ড. ইউনূস ১০ বছরের ক্ষমতা চেয়েছিলেন:প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাবে তিনি এই শর্ত দেন
পীর হাবিবুর রহমান: নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১০ বছরের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা চেয়েছিলেন। ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব নিয়ে গেলে ইউনূস বলেছিলেন, তিনি রাজি তবে শর্ত হলো তাকে ১০ বছরের জন্য সরকারপ্রধান থাকার গ্যারান্টি দিতে হবে। ইউনূসের কাছে প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন সেই সময়ের প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা লে. জে. মাসুদউদ্দিন চৌধুরী। জবাবে জেনারেল মাসুদ বলেছিলেন, স্যার, আমরা অনেকেই দুই-তিন বছরের মধ্যে অবসরে চলে যাব। যেখানে আমাদেরই গ্যারান্টি নেই সেখানে আপনাকে ১০ বছরের গ্যারান্টি কীভাবে দেই। দিতে হলে দুই-তিন বছরের জন্য দিতে পারি, ১০ বছরের গ্যারান্টি দিতে পারি না। ড. ইউনূস মাসুদকে বলেছিলেন ১০ বছর ক্ষমতা পেলে তিনি সবকিছু ঢেলে সাজাতে পারবেন। না হয় সম্ভব নয়। ইউনূস বলেন, দয়া করে আপনার বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করুন, চিন্তা করুন এবং আমাকে জানান। তবে মনে রাখবেন কম সময়ের জন্য দায়িত্ব নিতে আমি রাজি নই। এই মুহূর্তে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ থেকে অপসারণ, উচ্চ আদালতে রিট করে হেরে গিয়ে বহুল আলোচিত ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তৎকালীন ওয়ান-ইলেভেন নায়কদের একজন জেনারেল মাসুদের কথোপকথনের তথ্যটি ই-মেইলে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে মানুষের কৌতূহল বাড়ছে। ওয়ান-ইলেভেনের পর যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে সামরিক বাহিনীর একটি কর্মশালায় বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকদের একজনের কাছে নাকি জে. মাসুদ এ বিষয়ে আলোকপাত করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউজ এজেন্সি এনা এ সংবাদের কিছুটা পরিবেশন করলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে কথা বলতে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার জেনারেল মসুদকে ফোন করলেও পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ায় তখন মধ্যরাত। গভীর ঘুমে ছিলেন মাসুদ। টেলিফোন অ্যানসারিং মেশিনে পাওয়া যাচ্ছিল তার কণ্ঠস্বর। তবে ওয়ান-ইলেভেনে তৎকালীন তিন বাহিনীর প্রধান ও নবম ডিভিশনের জিওসি জেনারেল মাসুদের সঙ্গে বঙ্গভবনে যাওয়া আরেক চৌকস সেনা কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পদত্যাগ, দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও জাতির উদ্দেশে ইয়াজউদ্দিনের ভাষণ চূড়ান্তের পর সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ সেনানিবাসে চলে যান। যাওয়ার আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে তাদের ফার্স্ট চয়েজ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে টেলিফোন করেন। তিনি অভিনন্দন জানিয়ে জেনারেল মাসুদ তার বাসভবনে যাচ্ছেন এই বার্তা দেন। পরে জেনারেল মাসুদ সহকর্মী কর্মকর্তাদের নিয়ে ড. ইউনূসের কাছে গিয়ে দেশের এই সংকটকালীন মুহূর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হওয়ার প্রস্তাব দেন। ইউনূসকে তখন উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। পরনে ছিল গ্রামীণ চেক ফতুয়া, ট্রাউজার ও স্লিপার। তিনি মেহমানদের মিষ্টি ও ফলমূল দিয়ে আপ্যায়ন করেছিলেন। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অনেক কথা বলেছিলেন। কিছু কিছু স্বপ্ন পূরণের জন্য সময়কে কাজে লাগাতেও পরামর্শ দিয়েছিলেন। একপর্যায়ে ইউনূস কমপক্ষে ১০ বছরের জন্য ক্ষমতা চাইলে জেনারেল মাসুদ ও তার সহকর্মীরা উল্টো বিব্রত অবস্থায় পড়ে যান। তারা তাকে ওই সময়ের পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাল ধরতে বললেও তিনি গোটা দেশের পরিস্থিতি পাল্টে দিতে দীর্ঘ সময় চান। অন্যথায় কম সময়ের শুধু রুটিনওয়ার্কের জন্য হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দীনের দরজায় কড়া নাড়ার পরামর্শ দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তারা সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদকে ফোনে বিস্তারিত জানালে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, এ তো দেখি পাহাড়ের ওপর দাঁড়ানো এক উচ্চাভিলাষী মানুষ! আপনারা ফখরুদ্দীন সাহেবের কাছেই যান। জেনারেল মাসুদ তার সহকর্মীদের নিয়ে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের বাড়িতে যান এবং তাকে রাজি করাতে সক্ষম হন।
এদিকে জানা যায়, ড. ইউনূসের পক্ষে সরকারবিরোধী যে প্রচারণা দেশে দেশে চলছে মিডিয়ায় তার যুক্তিসঙ্গত জবাব দিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সব দেশের দূতাবাসকে সাত পৃষ্ঠার একটি চিঠি দিয়েছেন। বলেছেন, ওইসব দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে হবে। সরকারের অবস্থান এবং ড. ইউনূসের অবৈধভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের দায়িত্বে অব্যাহতভাবে থাকার চেষ্টার বিষয়টি বোঝাতে। বলা হয় সরকার বারবার ইউনূসকে ১১ বছর আগে মেয়াদ পার হওয়ার বিষয়টি সতর্ক করে তাকে সম্মানজনক বিদায়ের প্রস্তাব দিয়ে এলেও তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে একগুয়েমি করে থাকতে গিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন এবং সরকার প্রতিহিংসা নয়, আইনের পথে অগ্রসর হয়।
এদিকে জানা যায়, ড. ইউনূসের পক্ষে সরকারবিরোধী যে প্রচারণা দেশে দেশে চলছে মিডিয়ায় তার যুক্তিসঙ্গত জবাব দিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সব দেশের দূতাবাসকে সাত পৃষ্ঠার একটি চিঠি দিয়েছেন। বলেছেন, ওইসব দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে হবে। সরকারের অবস্থান এবং ড. ইউনূসের অবৈধভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের দায়িত্বে অব্যাহতভাবে থাকার চেষ্টার বিষয়টি বোঝাতে। বলা হয় সরকার বারবার ইউনূসকে ১১ বছর আগে মেয়াদ পার হওয়ার বিষয়টি সতর্ক করে তাকে সম্মানজনক বিদায়ের প্রস্তাব দিয়ে এলেও তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে একগুয়েমি করে থাকতে গিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন এবং সরকার প্রতিহিংসা নয়, আইনের পথে অগ্রসর হয়।
সর্বশেষ সংবাদ
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
