কান্ট্রি আমেরিকা আইনের দেশ। এখানে সবার সমানাধিকার। প্র্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা খুশি তা করতে পারেন না। আমেরিকার সংবিধান তাকে সে ক্ষমতা দেয়নি।
জানা যায়, এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে তিব্র ক্ষোভ ও ভীতির সঞ্চার হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, নিউইয়র্কে হেইট ক্রাইম আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে বেশি। বর্ণবৈষম্যমূলক হামলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন কমিউনিটি নের্তৃবৃন্দ।
এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশীরা বড় ধরনের বিক্ষোভ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ এন মজুমদার।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV